সম্প্রতি ঢাকার বেইলি রোডের অগ্নিকাণ্ডের পর নড়েচড়ে বসেছে সিলেট সিটি করপোরেশন। অগ্নিঝুঁকিপূর্ণ রেস্তোরাঁ, হাসপাতাল, বিপণিবিতান ও কারখানায় অভিযানও শুরু করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। তবে ঝুঁকিতে থাকা ভবন বা প্রতিষ্ঠানের তালিকা নেই কারো কাছে। ফায়ার সার্ভিস কিংবা সিটি করপোরেশন কোনো দপ্তরই এ নিয়ে কাজ করেনি।
দুটি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, শিগগিরই ঝুঁকিপূর্ণ ভবন বা প্রতিষ্ঠান চিহ্নিত করে হালনাগাদ তালিকা করা হবে। এরপর রেস্তোরাঁ, হাসপাতাল, মার্কেট, বিপণিবিতান ও কারখানার তালিকা ধরে অভিযান পরিচালনা করা হবে।
সম্প্রতি অধিদপ্তর থেকে সিলেট ফায়ার সার্ভিসকে দিকনির্দেশনা দেয়া হয়েছে। সেই নির্দেশনার আলোকে মাসব্যাপী অভিযানে নামতে যাচ্ছে ফায়ার সার্ভিস। তবে গতকাল পর্যন্ত কোনো দপ্তরকেই মাঠে নামতে দেখা যায়নি।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সিলেট বিভাগীয় উপপরিচালক মো. মনিরুজ্জামান বলেন, ‘সিলেট নগরীতে রেস্তোরাঁ, কলকারখানাসহ অগ্নিঝুঁকিতে থাকা প্রতিষ্ঠানের তালিকা আমাদের হাতে নেই। তাই এই মুহূর্তে সংখ্যাটা বলা যাচ্ছে না। আমরা চাইলেও অভিযান চালাতে পারি না। তবে সম্মিলিত অভিযান হবে।’
বিস্ফোরক পরিদপ্তর সিলেটের সহকারী বিস্ফোরক পরিদর্শক মো. মোজাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘রেস্তোরাঁ, কলকারখানাসহ অগ্নিঝুঁকিতে থাকা প্রতিষ্ঠানের তালিকা আমরা করি না। কারণ রেস্তোরাঁসহ বিভিন্ন স্থানে বিদ্যুৎ অথবা গ্যাস সিলিন্ডারজনিত কারণে দুর্ঘটনা ঘটে। আর ভোক্তা পর্যায়ে সিলিন্ডার ব্যবহারকারীদের বিরুদ্ধে আমাদের কাজ নেই। তবে যদি কোনো রেস্তোরাঁ বা প্রতিষ্ঠান ১০টার বেশি সিলিন্ডার মজুদ করে তাহলে তাদের বিরুদ্ধে আমরা ব্যবস্থা নিতে পারি।’
সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের কাছেও অগ্নিঝুঁকিতে থাকা ভবনের তালিকা নেই। ফায়ার সার্ভিস বা সিটি করপোরেশনের কেউ যদি অভিযান পরিচালনা করে, পুলিশের পক্ষ থেকে সহযোগিতা করা হবে।’
এ বিষয়ে সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ইফতেখার আহমদ চৌধুরী জানান, অগ্নিঝুঁকিতে থাকা ভবনের তালিকা তাদের হাতে নেই। সতর্কতা অবলম্বনে গত মঙ্গলবার মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো একটি চিঠি পেয়েছেন তিনি। অগ্নিঝুঁকি থেকে সুরক্ষা পেতে মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা সবাইকে জানানো হবে।










