সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) ফুটপাত দখল করে ব্যবসা করা হকারদের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। বিভিন্ন সময় তাদের পুনর্বাসনের উদ্যোগ নিলেও পরবর্তী সময়ে ভেস্তে যাচ্ছে। তৎকালীন সিটি মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী হকারদের বিরুদ্ধে কঠোর হলেও নিয়ন্ত্রণে সফলতা পাননি। নগর ভবনের পেছনে লালদীঘিরপাড় হকার মার্কেটকে ‘হলিডে মার্কেট’ করে দিয়েও সেখানে বসাতে পারেননি হকারদের। অবশ্য এবার নগরবাসীর গলার কাঁটা সরাতে বর্তমান মেয়র আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী উদ্যোগ নিয়েছেন। লালদীঘিরপাড় হকার মার্কেটটিকে আরো আধুনিকায়ন করে হকারদের পুনর্বাসন করতে কাজ শুরু করেছেন বলে জানিয়েছেন মেয়র।
নগর ভবন সূত্রে জানা গেছে, প্রয়াত মেয়র বদরউদ্দিন আহমদ কামরান প্রথম হকারদের তালিকা করেন। তখন হকারদের সংখ্যা ছিল ৫০০। মেয়র কামরার হকারদের পুনর্বাসনে নগরীর রেজিস্ট্রি মাঠে অস্থায়ীভাবে বসার সুযোগ করে দিয়েছিলেন। কিন্তু হকাররা সেখানে বসেননি। আরিফুল হক চৌধুরী মেয়র হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর আবারো হকাদের নিয়ন্ত্রণ ও পুনবার্সনে উদ্যোগ গ্রহণ করেন। মেয়র আরিফের উদ্যোগে ২০২১ সালে নগরীতে হকারদের তালিকা করা হয়। তখন হকার সংখ্যা দাড়ায় ১ হাজার ৬০০ জনে। ওই সময় আরিফুল হক চৌধুরী লালদীঘিরপাড় হকার মার্কেটের জন্য বরাদ্দ দিয়ে পুনর্বাসনের উদ্যোগ নিয়েছিলেন। নাম দেয়া হয়েছিল ‘হলিডে মার্কেট’। তবে সেখানেও বসাতে পারেননি হকারদের। মাঠ সংস্কার করে না দেয়া এবং ক্রেতা সংকট দেখিয়ে ফের হকাররা ফুটপাতে চলে আসতে শুরু করে। কিছুদিন পরপর অভিযান চালিয়ে পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণ করতে পারলেও মেয়রের পরিবর্তনের সুযোগ নিয়ে পুনরায় নগরীর ফুটপাত দখলে নেন হকাররা। অভিযোগ রয়েছে, পুলিশ ও রাজনৈতিক নেতাদের নিয়মিত চাঁদা দিয়ে ফুটপাতে ব্যবসা করে আসছেন হকাররা। সম্প্রতি ব্যবসায়ীরা হকার উচ্ছেদে নতুন মেয়রকে আলটিমেটাম দিলে নড়েচড়ে বসে নগর ভবন। এর পর পরই হকারদের পুনর্বাসনের বিষয়টি সামনে আসে।
মেয়র আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী রমজান মাসের আগে সিলেট নগরীকে হকারমুক্ত করার ঘোষণা দিয়ে কাজ শুরু করেছেন। ফের তালিকাও করেছেন। এ তালিকায় আরো ৪০০ হকার বেড়েছে। এখন দুই হাজার হকারকে পুনর্বাসন করতে হবে সিলেট সিটি করপোরেশনকে।
সিলেট নগর হকার ঐক্য পরিষদের সভাপতি আব্দুল রকিব বণিক বার্তাকে বলেন, ‘দিন দিন হকার বাড়ছে। কিছু হকার পেশা বদল করেছেন, কেউ বিদেশ চলে গেছেন। তাই আমরা পুরনো তালিকা হালনাগাদ করছি। একই সঙ্গে পূর্বের তালিকার সঙ্গে নতুন আরো ৪০০ হকার যোগ হচ্ছে। লালদীঘিরপাড় হকার মার্কেটে সবার স্থান হয়ে যাবে বলে আমাদের প্রত্যাশা। এর বাইরে আর কোনো হকারকে ফুটপাতে বসতে দেয়া হবে না।’
এ ব্যাপারে মেয়র মো. আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী বণিক বার্তাকে বলেন, ‘রমজানের আগেই নগরীর ভ্রাম্যমাণ হকারদের অস্থায়ী মার্কেটে পুনবার্সন করা হবে। এর আগে একাধিকবার হকারদের পুনর্বাসনে উদ্যোগ নেয়া হলেও কার্যত কোনো কাজে আসেনি। আমি নির্বাচিত প্রতিনিধি হিসেবে এ সমস্যা সমাধানে প্রতিজ্ঞা করেছিলাম। আশা করছি, হকারদের নির্ধারিত স্থানে পুনর্বাসন করে নগরবাসীকে যানজট ও হকারমুক্ত ফুটপাত উপহার দেব।’










