এপ্রিল মাসে দেশে সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে ৬৭২টি। সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ৬৭৯ জন এবং আহত হয়েছেন ৯৩৪ জন। তবে, ঢাকার জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতালসহ অন্যান্য হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী এ সংখ্যা ২ হাজারের বেশি। নিহতের মধ্যে ৯৩ জন নারী এবং ১০৮ জন শিশু রয়েছে।
এর মধ্যে ৩১৬টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ২৫৯ জন। এটি মোট নিহতের ৩৮.১৪ শতাংশ। মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার হার ৪৭ শতাংশ। দুর্ঘটনায় ১১৩ জন পথচারী নিহত হয়েছেন, যা মোট নিহতের ১৬.৬৪ শতাংশ। যানবাহনের চালক ও সহকারী নিহত হয়েছেন ৯৬ জন। যা মোট দুর্ঘটনার ১৪.১৩ শতাংশ।
এই সময়ে ৭টি নৌ দুর্ঘটনায় ৯ জন নিহত ও ৬৮ জন আহত হয়েছেন। ৩৮টি রেল ট্র্যাক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ৪৫ জন এবং ২৪ জন আহত হয়েছেন।
রোড সেফটি ফাউন্ডেশন ৯টি জাতীয় দৈনিক, ৭টি অনলাইন নিউজ পোর্টাল, বিভিন্ন ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া এবং নিজস্ব তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি তৈরি করেছে।
দুর্ঘটনায় যানবাহনভিত্তিক নিহতের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, মোটরসাইকেল চালক ও আরোহী ২৫৯ জন (৩৮.১৪%), বাসের যাত্রী ৩৪ জন (৫%), ট্রাক-পিকআপ-কাভার্ডভ্যান-ট্রাক্টর-ট্রলি-ড্রামট্রাক আরোহী ৬৫ জন (৯.৫৭%), প্রাইভেটকার-মাইক্রোবাস-পাজেরো জীপ আরোহী ৪৫ জন (৬.৬২%), থ্রি-হুইলার যাত্রী (ইজিবাইক-সিএনজি-অটোরিকশা-অটোভ্যান) ১৩১ জন (১৯.২৯%), স্থানীয়ভাবে তৈরি যানবাহনের যাত্রী (নসিমন-ভটভটি-মাহিন্দ্র-পাওয়ারটিলার) ২২ জন (৩.২৪%) এবং বাইসাইকেল-প্যাডেল রিকশা আরোহী ১০ জন (১.৪৭%) নিহত হয়েছেন।
রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণ বলছে, দুর্ঘটনাগুলোর মধ্যে ২৩৫টি (৩৪.৯৭%) জাতীয় মহাসড়কে, ২৬৬টি (৩৯.৫৮%) আঞ্চলিক সড়কে, ৮৭টি (১২.৯৪%) গ্রামীণ সড়কে এবং ৭৯টি (১১.৭৫%) শহরের সড়কে এবং ৫টি (০.৭৪%) অন্যান্য স্থানে সংঘটিত হয়েছে।
দুর্ঘটনাসমূহের ১৭৪টি (২৫.৮৯%) মুখোমুখি সংঘর্ষ, ২৬২টি (৩৯%) নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে, ১২০টি (১৭.৮৫%) পথচারীকে চাপা/ধাক্কা দেয়া, ৯৭টি (১৪.৪৩%) যানবাহনের পেছনে আঘাত করা এবং ১৯টি (২.৮২%) অন্যান্য কারণে ঘটেছে।
দুর্ঘটনায় সম্পৃক্ত যানবাহনের মধ্যে ট্রাক,কাভার্ডভ্যান,পিকআপ,ট্রাক্টর,ট্রলি,লরি,ড্রামট্রাক,তেলবাহী ট্যাঙ্কার,সিটি করপোরেশনের ময়লাবাহী ট্রাক-বুলডোজার-রেডিমিক্স গাড়ি ২৪.৩৪%, মাইক্রোবাস,প্রাইভেটকার,অ্যাম্বুলেন্স,পাজেরো জীপ ৫.৮১%, যাত্রীবাহী বাস ১০.৮৬%, মোটরসাইকেল ২৯.৮২%, থ্রি-হুইলার (ইজিবাইক,সিএনজি,অটোরিকশা,অটোভ্যান,মিশুক,লেগুনা,টেম্পু) ১৯.৪৬%, স্থানীয়ভাবে তৈরি যানবাহন (নসিমন,ভটভটি,আলমসাধু,টমটম,মাহিন্দ্র,চান্দের গাড়ি,পাওয়ারটিলার,ধানকাটা মেশিন গাড়ি) ৫.৩৯%, বাইসাইকেল,রিকশা ২.৩৫% এবং অজ্ঞাত যানবাহন ১.৯৩%।
দুর্ঘটনায় সম্পৃক্ত যানবাহনের সংখ্যা ১,১৮৭টি। (বাস ১২৯, ট্রাক ১৫৭, কাভার্ডভ্যান ১৮, পিকআপ ৪৯, ট্রাক্টর ২০, ট্রলি ১৯, লরি ১১, ড্রাম ট্রাক ৮, তেলবাহী ট্যাঙ্কার ৩, সিটি করপোরেশনের ময়লাবাহী ট্রাক ১, বুলড্রোজার ১, এপিবিএন গাড়ি ১, রেডিমিক্স গাড়ি ১, মাইক্রোবাস ২৩, প্রাইভেটকার ৩৮, অ্যাম্বুলেন্স ৫, পাজেরো জীপ ৩, মোটরসাইকেল ৩৫৪, থ্রি-হুইলার ২৩১ (ইজিবাইক,সিএনজি,অটোরিকশা,অটোভ্যান,মিশুক,লেগুনা,টেম্পু), স্থানীয়ভাবে তৈরি যানবাহন ৬৪ (নসিমন,ভটভটি,আলমসাধু,টমটম,মাহিন্দ্র,চান্দের গাড়ি,পাওয়ারটিলার,ধানকাটা মেশিন গাড়ি), বাইসাইকেল,রিকশা,রিকশাভ্যান ২৮ এবং অজ্ঞাত যানবাহন ২৩টি।
সময় বিশ্লেষণে দেখা যায়, দুর্ঘটনাসমূহ ঘটেছে ভোরে ৫.৩৫%, সকালে ২৪.৮৫%, দুপুরে ২০.৫৩%, বিকালে ১৫%, সন্ধ্যায় ১০.২৬% এবং রাতে ২৩.৯৫%।
দুর্ঘটনার বিভাগওয়ারী পরিসংখ্যান বলছে, ঢাকা বিভাগে দুর্ঘটনা ১৯.০৪%, প্রাণহানি ২৬.১৯%, রাজশাহী বিভাগে দুর্ঘটনা ১৪.৭৩%, প্রাণহানি ১১.৪৫%, চট্টগ্রাম বিভাগে দুর্ঘটনা ১৯.৬৪%, প্রাণহানি ১৭.৪১%, খুলনা বিভাগে দুর্ঘটনা ১৪.২৮%, প্রাণহানি ১১.৬০%, বরিশাল বিভাগে দুর্ঘটনা ৬.৬৯%, প্রাণহানি ৮.৭৭%, সিলেট বিভাগে দুর্ঘটনা ৫.০৫%, প্রাণহানি ৭%, রংপুর বিভাগে দুর্ঘটনা ১০.১১%, প্রাণহানি ১০.২৬% এবং ময়মনসিংহ বিভাগে দুর্ঘটনা ১০.৪১%, প্রাণহানি ৮.৩৩% ঘটেছে।










