রাজধানী ঢাকা শহরকে পরিচ্ছন্ন, সবুজ ও প্রাণবন্ত করে গড়ে তুলতে জলবায়ু কর্মপরিকল্পনা (ক্যাপ) গ্রহণ করেছে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন। যৌথ এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে দুই সিটি করপোরেশনকে একসঙ্গে কাজ করার পরামর্শ দিয়ে ‘‌এক ঢাকা’ নীতির ঘোষণা দিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী সাবের হোসেন চৌধুরী।

গতকাল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে ঢাকার জলবায়ু কর্মপরিকল্পনার উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী। 

মন্ত্রী বলেন, ‘‍পরিচ্ছন্ন, সবুজ ও প্রাণবন্ত ঢাকা গড়তে জলবায়ু কর্মপরিকল্পনা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। ঢাকায় দুটি সিটি করপোরেশন থাকলেও এক ঢাকা হিসেবে এ কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে। দুই কোটি মানুষের নগরীতে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব কমাতে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের এক ঢাকা ঘোষণা সময়োপযোগী।’ 

এ সময় জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় মন্ত্রণালয়গুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো হবে বলেও তিনি জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ঢাবি উপাচার্য প্রফেসর ড. এএসএম মাকসুদ কামাল, ব্রিটিশ হাইকমিশনের ডেপুটি হাইকমিশনার ম্যাট ক্যানেল, সি৪০ শহরের নির্বাহী পরিচালক মার্ক ওয়াটস, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন শেখ ফজলে নূর তাপস এবং ঢাবি ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের ইমেরিটাস অধ্যাপক নজরুল ইসলাম। আরো উপস্থিত ছিলেন গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র জায়েদা খাতুনসহ পরিবেশ বিশেষজ্ঞ, শিক্ষাবিদ এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।

বক্তারা বলেন, ‘বিশ্বের উন্নত দেশগুলোই মূলত কার্বন নিঃসরণের জন্য দায়ী। অথচ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশ। তাই জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবেলা এবং জনস্বাস্থ্য রক্ষায় উন্নত দেশগুলোর বিশাল দায়িত্ব রয়েছে। আর্থিক সহায়তা দিয়ে তাদের সেই দায়িত্ব পালন করতে হবে। বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশে সংঘটিত প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও ক্ষয়ক্ষতির সঠিক চিত্র এবং এ-সংক্রান্ত তথ্য-উপাত্ত গবেষণার মাধ্যমে বিশ্ব দরবারে তুলে ধরতে হবে।’

জলবায়ু কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী ঢাকায় ২০৩০ সালের মধ্যে ১৪ দশমিক ৯ ভাগ, ২০৪০ সালের মধ্যে ৩৩ দশমিক ৮ ভাগ এবং ২০৫০ সালের মধ্যে ৭০ দশমিক ৬ ভাগ কার্বন নিঃসরণ কমানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা অর্জনে নগরবাসীসহ সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা দরকার।