নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের দেয়া অনেক গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ নির্বাচন কমিশন উপেক্ষা করেছে বলে অভিযোগ করেছেন ওই কমিশনের প্রধান ও সুশাসনের জন্য নাগরিকের সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার। তিনি জানান, কিছু সুপারিশ গ্রহণ করলেও মূল বিষয়গুলো আরপিও অধ্যাদেশে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।

আজ বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) সকালে রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) আয়োজিত এক গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন।

ড. বদিউল আলম বলেন, নির্বাচন শেষ হওয়ার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ফলাফল গেজেটে প্রকাশের আগে নির্বাচন সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য হয়েছে কি না, তা সার্টিফাই করে গণবিজ্ঞপ্তি দেয়ার সুপারিশ করা হয়েছিল। তবে এ বিষয়ে আরপিও অধ্যাদেশে কোনো পরিবর্তন আনেনি নির্বাচন কমিশন।

তিনি জানান, নির্বাচনী ব্যয়ের অনিয়ম প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করতে একাধিক আসনের জন্য নির্বাচনী ব্যয় মনিটরিং কমিটি গঠন এবং ব্যয় নজরদারির যে প্রস্তাব ছিল, সে বিষয়েও কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়নি।

তিনি আরো জানান, মনোনয়নপত্রের সঙ্গে ৫ বছরের আয়কর রিটার্ন জমা দেয়ার বিধান করা হলেও আরপিও অনুযায়ী প্রার্থীদের সর্বশেষ কর বছরের আয়কর রিটার্ন জমা দেয়ার শর্ত বহাল রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে একাধিক আসনে একজন ব্যক্তির প্রার্থী হওয়ার বিধান বাতিলের সুপারিশও উপেক্ষিত রয়েছে।

সুজন সম্পাদক বলেন, পরপর দুটি নির্বাচনে অংশ না নিলে রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন বাতিল এবং প্রতি ৫ বছর পরপর নিবন্ধন নবায়ন বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাবও আরপিও অধ্যাদেশে রাখা হয়নি। স্বতন্ত্র প্রার্থীদের ক্ষেত্রে ১ শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষরের পরিবর্তে ৫০০ ভোটারের সম্মতির সুপারিশও গ্রহণ করা হয়নি।

তিনি জানান, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর গঠিত নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশন ১৮টি ক্ষেত্র সংস্কারে অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করেছিল। তবে কমিশনের দেয়া অনেক গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ বাস্তবায়নে উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না।