সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক) নির্বাচনের ভোট আজ। এরই মধ্যে ভোট গ্রহণের সব প্রস্তুতি শেষ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নেয়া হয়েছে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি মোতায়েন করা হয়েছে বিজিবি সদস্যদেরও। ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) সকাল ৮টায় ভোট শুরু হয়ে চলবে একটানা বিকাল ৪টা পর্যন্ত। ক্লোজড সার্কিট (সিসিটিভি) ক্যামেরার মাধ্যমে পর্যবেক্ষণ করা হবে পুরো নির্বাচন। তবে সব ছাপিয়ে আলোচনায় এখন বৃষ্টি। আবহাওয়া অফিসও বলছে, ভারি বৃষ্টিতে ভিজতে পারে সিলেটের ভোট। কয়দিনের টানা বর্ষণে এরই মধ্যে বেশ কয়টি কেন্দ্রে পানি উঠে গেছে।  

ভোটের আগের ও পরের দিন বিভিন্ন ধরনের যানবাহন চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। নির্দেশনা অনুযায়ী, সোমবার মধ্যরাত থেকে বৃহস্পতিবার মধ্যরাত পর্যন্ত সিটি করপোরেশন এলাকায় কোনো মোটরসাইকেল চলাচল করতে পারবে না। এছাড়া মঙ্গলবার মধ্যরাত থেকে বুধবার মধ্যরাত পর্যন্ত ট্রাক, বাস, মিনিবাস, মাইক্রোবাস, জিপ, পিকআপ, প্রাইভেটকার ও ইজিবাইক চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে। তবে অনুমতি সাপেক্ষে প্রার্থী ও তাদের নির্বাচনী এজেন্ট, দেশী-বিদেশী পর্যটকের ক্ষেত্রে ওই আইন শিথিল করা হয়েছে। এর বাইরে জরুরি সেবাকাজের সঙ্গে যুক্ত যেমন—অ্যাম্বুলেন্স, ফায়ার সার্ভিস, বিদ্যুৎ, গ্যাস, ডাক ও টেলিযোগাযোগকাজে ব্যবহৃত যানবাহনের ক্ষেত্রে ওই নিষেধাজ্ঞা প্রযোজ্য হবে না বলে নির্বাচন কমিশনের প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।

নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, সিসিক নির্বাচনে মোট প্রার্থী ৩৬৭ জন। এর মধ্যে মেয়র পদে লড়ছেন আট প্রার্থী। তারা হলেন আওয়ামী লীগের আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী (নৌকা), জাতীয় পার্টির নজরুল ইসলাম বাবুল (লাঙ্গল), ইসলামী আন্দোলনের মাহমুদুল হাসান (হাতপাখা), জাকের পার্টির মো. জহিরুল আলম (গোলাপ ফুল), স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. শাহ জাহান মিয়া (বাস), মো. ছালাহ উদ্দিন রিমন (ক্রিকেট ব্যাট) ও মোশতাক আহমেদ রউফ মোস্তফা (হরিণ)। তবে আগেই নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিয়ে রেখেছেন হাতপাখার প্রার্থী মাহমুদুল হাসান। এছাড়া নগরীর ৫৬টি ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে লড়ছেন ৩৬০ জন। তবে অস্ত্রের মহড়া দেয়ার অভিযোগে ৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আফতাব হোসেন খানের প্রার্থিতা বাতিল করেছে কমিশন। 

৭৯ দশমিক ৫০ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এ মহানগরীতে ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৮৭ হাজার ৭৫৩। এর মধ্যে পুরুষ ২ লাখ ৫৪ হাজার ৩৬৩, নারী ২ লাখ ৩৩ হাজার ৩৮৪ ও তৃতীয় লিঙ্গ বা হিজড়া ভোটর রয়েছেন ছয়জন। 

নগরীর ১৯০টি কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ হবে। এ নির্বাচনে ১৩২ কেন্দ্রকেই ঝুঁকিপূর্ণ বা গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করা হয়েছে। সিলেটের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ইমরুল হাসান জানান, নগরীর ৪২ ওয়ার্ডে সোমবার রাত ১২টা থেকে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের ৪২টি টিম, পাশাপাশি নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের ১০টি টিম রয়েছে। প্রতিটি টিমের সঙ্গে রয়েছে এক প্লাটুন বিজিবি। এছাড়া সবক’টি কেন্দ্র সিসি ক্যামেরার আওতায় রয়েছে। 

নির্বাচনে কোনো বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন সিলেট মহানগর পুলিশের কমিশনার মো. ইলিয়াস শরিফ। সুষ্ঠু ও নিরবচ্ছিন্ন নির্বাচন করতে নগরীতে প্রায় ২ হাজার ৬০০ পুলিশ সদস্য কাজ করছেন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘নির্বাচনের নিরাপত্তা নিশ্চিতে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে একজন পুলিশ পরিদর্শক, একজন উপপুলিশ পরিদর্শক ও পাঁচজন পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। কম ঝুঁকিপূর্ণ ওয়ার্ডে একজন পুলিশ পরিদর্শক, একজন উপপুলিশ পরিদর্শক ও চারজন পুলিশ সদস্য থাকবেন। পাশাপাশি সব কেন্দ্রে মোট ১৪ জন আনসার সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন।’

পুলিশের কমিশনার আরো জানান, নির্বাচন উপলক্ষে প্রতিটি সাধারণ ওয়ার্ডে একটি করে পুলিশের ৪২টি মোবাইল টিম, প্রতি তিনটি সাধারণ ওয়ার্ডে একটি করে ১৪টি স্ট্রাইকিং টিম ও প্রতি থানায় একটি করে ছয়টি রিজার্ভ স্ট্রাইকিং টিম থাকবে। পাশাপাশি থাকবে দুটি ওয়ার্ডে একটি করে র‌্যাবের মোট ২২টি ও পাঁচটি ওয়ার্ডে এক প্লাটুন করে মোট ১০ প্লাটুন বিজিবির টহল। এ সময় পুলিশ কমিশনার নির্বিঘ্নে ভোটদানের জন্য ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানান।

এদিকে টানা বৃষ্টির কারণে পাঁচ-ছয়টি কেন্দ্রে সোমবার পানি ঢুকে পড়ে। কয়েকটি ভোট কেন্দ্রের মাঠে জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। বৃষ্টি অব্যাহত থাকায় আরো কয়েকটি কেন্দ্র তলিয়ে যাওয়ার শঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। সিলেট আবহাওয়া অফিসের আবহাওয়াবিদ সজিব হোসেন বলেন, ‘বুধবারও সকাল থেকে বৃষ্টিপাত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।’ 

এ বিষয়ে সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা ফয়সল কাদের জানান, সিলেটে টানা পাঁচ-ছয়দিন ধরে বৃষ্টি হচ্ছে। এতে কয়েকটি কেন্দ্রের মাঠে পানি উঠেছে। তবে কোনো কেন্দ্রের ভেতরে পানি প্রবেশের খবর পাওয়া যায়নি। তিনি বলেন, ‘যেসব কেন্দ্রের মাঠে পানি প্রবেশ করেছে সেখানে বালি ফেলে ভোটারদের দাঁড়ানোর উপযোগী করতে সিটি করপোরেশনকে বলেছি। তারা এ বিষয়ে কাজ করছে। এছাড়া আমাদের নির্বাচনী প্রস্তুতি প্রায় শেষ। এখন কেবল ভোট গ্রহণ।’