পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেছেন, ‘প্রান্তিক জনগণের মানবাধিকার রক্ষায়, জলবায়ু পরিবর্তনে, নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার বিশেষ নজর দিয়ে কাজ করে যাচ্ছে।’
তিনি বলেন, ‘মানবাধিকার বিষয়গুলো জনগণের অধিকার। সকল প্রকার জনগণের অন্তর্ভুক্তি নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকার কাজ করে যাচ্ছে। এনজিওর স্বচ্ছতা দেখার আগে সরকারকে স্বচ্ছ হতে হবে। ক্ষুদ্র স্বার্থ ব্যতিরেকে জনগণের বৃহত্তর স্বার্থে একত্রে কাজ করতে হবে। জনগণকে সরকারের গঠনমূলক সমালোচনা করতে হবে।’
রোববার (১৫ ডিসেম্বর) সকালে এনজিও অ্যাফেয়ার্স ব্যুরো বাংলাদেশের অডিটোরিয়ামে মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন (এমজেএফ) আয়োজিত আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবস পালনে ‘আওয়ার রাইটস, আওয়ার ফিউচার, রাইট নাও’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
পার্বত্য চট্টগ্রামে আদিবাসী জনগোষ্ঠীদের নিয়ে আলাদা আইনি প্রক্রিয়া আছে। আঞ্চলিক ভাবে কাজ আরো বাড়াতে হবে। স্থানীয় যারা আছেন তাদের নিজেদের আওয়াজ তুলতে হবে বলে মন্তব্য করেন বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিস ট্রাস্টের নির্বাহী পরিচালক এবং মানবাধিকার ফোরামের সদস্য ব্যারিস্টার সারা হোসেন। তিনি বলেন, ‘প্রতিবন্ধী আইন নিয়ে কাজ করা হচ্ছে এবং বিচার বিভাগকে আরো সক্রিয় হতে হবে। যারা আইন নিয়ে কাজ করছে তাদের আইন বাস্তবায়ন করতে হবে।’
শ্বেতপত্র কমিশনের সদস্য ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক শারমিন্দ নিলোর্মী বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবের ফলে নারীরা আরো বৈষম্যের শিকার হচ্ছে। সেক্ষেত্রে প্রান্তিক জনগণের মানবাধিকার রক্ষার মাধ্যমে প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, আদিবাসী জনগোষ্ঠী, উপকূলীয় অঞ্চলে বসবাসরত মানুষের অধিকার রক্ষা সম্ভব। এক্ষেত্রে জনগণকে আরো সজাগ থাকতে ও জোর দাবি তুলতে হবে।’
এনজিও অ্যাফেয়ার্স ব্যুরো বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘গণতন্ত্র রক্ষার জন্য আইনের সঠিক প্রয়োগ করতে হবে। আইনের সঠিক প্রয়োগের মাধ্যমে দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অধিকার সংরক্ষিত হবে। এনজিও ব্যুরোর কাজ হচ্ছে এনজিওদের সহযোগিতা করা, নিয়ন্ত্রণ করা নয়।’
বাংলাদেশে সুইডেনের রাষ্ট্রদূত নিকোলাস উইকস বলেন, ‘মানবাধিকার সনদের ধারাগুলো সমুন্নত রাখার জন্য আমি এবং আমার সরকার কাজ করছে এবং আমরা বিশ্বাস করি মানবাধিকার সনদ বাস্তবায়নের মাধ্যমে সকল প্রকার প্রান্তিক জনগণের অধিকার নিশিচত করা সম্ভব এবং এর মাধ্যমেই একটি সমতার সমাজ প্রতিষ্ঠা করা যেতে পারে।’
বাংলাদেশে সুইজারল্যান্ড দূতাবাসের উপরাষ্ট্রদূত করিন হেনচয পিগনানি বলেন, ‘অধিকার নিয়ে এখনই আওয়াজ তুলতে হবে। ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে সকলকে নিজের অধিকার আদায়ে নির্ভয়ে আওয়াজ তুলতে হবে। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা ৫ এবং ১৬ নিয়ে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।’
সভাপ্রধানের বক্তব্যে এমজেএফের নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম বলেন, ‘একটা মানুষ জন্মের পর থেকেই মানবাধিকার নিয়ে বড় হয়। মানবাধিকার মানুষের নিজস্ব, এটি কেউ দিতেও পারে না, নিতেও পারে না, ভাগও করা যায় না। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের পুরোটা সময়জুড়ে মানবাধিকার লঙ্ঘন হয়েছে। নির্বিচারে সাধারণ ছাত্র-জনতাকে হত্যা করা হয়েছে। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে পাওয়া নতুন বাংলাদেশে যেন আর কারো মানবাধিকার লঙ্ঘন না হয়, সবার মানবাধিকার নিশ্চিত করতে হবে। মানবাধিকার লঙ্ঘন চুপচাপ সহ্য করা যাবে না, ভিন্নমত গ্রহণ করার মানসিকতা সবার থাকতে হবে।’
অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী তিন শতাধিক উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধি, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, আদিবাসী, ট্রান্সজেন্ডার, দলিত, উপকূলীয় অঞ্চলের প্রতিনিধি এবং তরুণ সমাজ মানবাধিকার সনদ বাস্তবায়নে বিভিন্ন সুপারিশমালা প্রস্তাব করে। যা পরবর্তীতে এমজেএফ সংকলিতভাবে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে উপস্থাপন করবে। —বিজ্ঞপ্তি










