তাই এবারে সব ঘরমুখো মানুষের ঈদযাত্রা স্বস্তিদায়ক হবে। গতকাল দুপুর ১২টায় বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলায় গোমা সেতুর উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।
সেতু উদ্বোধন অনুষ্ঠানে রেলপথ ও সড়ক পরিবহন প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশীদ, স্থানীয় সংসদ সদস্য আবুল হোসেন খানসহ স্থানীয় প্রশাসন ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
মন্ত্রী বলেন, ‘ঈদকে ঘিরে দুই থেকে তিনদিনের মধ্যে প্রায় দেড় কোটি মানুষ ঢাকা ছাড়ছেন। তাদের যাত্রা স্বস্তিদায়ক করা বেশ চ্যালেঞ্জিং। তবে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে যে প্রস্তুতি আমরা নিয়েছি, তাতে যাত্রীরা স্বাচ্ছন্দ্যে ও আরামদায়কভাবে স্বজনদের কাছে যাবে।’
তিনি বলেন, ‘ঈদযাত্রায় মহাসড়কে যানজট হতে পারে এমন ২০৭টি স্পটসহ প্রতিটি হাইওয়ে ও ব্রিজে মনিটরিং করা হচ্ছে। তাই এখন পর্যন্ত কোনো জায়গায় যানজট হচ্ছে না এবং এটা একটা সুসংবাদ। কয়েকটি জায়গায় গতি ধীর হলেও গাড়ি পার হয়ে যাচ্ছে। আশা করছি ঈদযাত্রা স্বস্তির হবে, নিরাপদ হবে এবং মানুষ মনে আনন্দ নিয়ে ঘরে ফিরবে।’
গোমা সেতু সম্পর্কে মন্ত্রী বলেন, প্রায় ২৮৩ মিটার দীর্ঘ এ সেতু এ অঞ্চলের মানুষের জন্য যুগান্তকারী ভূমিকা রাখবে।
মন্ত্রী জানান, দেশে প্রায় সাড়ে ৭ হাজার কিলোমিটার নৌপথ নিয়মিত ড্রেজিং করে সচল রাখা হচ্ছে। বর্তমানে ১২০০ কিলোমিটার নৌপথে খননকাজ চলমান রয়েছে। ভবিষ্যতে আরো সাড়ে ৪ হাজার মিটার নৌপথ উন্নয়নের পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। ঢাকা সদরঘাট থেকে বরিশাল নদীবন্দর পর্যন্ত নির্বিঘ্নে জাহাজ চলাচলের প্রস্তুতি রয়েছে।
উল্লেখ্য, বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার রাঙ্গামাটিয়া নদীর ওপর গোমা সেতুর নির্মাণকাজ শুরু হয় ২০১৮ সালে। বিভিন্ন জটিলতার কারণে নির্মাণকাজ বিলম্বিত হয়। এর মধ্যে সেতুর উচ্চতা নিয়ে জটিলতা ছিল অন্যতম, যা নিয়ে বিআইডব্লিউটিএ আপত্তি জানায়। শেষ পর্যন্ত প্রায় ৭৫ কোটি টাকা ব্যয়ে বাকেরগঞ্জবাসীর স্বপ্নের গোমা সেতুর উদ্বোধন করা হলো।
এর আগে গতকাল সকাল ৯টার দিকে পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার হরিদেবপুর এলাকায় রাবনাবাদ নদীর ওপর সেতু নির্মাণ কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন শেষে রবিউল আলম বলেছেন, ‘ঈদে মানুষের যাতায়াত নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন করতে সরকার এরই মধ্যে পাবলিক পরিবহনে জ্বালানি তেলের সরবরাহ নিশ্চিত করেছে। জ্বালানি সংকট নিরসনে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে এবং পর্যায়ক্রমে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সংশ্লিষ্টরা তৎপর রয়েছে।’
সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘রাবনাবাদ নদীর ওপর এ সেতু নির্মিত হলে এ অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ হবে। একটি জনবান্ধব সরকারের দায়িত্ব হলো জনগণের চাহিদার প্রতি সাড়া দেয়া, আর এ প্রকল্প তারই বাস্তব প্রতিফলন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সেতুর নির্মাণকাজ সম্পন্ন হবে।’
তিনি আরো বলেন, ‘এ সেতু চালু হলে এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত হবে। এর মাধ্যমে অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।’
এ সময় সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশীদ, স্থানীয় সংসদ সদস্য ও প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুরসহ স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিএনপি ও গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
জানা গেছে, নির্মাণাধীন সেতুটির দৈর্ঘ্য ৮৮২ দশমিক ৮১ মিটার এবং প্রস্থ ১০ দশমিক ২৫ মিটার। প্রকল্পটির নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে ১৬৪ কোটি ৪ লাখ ৮২ হাজার ১৫৮ টাকা। আগামী ২০২৭ সালের ডিসেম্বরে সেতুর নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।










