দেশের প্রতিটি অঞ্চলের নাগরিকের কাছে সহজলভ্য ও মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান। তিনি বলেছেন, দেশের ৯০ হাজারের বেশি গ্রামের প্রতিটি নাগরিকের জন্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা হবে।

আজ রোববার রাজধানীর নভোথিয়েটারে আয়োজিত ‘স্বাস্থ্য উদ্ভাবন সবার জন্য’ শীর্ষক সেমিনারে দেয়া বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসার জন্য যেন দূর-দূরান্তে যেতে না হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে। একইভাবে হামে আক্রান্ত শিশুদের অভিভাবকেরাও যেন বাড়ির কাছেই প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা পান, সেই ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। তিনি ডেঙ্গু প্রতিরোধ কার্যক্রম জোরদার এবং হাম প্রতিরোধে টিকাদান কর্মসূচিতে সবাইকে সম্পৃক্ত করার আহ্বান জানান।

বাংলাদেশে অসংক্রামক ব্যাধি ও মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ হৃদরোগ উল্লেখ করে জুবাইদা রহমান বলেন, উন্নত চিকিৎসার পাশাপাশি স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা জোরদার করা গেলে এ পরিস্থিতির পরিবর্তন সম্ভব। তিনি ক্যান্সার সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়াতে কর্মসূচি আরো বিস্তৃত করা যেতে পারে।

ডায়াবেটিস প্রতিরোধ ও চিকিৎসায় বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক মানের প্রতিষ্ঠান ও বিশেষজ্ঞ থাকার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এরপরও দেশের অনেক মানুষ নিজেদের ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হওয়ার বিষয়টি না জেনেই জীবনযাপন করছেন।

গর্ভাবস্থার শেষ দিকে কিংবা প্রি-এক্ল্যাম্পশিয়ার মতো জটিলতার ক্ষেত্রে অনেক নারী পর্যাপ্ত পরিবহন সুবিধার অভাবে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে চিকিৎসা নিতে বাধ্য হন বলে উল্লেখ করে জুবাইদা রহমান বলেন, সময়ের আগে জন্ম নেয়া নবজাতকদের বেঁচে থাকার জন্য প্রয়োজনীয় সুবিধাও পর্যাপ্ত নয়। কমিউনিটি ও প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র থেকে জেলা ও বিশেষায়িত হাসপাতালে রোগী স্থানান্তরের ব্যবস্থা আরো সহজ করতে হবে।

স্বাস্থ্য খাতের পরিবর্তনে উদ্ভাবনকে প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে উল্লেখ করে জুবাইদা রহমান বলেন, উদ্ভাবন বলতে শুধু ব্যয়বহুল যন্ত্র আবিষ্কার কিংবা নতুন নতুন অ্যাপ তৈরি বোঝায় না। মানুষের বাস্তব সমস্যার সমাধান করতে পারে-এমন উদ্ভাবনই সবচেয়ে মূল্যবান। তিনি বলেন, বাংলাদেশের অনেক প্রতিষ্ঠান এই পরিবর্তন বাস্তবে রূপ দিতে সক্ষম। দেশে সম্মানিত গবেষক, শক্তিশালী ওষুধশিল্প, অভিজ্ঞ চিকিৎসক, ক্রমবর্ধমান ডিজিটাল সক্ষমতা, মাঠপর্যায়ের সংস্থা এবং উদ্যমী তরুণ সমাজ রয়েছে। তবে এসব সক্ষমতার মধ্যে সমন্বয়ের ঘাটতি রয়েছে বলে তিনি মনে করেন।

জুবাইদা রহমান বলেন, গবেষণাকে যাচাইয়ের সঙ্গে, যাচাইকে নিয়মনীতির সঙ্গে, নিয়মনীতিকে দায়িত্বশীল ক্রয়ের সঙ্গে এবং উদ্ভাবনকে সেবা প্রদানের সঙ্গে যুক্ত করতে হবে। স্বাস্থ্যব্যবস্থার প্রতিটি অংশকে রোগীর প্রয়োজন ও অধিকারের সঙ্গে যুক্ত থাকতে হবে।