সিলেট সিটি করপোরেশনের বর্ধিত ওয়ার্ড ৩৬ নম্বর। পাহাড়-টিলাবেষ্টিত এ ওয়ার্ডে নতুন আবাসনের চাহিদা বেড়েছে। আবাসিক এলাকা হিসেবে গুরুত্ব বাড়ায় জমি ক্রয়-বিক্রয়ও বেড়েছে। নির্মাণ হচ্ছে নতুন বাড়িঘর। তবে ওয়ার্ডের বালুচর জোনাকি আবাসিক এলাকায় পাহাড় কেটে নির্মাণ করা হচ্ছে আবাসন। অভিযোগ রয়েছে, প্রথমে পাহাড়ি টিলার ওপর ঘর তৈরি করে সেখানে শ্রমিকদের পরিবারকে থাকতে দেয়া হয়। শ্রমিকরা দিনে অন্য কাজ করেন, রাতে টিলা কাটেন। বর্ষাকালে টিলা খুঁড়ে মাটি আলগা করে রাখেন। বৃষ্টি হলে টিলার মাটি ধসে পড়ে। তবে টিলা কাটার সঙ্গে জড়িতদের বিষয়ে এলাকার কেউ মুখ খুলতে রাজি নন।
নাম অপ্রকাশিত রাখার শর্তে স্থানীয় এক ব্যক্তি জানান, এখানে টিলা কাটার ফলে নেমে আসা বালিতে রাস্তা বন্ধ হয়ে যায়। বালিতে ড্রেনগুলো ভরাট হয়ে পানি চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। রাস্তায় বালির স্তূপ, তার ওপর দিয়ে পানি গড়িয়ে যাচ্ছে। ফলে রাস্তা দিয়ে চলাচলে ভোগান্তি পোহাতে হয়। প্রভাবশালীদের ভয়ে সাধারণ মানুষ কথা বলতে পারে না। পরিবেশের ক্ষতির পাশাপাশি দুর্ভোগ নিয়েই চলাচল করতে হয়।
অন্য এক যুবক জানান, জোনাকি আবাসিক এলাকার পাহাড় কাটা কখনো বন্ধ হয় না। অভিযান হলে কিছুদিন বন্ধ থাকে। পরে আবারো শুরু হয়। আগে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও অন্য সংস্থার টহল থাকত। তবে ৫ আগস্টের পর থেকে বাধা ছাড়াই পাহাড় কাটা হচ্ছে।
পরিবেশকর্মী শুয়াইব হাসান বলেন, ‘পাহাড়-টিলাবেষ্টিত জোনাকি এলাকা প্রাকৃতিক সৌন্দের্যে ভরা। ঐতিহ্যবাহী এমসি কলেজ ও কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ঘেঁষা এই এলাকায় কয়েক বছরে ব্যাপক নগরায়ণ হয়েছে। সম্প্রতি সিলেট সিটি করপোরেশনের অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় মানুষের কাছে এখানকার জমির চাহিদা বেড়েছে। আবাসিক এলাকা হিসেবে গুরুত্ব বাড়ায় জমি ক্রয়-বিক্রয় বেড়েছে। এখনই এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে পরিবেশের বিপর্যয় ঘটবে এ এলাকায়।
এ ব্যাপারে শাহপরাণ (রহ.) থানার ওসি মনির হোসেন জানান, সেখানে পরিবেশ অধিদপ্তর অথবা উপজেলা প্রশাসন অভিযান পরিচালনা করে। তবে পুলিশের পক্ষ থেকে তারা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন বলে জানান তিনি।
পরিবেশ অধিদপ্তর সিলেটের আঞ্চলিক পরিচালক ফেরদৌস আনোয়ার জানান, পাহাড়-টিলা কাটা বন্ধে তাদের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। রাতে পাহাড় কাটার খবর তিনি পেয়েছেন। কিছুদিন আগেও তাদের দপ্তরের লোকজন ওই এলাকায় গিয়েছেন। যারা পাহাড় কাটছে, তাদের ব্যাপারে তথ্য নেয়া হচ্ছে।










