ঢাকার আশুলিয়ায় বকেয়া বেতনের দাবিতে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছে একটি তৈরি পোশাক কারখানার শ্রমিকরা।

আজ বৃহস্পতিবার (১৬ মে) সকালে আশুলিয়ার ইয়ারপুর ইউনিয়নের নরসিংহপুর এলাকার ইথিক্যাল গার্মেন্টস লিমিটেড কারখানার শ্রমিকরা এপ্রিল মাসের বকেয়া বেতনের দাবিতে নরসিংহপুর-কাশিমপুর সড়ক অবরোধ করে এ বিক্ষোভ করে।

বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা জানান, গত এপ্রিল মাসের বেতন চলতি মাসের ১০ তারিখে পরিশোধের কথা ছিল। কিন্তু ১০ তারিখ কারখানা কর্তৃপক্ষ শ্রমিকদের বেতন পরিশোধ না করে ১৫ মে শ্রমিকদের এপ্রিল মাসের বেতন পরিশোধ করবে বলে জানায়। সর্বশেষ গতকাল বুধবার (১৫ মে) শ্রমিকরা কারখানায় গেলে কর্তৃপক্ষ পুনরায় আগামী ২১ মে শ্রমিকদের বেতন পরিশোধের আশ্বাস দেয়। কারখানা কর্তৃপক্ষের এ সিদ্ধান্ত শ্রমিকরা মেনে নেয়নি।

এদিকে বৃহস্পতিবার সকালে শ্রমিকরা কারখানায় কাজে যোগ দিতে গেলে কারখানার গেইটে গিয়ে একদিনের জন্য কারখানা বন্ধের নোটিস দেখতে পায়। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে শ্রমিকরা। পরবর্তীতে বকেয়া বেতনের দাবিতে শ্রমিকরা কারখানা সংলগ্ন সড়কে নেমে এসে বিক্ষোভ শুরু করলে শিল্প পুলিশ ১ এর সদস্যরা শ্রমিকদের সড়ক থেকে সরিয়ে দেয়।

কারখানার নোটিসে বলা হয়, ইথিক্যাল গার্মেন্টস লিমিটেডের কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শ্রমিকদের অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে যে কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী অত্র কারখানার সব সেকশন আগামী ১৬ মে রোজ বৃহস্পতিবার সাধারণ ছুটি হিসেবে বন্ধ থাকবে। এ ব্যাপারে সবাইকে সার্বিক সহযোগিতার জন্য অনুরোধ করা হলো।

কারখানাটিতে প্রায় ২ হাজার শ্রমিক কর্মরত রয়েছেন বলে জানিয়েছে শিল্প পুলিশ।

বিক্ষোভে অংশ নেয়া এক শ্রমিক অভিযোগ করে বলেন, কর্তৃপক্ষ প্রতি মাসেই শ্রমিকদের বেতন পরিশোধে গড়িমসি করে। এতে করে পরিবার-পরিজন নিয়ে বিপাকে পড়তে হয়। এ সময় প্রতি মাসে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শ্রমিকদের বেতন পরিশোধের দাবি জানান এ শ্রমিক।

শিল্প পুলিশ-১ এর সহকারী পুলিশ সুপার সুব্রত কুমার সাহা বলেন, গতকাল শ্রমিকদের বেতন পরিশোধের কথা ছিল। কিন্তু কর্তৃপক্ষ বেতন পরিশোধের জন্য নতুন দিন ধার্য করে। এদিকে আজ সকালে শ্রমিকরা কারখানায় এসে কারখানা বন্ধ পায়। পরে শ্রমিকরা ক্ষুব্ধ হয়ে বিক্ষোভ শুরু করলে শিল্প পুলিশ সদস্যরা শ্রমিকদের বুঝিয়ে সড়ক থেকে সরিয়ে দেয়। পরিস্থিতি এখন স্বাভাবিক রয়েছে।

ইথিক্যাল গার্মেন্টস লিমিটেডের মহাব্যবস্থাপক পিন্টু অধিকারী বলেন, শ্রমিকদের এপ্রিল মাসের বেতন বকেয়া রয়েছে তবে এর বাইরে আর কোনো পাওনা বকেয়া নেই। কর্তৃপক্ষ আগামী ২১ মে শ্রমিকদের এপ্রিল মাসের বেতন পরিশোধ করার কথা জানিয়েছেন।

বেশ কিছুদিন যাবত কারখানাটি অর্ডার ক্রাইসিসে ভুগছে জানিয়ে এ কর্মকর্তা আরো বলেন, আগের তুলনায় কারখানায় কার্যাদেশ এখন অর্ধেকেরও কম। কয়েকদিন আগে আমাদের একটি পেমেন্ট পাওয়ার কথা ছিল, সেটি না পাওয়ায় আসলে এ সমস্যাটি সৃষ্টি হয়েছে।