টাকা জমা দিয়েও নির্দিষ্ট সময়ে মালয়েশিয়া যেতে না পারা কর্মীরা তাদের জমানো টাকা ফেরতসহ ৭ দফা দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন। রিক্রুটিং এজেন্টদের কাছ থেকে অর্থ ফেরত না পাওয়া পর্যন্ত তারা এ কর্মসূচি চালিয়ে যাবেন বলে জানিয়েছেন।
রোববার (২৯ ডিসেম্বর) সকাল থেকে রাজধানীর ইস্কাটনে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের নিচে তারা অবস্থান করছেন।
মালয়েশিয়া যেতে না পারা কর্মীরা জানান, গত ৩১ মে ছিল মালয়েশিয়া প্রবেশের শেষ সময়। কিন্তু এজেন্সিগুলো অজানা কারণে তাদের পাঠাতে পারেনি। এর মধ্যে সরকার একাধিকবার টাকা ফেরত দেয়ার আশ্বাস দিলেও, অনেকেই এখনো টাকা ফেরত পাননি। অভিযোগ করেও কোনো সুরাহা হয়নি। তাই দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তারা অবস্থান চালিয়ে যাবেন।
মালয়েশিয়া যেতে ইচ্ছুক কর্মীদের সাত দফা দাবির মধ্যে রয়েছে— টাকা জমা দেয়ার পরেও দুই বছর ধরে মালয়েশিয়া যেতে না পারায় তারা আর সেখানে যেতে ইচ্ছুক নন। এখন তারা তাদের জমা দেয়া অর্থ ফেরত চান। তারা এই ঘটনার সাথে জড়িত সিন্ডিকেটের অন্তর্ভুক্ত ১০০টি রিক্রুটিং এজেন্সির লাইসেন্স বাতিল এবং তাদের মালিকদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারির দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে বিদেশে পালিয়ে থাকা মালিকদের পাচার করা অর্থ জব্দ করে ক্ষতিগ্রস্ত কর্মীদের মধ্যে বিতরণের দাবিও করা হয়েছে। কর্মীদের সমস্যার সমাধান না হওয়া পর্যন্ত মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানো বন্ধ রাখার দাবিও জানান তারা। রিক্রুটিং এজেন্সির সহযোগী হিসেবে কাজ করা ট্রাভেল এজেন্ট, সাব-এজেন্ট ও দালালদের অবিলম্বে গ্রেফতারের দাবিও জানানো হয়েছে। মন্ত্রণালয় ও বিএমইটিতে অভিযোগ জানানোর তিন-চার মাস পরেও কোনো সুরাহা না হওয়ার কারণ জানতে চাওয়া হয়েছে। দালালদের দৌরাত্ম্য বন্ধ করার জন্য নির্ধারিত অভিবাসন খরচ সরকারি কোনো ব্যাংকে জমা নেয়ার ব্যবস্থা করার দাবিও জানানো হয়েছে। সবশেষে, ক্ষতিপূরণ আদায়ে ব্যর্থ হলে সরকারকে এর দায়ভার নিতে হবে এবং সরকারি খরচে প্রত্যেক কর্মীর মালয়েশিয়া ছাড়া অন্য কোনো দেশে বিনামূল্যে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করার দাবি জানানো হয়েছে।










