মে-জুন হচ্ছে সাগরে বিভিন্ন প্রজাতির মাছের প্রজনন মৌসুম। এ সময়ে প্রজনন নিরাপদ ও রেণু বেড়ে ওঠা নিশ্চিত করতে গভীর সাগরে মাছ আহরণে নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে। গতকাল মধ্যরাত থেকে বঙ্গোপসাগরে বাংলাদেশের জলসীমায় ৬৫ দিনের এ নিষেধাজ্ঞা শুরু হয়েছে। দীর্ঘ এ সময় সাগরের কোনো স্থানেই যান্ত্রিক, এমনকি ছোট্ট ডিঙি নৌকা দিয়েও মাছ আহরণ করা যাবে না।
যদিও মৎস্যজীবীরা দাবি করে আসছেন, এ সুযোগে ভারতীয় ট্রলারগুলো বাংলাদেশের জলসীমায় ঢুকে মাছ আহরণ করে। তারা ভারত ও বাংলাদেশে একই সময়ে নিষেধাজ্ঞা দেয়ার দাবি করে আসছেন। তবে মৎস্য কর্মকর্তারা বলছেন, সাগরে নিষেধাজ্ঞায় ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের এক মাস পার্থক্য। ভারতের নিষেধাজ্ঞা এরই মধ্যে শেষ হয়েছে। এ সময়ে ভারতীয় জেলেদের বাংলাদেশের জলসীমায় মাছ নিধনের আশঙ্কা নেই।
উপকূলীয় অঞ্চলের জেলেদের দাবি, বছরে বিভিন্ন সময় ১৪৭ দিন নিষেধাজ্ঞা থাকে। এ সময় জেলেরা সরকারি যে সহায়তা পান, তা অপ্রতুল। মার্চ-এপ্রিল ৬০ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষ হতে না হতেই আবার ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞা নিয়ে তারা দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। এমনিতেই তাদের রোজগারে টান পড়ায় ঋণে জর্জরিত। তবে নিষেধাজ্ঞার সময়ে নিবন্ধিত প্রত্যেক জেলে পরিবারকে ৫৬ কেজি করে চাল দেয়া হবে বলে জানিয়েছে মৎস্য অধিদপ্তর।
মৎস্য অধিদপ্তর সুত্রে জানা গেছে, উপকূলীয় তিন জেলায় ১ লাখ ৯৪ হাজার ৭৩০ নিবন্ধিত জেলে রয়েছেন। এর মধ্যে পিরোজপুরে ১৭ হাজার ৬৮২, পটুয়াখালীতে ৫০ হাজার ১৩৯, ভোলায় ৮৯ হাজার ৬০০, বরগুনায় ৩৭ হাজার ৩০৯ জেলে রয়েছেন। এছাড়া আরো কয়েক হাজার অনিবন্ধিত জেলে রয়েছেন। এদের মধ্যে অধিকাংশ জেলেই সাগরে মাছ শিকার করে আসছেন।
পটুয়াখালীর কুয়াকাটা ও আলীপুর মৎস্য সমবায় সমিতির সভাপতি আনসার উদ্দিন মোল্লা বণিক বার্তাকে বলেন, ‘বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরা বন্ধের কারণে যেন সাধারণ মাঝি-মাল্লারা ক্ষতিগ্রস্ত না হন, সেদিকে সরকারকে নজর দিতে হবে। সাগরে থাকা বেশির ভাগ মাছ ধরা ট্রলার তীরে ফিরে এসেছে। বাকিরাও ফিরে আসবে।’
বরগুনা জেলা মৎস্যজীবী ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী বলেন, ‘৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞায় উপকূলীয় কয়েক লাখ জেলে বেকার হয়ে পড়েছেন। এখন তাদের প্রতি খেয়াল রাখতে হবে, যাতে বেকার হয়ে কোনো অপরাধের সঙ্গে জড়িয়ে না পড়ে।’
বরিশাল মৎস্য আড়তদার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি খান হাবিব বলেন, ‘সাগরে ৬৫ দিনের এ নিষেধাজ্ঞা ভারতীয়দের সঙ্গে একই সময়ে করা দরকার। কেননা নিষেধাজ্ঞার সুযোগে ভারতীয় জেলেরা বাংলাদেশের জলসীমায় প্রবেশ করে মাছ ধরে নেয়, যা দেখার কেউ থাকে না।’
এ ব্যাপারে বরিশাল বিভাগীয় মৎস্য অধিদপ্তরের উপপরিচালক নৃপেন্দ্র নাথ বিশ্বাস বলেন, ‘সাগরে ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞা কার্যকরে টাস্কফোর্স কমিটির সভায় নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। গত শনিবার বরগুনায় অবহিতকরণ সভা হয়েছে। এ সময়ের জন্য নিবন্ধিত প্রত্যেক জেলে পরিবারকে ৫৬ কেজি করে চাল দেয়া হবে। সাগরে নিষেধাজ্ঞায় ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের এক মাস পার্থক্য। ভারতের নিষেধাজ্ঞা এরই মধ্যে শেষ হয়েছে। এ সময় ভারতীয় জেলেরা আমাদের জলসীমায় এসে মাছ আহরণের কোনো আশঙ্কা নেই।’










