সবার জন্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে স্বাস্থ্যখাতের দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা দূর করতে চিকিৎসক নেতাদেরকে সুনির্দিষ্ট ও সুস্পষ্ট পরিকল্পনা এবং প্রস্তাবসহ এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
আজ বৃহস্পতিবার সকালে বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার ও সভাপতি অধ্যাপক ডা. হারুন আল রশীদের নেতৃত্বে সংগঠনটির ২০ সদস্যের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে তিনি এ আহ্বান জানান।
রাষ্ট্রপতি বলেন, দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনার জন্য স্বাস্থ্যখাতের যে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়নের লক্ষ্য ছিল, সে পর্যায়ে আমরা পৌঁছাতে পারিনি। আমাদের কতজন ডাক্তার, নার্স, টেকনোলজিস্ট ও মেডিকেল যন্ত্রপাতি লাগবে, কি কাঠামো লাগবে তার সঠিক ও সার্বিক কোনো পরিকল্পনা ছিল না। বর্তমান সরকারের সময়ে জাতীয় বাজেটে স্বাস্থ্যখাতে এ যাবতকালের সব থেকে বেশি বরাদ্দ দেয়া হয়েছে উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, এ সুযোগকে কাজে লাগাতে হবে, একটি সুব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। রাষ্ট্রপতি এ সময় স্বাস্থ্যখাতের উন্নয়নে নতুন ডাক্তার নিয়োগ, অবকাঠামো উন্নয়ন ও যন্ত্রপাতি ক্রয়ে যথাযথ পরিকল্পনা গ্রহণের তাগিদ দেন। পদোন্নতি ও পদায়নে বিগত দিনের তদবির সংস্কৃতি বন্ধ করে যোগ্য ব্যক্তিদের সঠিক পদে পদায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। রাষ্ট্রপতি চিকিৎসকবৃন্দকে গবেষণা কার্যক্রমে আরো শক্তিশালী ভূমিকা রাখার অনুরোধ করেন।
রাষ্ট্রপতি আরো বলেন, দেশের যত্র-তত্র ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে ওঠা ক্লিনিক, ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলো আমাদের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে নষ্ট করে ফেলছে। তিনি এ সব প্রতিষ্ঠানকে একটি যথাযথ ব্যবস্থাপনা ও নিয়ন্ত্রণের মধ্যে দিয়ে আসার জন্য সংশ্লিষ্টদের আহ্বান জানান।
রাষ্ট্রপতি এ সময় সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া, জুলাই গণঅভ্যুত্থান এবং বিগত ফ্যাসিস্ট শাসন আমলের অত্যাচার-নির্যাতনে আহত নেতাকর্মী ও তার নিজের চিকিৎসায় আন্তরিক সাহায্য ও সহযোগিতার জন্য চিকিৎসকদের প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।
ড্যাবের প্রধান উপদেষ্টা ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার বর্তমানে দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় চিকিৎসকদের ওপর হামলার ঘটনায় আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, এ সব ঘটনায় চিকিৎসকদের মধ্যে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া হচ্ছে। তিনি এ ধরণের ঘটনা বন্ধে সরকারের সহযোগিতা কামনা করেন।
সাক্ষাৎকালে ড্যাব সভাপতি অধ্যাপক ডা. হারুন আল রশীদ দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উন্নয়নে বর্তমান সরকারের আন্তরিক প্রচেষ্টার জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে সব অংশীজনকে সঙ্গে নিয়ে স্বাস্থ্যখাতের বিভিন্ন নীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
এ সময় রাষ্ট্রপতির সচিবগণ ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।










