অর্থনীতির এখনকার অবস্থা কাঠামোগত দুর্বলতার ফলাফল। রাষ্ট্রের ক্ষমতাকে ব্যবহার করে লাভবান হওয়ার প্রবণতা একশ্রেণীর বড় ব্যবসায়ীর। এক অর্থে তারা একটা ক্লাব বানিয়েছে। জনগণের সম্পত্তি ভাগ করে নিচ্ছে একশ্রেণীর ব্যবসায়ীদের এই ক্লাব।
গতকাল রাজধানীর ব্র্যাক সেন্টারে দ্য ঢাকা ফোরাম আয়োজিত ‘রাজনীতি অর্থনীতি: বাংলাদেশ এখন’ শীর্ষক এক সেমিনারে এসব কথা বলেন বক্তারা। এতে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ।
বক্তব্য রাখেন সিপিডির সম্মানীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য, ড. মোস্তাফিজুর রহমান, পিপিআরসির চেয়ারম্যান ড. হোসেন জিল্লুর রহমান, টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান, রাজনৈতিক বিশ্লেষক ড. আসিফ নজরুল, সাবেক মুখ্য সচিব আলী ইমাম মজুমদার, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষক রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর প্রমুখ।
পিপিআরসির চেয়ারম্যান ড. হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, ‘গত ১৫ বছরে দেশের এক ধরনের একটি অর্থনৈতিক মডেল দাঁড়িয়েছে। যেটাতে তিনটি পদ্ধতিগত বৈশিষ্ট্য রয়েছে। এক, উন্নয়নের অর্থায়ন পুরোপুরি ঋণনির্ভর হয়ে পড়েছে; দ্বিতীয়ত, উন্নয়ন খরচের অদক্ষতা বহুগুণ বেড়েছে। অপ্রয়োজনীয় প্রকল্প গ্রহণ, প্রকল্প বাস্তবায়নে বিলম্ব অতিমাত্রায় হয়ে গেছে। ঋণনির্ভর হয়ে খরচ উল্টো দিকে হেঁটেছে। অদক্ষ উন্নয়ন খরচ পদ্ধতিগত পর্যায়ে চলে গেছে। তৃতীয়ত, সার্বিক জবাবদিহিতায় ধস নেমেছে। এটাও পদ্ধতিগত পর্যায়ে চলে গেছে। আমরা দেখেছি, ধরা পড়েছে (দুর্নীতি করে), কিন্তু কিছু হচ্ছে না।’
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের সম্মানীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, ‘গত এক বছরে মূল্যস্ফীতির সঙ্গে আরো দুটি বিষয় যোগ হয়েছে। প্রথমটা হচ্ছে, দায়দেনা পরিস্থিতির ঝুঁকি। এটি শুধু বৈদেশিক ঋণের ক্ষেত্রেই হয়েছে—তা নয়, আমাদের অভ্যন্তরীণ ঋণের বিষয়টিও আছে।’
রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, ‘প্রথমেই বলতে হবে অর্থনীতির এখনকার অবস্থা যে কাঠামোগত দুর্বলতার ফলাফল, তা আমরা স্বীকার করব কিনা। এরপর বলা যায় দুর্নীতির কথা। রাষ্ট্রের ক্ষমতাকে ব্যবহার করে লাভবান হওয়ার প্রবণতা একশ্রেণীর বড় ব্যবসায়ীর। এক অর্থে তারা যেন একটা ক্লাব বানিয়েছে এবং জনগণের সম্পত্তি ভাগ করে নিচ্ছে একশ্রেণীর ব্যবসায়ীদের এই ক্লাব।’
রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর আরো বলেন, ‘সংকট আওয়ামী লীগ-বিএনপির নয়। সংকট সবার। অর্থশাস্ত্রে পছন্দ বা বাছাই করার কথা বলা আছে। বাছাই করতে গেলে তো বাজার লাগবে। নিয়ন্ত্রক না থাকলে বাছাইটা করা হবে কীভাবে? রাজনীতির ক্ষেত্রেও বাছাই করতে দিতে হবে। সত্তরের নির্বাচনে জনগণ বাছাই করতে পেরেছিল বলেই একাত্তরে একটা দেশ পেয়েছিলাম।’










