আমরা ৩২টি আইন পেয়েছি যা স্বাধীন সাংবাদিকতার পথে বাধা সৃষ্টি করে। প্রেস কাউন্সিল একটি ব্যর্থ প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে উঠেছে। এটাকে ঠিক করার জন্য আমরা কি কি করতে পারি তা নিয়ে কাজ করছি। আমরা একটি সার্ভে করছি যে জনগণ কি আমাদের উপর আস্থা রাখে কিনা। না রাখলে কি করা যেতে পারে আস্থা ফিরিয়ে আনার জন্য।
সেন্টার ফর গভর্নেন্স স্টাডিজের (সিজিএস) অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সংস্কারের অগ্রাধিকার ক্ষেত্রগুলো নিয়ে ধারাবাহিক আয়োজন ‘গণতান্ত্রিক পুনর্গঠনের জন্য সংলাপ: গণমাধ্যম প্রসঙ্গ’ শীর্ষক আলোচনায় এসব কথা বলেন গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের প্রধান কামাল আহমেদ। রোববার (২২ ডিসেম্বর) সকালে সিরডাপ মিলনায়তনে (সেন্টার অন ইন্টিগ্রেটেড রুরাল ডেভেলপমেন্ট ফর এশিয়া অ্যান্ড দ্য প্যাসিফিক) সংলাপটি অনুষ্ঠিত হয়।
সংলাপে আলোচকের মধ্যে ছিলেন গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের প্রধান কামাল আহমেদ, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম, সিজিএস চেয়ার মুনিরা খান, সিজিএসের নির্বাহী পরিচালক জিল্লুর রহমান, দৈনিক মানব জমিনের প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী, সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী আবু সাইয়িদ, বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান সম্পাদক মাহবুব মোর্শেদ, ডিজিটালি রাইট বিডির প্রতিষ্ঠাতা মিরাজ আহমেদ চৌধুরী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ড. এস এম শামীম রেজা, এএফপির ফ্যাক্ট চেক এডিটর কদরুদ্দীন শিশির, দ্য ডেইলি স্টারের সিনিয়র সাংবাদিক জায়মা ইসলাম, সিনিয়র সাংবাদিক মাসুদ কামাল, সিনিয়র সাংবাদিক আবু সাঈদ খান, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি, এনএইচকে টেলিভিশনের বাংলাদেশ প্রতিনিধি পারভিন এফ চৌধুরী, সিনিয়র সাংবাদিক এম এ আজিজ ও নাগরিক কমিটির সদস্য তুহিন খান।
শফিকুল আলম বলেন, ‘সাংবাদিকরা যেন নিজেদের মতো কাজ করতে পারে। মিডিয়া গত ১৫ বছর জনগণের কথা শুনে নাই। ন্যূনতম বেতন সাংবাদিকদের জন্য নির্ধারণ করে দিতে হবে। সাংবাদিকদের এখানে জোর দিতে হবে। কন্টেন্ট চুরি করা বন্ধ করতে হবে। কঠোর কপিরাইট আইন লাগবে। কন্টেন্ট নিরাপত্তার জন্য কঠোর আইন লাগবে। কন্টেন্ট নিরাপত্তা না থাকার জন্য সাংবাদিকরা বেতন কম পায়। ইউনিয়নগুলোকে শক্তিশালী হতে হবে। নতুন বাংলাদেশে নতুন ইউনিয়ন লাগবে, যারা পূর্বাচলের প্লটের পিছনে ছুটবে না। সাংবাদিকদের জন্য যেন কারো মানবাধিকার লঙ্ঘন না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।’
আবু সাইয়িদ বলেন, ‘সংবিধানে যা আছে তা বাস্তবে নেই। আমদের দেশে গণতন্ত্র থাকলে আমাদের এই অবস্থায় আসতে হত না। এখন সময় এসেছে আমাদের পরিবর্তন আনার। মিডিয়াগুলোকে সরকারের মুখোমুখি দাড়িয়ে জবাব আদায় করে নিতে হবে। আমাদের আগামীর দিকে তাকাতে হবে। যদি প্রেস কমিশন করা হয় সেখানে সাংবাদিকদের প্রতিনিধিত্ব থাকতে হবে। সাংবাদিকদের সাহসিকতার সঙ্গে কাজ করতে হবে।’
মুনিরা খান বলেন, ‘মিডিয়াতে যারা কাজ করে তারা অনেক মূল্যবান দায়িত্ব পালন করে। সবাই যে টাকার জন্য কাজ করে এমন না। এখানে স্বচ্ছতা আনতে হবে।‘










