শীত কমতে না কমতেই সিলেট নগরীতে মশার উপদ্রব বেড়েছে। মশা নিধনে বিভিন্ন সময় পদক্ষেপ নিলেও তার সুফল মিলছে না বলে জানিয়েছে সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক) কর্তৃপক্ষ। নগরীর ৪২টি ওয়ার্ডে একসঙ্গে মশক নিধন ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান না চালালে দীর্ঘস্থায়ী সুফল মিলবে না বলেও মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

নগরবাসী বলছেন, শীতের শেষে মশার উপদ্রব বাড়বে, সেটা মাথায় রেখে সিলেট সিটি করপোরেশনের আগে থেকেই ব্যবস্থা নেয়া উচিত ছিল। কিন্তু কোথাও তাদের এ ব্যাপারে কোনো তৎপরতা দেখা যায়নি।

নগরীর বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা জানান, নগরীতে মশার যন্ত্রণা চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। কয়েল, এরোসল, মশা নিয়ন্ত্রণের ওষুধেও দমন করা যাচ্ছে না। বিশেষ করে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার্থীরা পড়েছে চরম বিপাকে। সন্ধ্যার দিকে ছেলেমেয়েরা পড়তে বসতে পারছে না।

নগরীর বন্দর বাজারের মধুবন মার্কেটের ব্যবসায়ী আনহার মিয়া বলেন, ‘দিনের বেলাই মার্কেটে বসা যাচ্ছে না। রাতে তো আরো খারাপ পরিস্থিতি। বাসাবাড়িতে মশার উপদ্রব আরো বেশি। অথচ সিলেট সিটি করপোরেশনের যেন কোনো মাথাব্যথা নেই।’

রাজারগলি এলাকার বাসিন্দা সামিরা বেগম বলেন, ‘অন্য সময়ের তুলনায় মশা খুব বেশি। সন্তানদের নিয়ে বিপাকে আছি। একটু অসতর্ক হলেই মশা কামড়ে দেয় শিশুদের। কিন্তু এ ব্যাপারে কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না নগর কর্তৃপক্ষ।’

নগর ভবন সূত্রে জানা গেছে, প্রয়োজনীয় জনবল না থাকায় নিয়মমাফিক কীটনাশক প্রয়োগ না করায় মশা নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। মশা নিয়ন্ত্রণ করতে একটি এলাকায় ১৫ দিন পর একবার করে স্প্রে এবং এর ১৫ দিন পর ফগার মেশিন ব্যবহার করতে হয়। এভাবে চার-ছয়বার স্প্রে করতে পারলে দীর্ঘমেয়াদি ফল পাওয়া যাবে। কিন্তু প্রয়োজনীয় জনবল না থাকায় সেই উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা সম্ভব হচ্ছে না। স্প্রে করার পাঁচ-সাতদিনের মধ্যে ফগিং করতে হচ্ছে। ফলে অভিযানের সুফল মিলছে না। একসময় নগরীতে ২৭টি ওয়ার্ড ছিল। এখন এর পরিধি বেড়ে ৪২টিতে দাঁড়িয়েছে। এ কারণে মশক নিধনে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদের।

মশার উপদ্রবের ব্যাপারে সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. জাহিদুল ইসলাম বণিক বার্তাকে বলেন, ‘মশক নিধন কার্যক্রমের জন্য সিসিকের স্থায়ী কোনো জনবল নেই। দৈনিক মজুরিতে লোক নিয়োগ করে চালানো হয় কার্যক্রম। নগরীর একটি ওয়ার্ডে মশক নিধন কার্যক্রমের জন্য দৈনিক মজুরি বাবদ ৩৬ হাজার টাকা দেয়া হয়। সংশ্লিষ্ট কাউন্সিলরদের মাধ্যমেই পরিচালিত হয় মশক নিধন কার্যক্রম। প্রতি ওয়ার্ডে আড়াই থেকে তিন মাসব্যাপী কার্যক্রমে ৯০ জনকে দৈনিক ৪০০ টাকা মজুরির ভিত্তিতে নিয়োগ দেয়া হয়। তবে এটা পর্যাপ্ত নয়।’

ডা. জাহিদুল ইসলাম আরো বলেন, ‘অস্বীকার করার সুযোগ নেই, মশার উপদ্রব বেড়েছে। কিন্তু মশক নিধন একটি সমন্বিত অভিযানের ব্যাপার। পরিচ্ছন্নতা অভিযান, ওষুধ ছিটানো, জঙ্গল পরিষ্কার সবই একসঙ্গে করতে হয়। তাছাড়া বিচ্ছিন্নভাবে একটি বা দুটি ওয়ার্ড করে মশকনিধন কার্যক্রম চালিয়ে দীর্ঘস্থায়ী কোনো সুফল আসবে না। এজন্য ৪২টি ওয়ার্ডে একসঙ্গে অভিযান চালাতে হবে। কিন্তু সেই সামর্থ্য আমাদের নেই। এ ব্যাপারে মেয়রকে জানানো হয়েছে। শিগগিরই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’