দেশের ব্যাংক চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের (এমডি) সঙ্গে আজ বৈঠকে বসছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদার। দুপুর ১২টায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের জাহাঙ্গীর আলম সম্মেলন কক্ষে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। সভায় ব্যাংক একীভূতকরণ, ডলারের বিনিময় হার, ঋণের সুদহার, সুশাসনসহ দেশের অর্থনীতির নানা বিষয়ে আলোচনা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

সভায় অংশ নিতে আমন্ত্রণ পেয়েছেন বলে জানান বেসরকারি ব্যাংক উদ্যোক্তাদের সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকসের (বিএবি) চেয়ারম্যান মো. নজরুল ইসলাম মজুমদার। বণিক বার্তাকে তিনি বলেন, ‘গভর্নরের পক্ষ থেকে বৈঠকের আমন্ত্রণ পেয়েছি। উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ব্যাংকের চেয়ারম্যান বৈঠকে উপস্থিত থাকবেন। এমডিদের মধ্যেও কেউ কেউ উপস্থিত থাকবেন বলে শুনেছি। তবে কী বিষয়ে আলোচনা হবে, সে সম্পর্কে তেমন কিছু জানি না।’

এর আগে গত ৪ মার্চ বিএবি নেতাদের সঙ্গে গভর্নরের বৈঠক হয়েছিল। ওই বৈঠকে একীভূতকরণের মাধ্যমে ব্যাংকের সংখ্যা কমিয়ে আনতে বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে বেসরকারি ব্যাংক পরিচালকদের ছয় মাস সময় দেয়া হয়। বেঁধে দেয়া সময়ের মধ্যে নিজেদের পছন্দ অনুযায়ী সবল কিংবা দুর্বল ব্যাংকের সঙ্গে একীভূত হতে বলা হয়। অন্যথায় আগামী জানুয়ারি থেকে কেন্দ্রীয় ব্যাংক নিজেদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দুর্বল ব্যাংকগুলোকে সবল ব্যাংকের সঙ্গে একীভূত করে দেয়ার সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। 

ওই বৈঠকের পর মার্চে এক্সিম ব্যাংকের সঙ্গে একীভূত হতে চুক্তি করে পদ্মা ব্যাংক। এরপর রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংককে (রাকাব) কৃষি ব্যাংকের সঙ্গে এবং বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংককে (বিডিবিএল) সোনালী ব্যাংকের সঙ্গে একীভূত করার সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। পরে বেসরকারি সিটি ব্যাংকের সঙ্গে রাষ্ট্রায়ত্ত বেসিক ব্যাংক এবং ইউসিবির সঙ্গে ন্যাশনাল ব্যাংক একীভূত হওয়া নিয়ে আলোচনা হয়। তবে এরই মধ্যে বেসিক ব্যাংকের পর্ষদ সিদ্ধান্ত নিয়ে সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংককে জানিয়েছে, তারা সিটি ব্যাংকের সঙ্গে একীভূত হতে চায় না। আর ন্যাশনাল ব্যাংক সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারা ইউসিবির সঙ্গে একীভূত হবে না।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট একাধিক কর্মকর্তা জানান, একীভূতকরণ নিয়ে ব্যাংক খাতে বেশকিছু ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়েছে। এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অবস্থান পরিষ্কার করতে ব্যাংক এমডি ও চেয়ারম্যানদের ডাকা হয়েছে। তবে বৈঠকে ডলারের বিনিময় হার নির্ধারণে ‘ক্রলিং পেগ’ নীতি, ঋণের সুদহার পুরোপুরি বাজারের ওপর ছেড়ে দেয়াসহ ব্যাংক খাতে সুশাসন ফিরিয়ে আনার বিষয়ে আলোচনা হবে।