দেশের মানুষ নানা সংকটের মধ্যে থাকায় এমপি-মন্ত্রীদের আর্থিক সুবিধা বাড়ানোর উদ্যোগের বিরোধিতা করার ঘোষণা দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, ‘গোটা সমাজ একটা সংকটের মধ্যে পড়ে হাবুডুবু খাচ্ছে। আর আমরা সংসদ সদস্যরা আমাদের সুযোগ-সুবিধা বাড়াব? এটা প্রশ্নই ওঠে না।’
গতকাল রাজধানীর মগবাজারের আল-ফালাহ মিলনায়তনে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। জামায়াতের আমির বলেন, ‘সংসদ সদস্যরা জনগণের প্রয়োজনে সংসদে গেছেন; বেতনের বিনিময়ে সংসদ সদস্য হওয়ার জন্য নয়। দেশের ১৮ কোটি মানুষের আর্থিক অবস্থার পরিবর্তন হলে তখন সবার সঙ্গে অংশীদার হতে আমাদের আপত্তি থাকবে না।’
গণভোট ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নের মাধ্যমে জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্যতা অর্জনের সুযোগ সরকারের ছিল। কিন্তু তা না করে সরকার গণবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। সংসদে বিরোধী দলের ভূমিকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘সংসদে টেবিল বা ফাইল ছুড়ে মারার মতো বিরোধী দল হতে চাই না। কোনো অসভ্য আচরণ করারও চিন্তা নেই। তবে গঠনমূলক সমালোচনা অব্যাহত রাখব।’
সংসদে বিভিন্ন ইস্যুতে বিরোধী দলের দেয়া নোটিস আলোচনার সুযোগ না পাওয়ার অভিযোগও করেন তিনি। জ্বালানি, সার, বিদ্যুৎ, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি, শিশু ধর্ষণ ও হত্যা এবং নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধিসহ বিভিন্ন বিষয়ে তারা দফায় দফায় নোটিস দিয়েছেন বলে জানান। তবে এসব নোটিস আলোচনায় আনা হচ্ছে না বলে অভিযোগ তার।
লংমার্চ নিয়ে সমালোচনার জবাবে বিরোধীদলীয় নেতা জানান, তাদের কর্মসূচিগুলো শান্তিপূর্ণ, নিয়মতান্ত্রিক ও সুশৃঙ্খলভাবে পালন করা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমি আগামীকাল লংমার্চ করব, আর আজকে ককটেল ফুটাব, বাসে আগুন দেব, ঢাকাকে অস্থির করব—এটা কোনো পাগলও করবে না। আমাদের কর্মসূচি বানচাল করার জন্য যদি কেউ এ ধরনের প্যানিক পরিস্থিতি তৈরি করে থাকে, দায় তাদের।’
গণমাধ্যমকে রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ উল্লেখ করে জামায়াত আমির বলেন, ‘গণমাধ্যমের স্বাধীন ও দায়িত্বশীল ভূমিকা না থাকলে অনিয়ম-অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলার জায়গা সংকুচিত হয়ে যাবে। কোনো ব্যক্তি বা সরকারের ভালো-মন্দের মূল্যায়ন বাস্তবতার ভিত্তিতে হওয়া উচিত।’ তার অভিযোগ, সরকারের গঠনমূলক সমালোচনা থেকে গণমাধ্যম মুখ ফিরিয়ে রেখেছে। এতে জনগণের কাছে গণমাধ্যমের গ্রহণযোগ্যতা দিন দিন কমছে।
মতবিনিময় সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের নায়েবে আমির এটিএম আজহারুল ইসলাম, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল রফিকুল ইসলাম খান, এটিএম মাছুম, নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসেন ও ঢাকা মহানগর সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ।










