পতিত জমিতে আবাদের লক্ষ্যে এবার ২২টি সেচপাম্প বসিয়ে বিলের পানি অপসারণ করছেন ভবদহ পাড়ের কৃষকরা। এরই মধ্যে বিলকপালিয়া ও আড়পাতা বিলের পানি অনেকটাই কমিয়ে ফেলতে সক্ষম হয়েছেন তারা।  এরই মধ্য দিয়ে তিন দশক পর আবাদে ফিরছেন ভবদহ পাড়ের প্রায় ৫০ হাজার কৃষক।

বিলকপালিয়া ও আড়পাতা বিলের স্থায়ী জলাবদ্ধতা নিরসনসহ চলতি বছর বোরো আবাদ করতে বিলকপালিয়া পানি নিষ্কাশন কমিটি গঠন করা হয়। নেহালপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি মো. রুহুল আমিনকে সভাপতি এবং বালিধা গ্রামের আফজাল হোসেনকে সাধারণ সম্পাদক করে ১৫ সদস্যের পানি নিষ্কাশন কমিটি করা হয়। এ কমিটি দীর্ঘদিন বিভিন্ন পরিকল্পনা করে সেচপাম্প (স্যালো মেশিন) দিয়ে বিলের পানি অপসারণের কাজ শুরু করেছে। কপালিয়া ত্রিভেন্ড এলাকায় ২২টি সেচপাম্প বসিয়ে বিলের পানি অপসারণ করে ভবদহ নদীতে ফেলা হচ্ছে।

সেচ মালিক সমিতির সভাপতি মো. রুহুল আমিন ও সাধারণ সম্পাদক আফজাল হোসেন জানান, এক সপ্তাহ ধরে ২২টি সেচ মেশিন দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা চালানো হচ্ছে। আশা করা যাচ্ছে, মাঘ মাসের মধ্যে বিলকপালিয়া ও আড়পাতা বিলে অন্তত ৫০ হাজার কৃষক পরিবার এ বছর বোরো আবাদ করতে পারবে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, স্থানীয় সেচ কমিটি নিজস্ব অর্থায়নে ১২টি এবং বিএডিসি যশোর অফিস থেকে ১০টি সেচপাম্প (স্যালো মেশিন) বসানো হয়েছে। গতকাল বিএডিসি যশোরের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আব্দুল্লাহ আল রশিদ, নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাহাবুব আলম এবং সহকারী প্রকৌশলী মো. সোহেল রানা কপালিয়া ত্রিভেন্ড এলাকায় কৃষকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় মিলিত হন।

স্থানীয় কপালিয়া গ্রামের কৃষক সিদ্দিকুর রহমান সরদার, অভয়নগরের কালিশাকুল গ্রামের নারায়ন চন্দ্র সরকার বলেন, আমরা স্থানীয় কৃষক মিলে নিজেদের অর্থে বিলের পানি অপসারণের কার্যক্রম শুরু করেছি। বিএডিসি তাদের সেচ মেশিন ভাড়া খাটাচ্ছে মাত্র। এ ব্যাপারে বিএডিসি যশোরের তত্ত্বাবধায়ক ও নির্বাহী প্রকৌশলী জানান, বিএডিসি নামমাত্র মূল্যে আপাতত এক বছরের জন্য ভাড়া হিসেবে মেশিনগুলো দেয়া হয়েছে। এতে প্রতিটি মেশিনের বাৎসরিক ভাড়া ধরা হয়েছে ৫ হাজার টাকা। এছাড়া প্রতিটি মেশিনের বিপরীতে জামানত হিসেবে ৭ হাজার টাকা নেয়া হয়েছে।

সেচ কমিটি জানিয়েছে, ১ লাখ ২০ হাজার টাকা বিএডিসিকে দেয়ার পর তারা ১০টি মেশিন সরবরাহ করেছে। আর নিজেদের অর্থায়নে ১২টি মেশিন চালানো হচ্ছে।

সেচ কমিটি সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক জানান, বিলের পানি অপসারণ করলে বিলকপালিয়া ও আড়পাতা বিলে দুই হাজার হেক্টরে কৃষকরা বোরো চাষ করতে পারবেন। এজন্য দিন-রাত নিরলসভাবে পানি অপসারণ কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।

সেচ কমিটির উদ্যোক্তা শাহিন হোসেন জানান, অভিশপ্ত ভবদহের কারণে তিন দশকের অধিক সময় এ দুটি বিলে স্থায়ী জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ার কারণে জমির মালিকরা কোনো ফসল করতে পারেন না। ফলে নিরুপায় জনগণ দীর্ঘদিন কষ্টে জীবনযাপন করছে পরিবার-পরিজন নিয়ে। তাই এবার বোরো আবাদ করতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রতি অপেক্ষা না করে ভিন্নপথ হিসেবে নিজেদের অর্থায়নে বিলের পানি অপসারণ করে বোরো আবাদে সিদ্ধান্ত নেয়া হচ্ছে। এ দুই বিলের মালিকদের কাছ থেকে পানি সেচ বাবদ ১ হাজার টাকা করে নেয়া হচ্ছে।

পানি নিষ্কাশন কমিটির সভাপতি মো. রুহুল আমিন জানান, গত এক সপ্তাহ সেচ কার্যক্রম চালানোর পর উভয় বিলের পানি প্রায় ১ ফুট কমেছে বলে মনে হচ্ছে। তবে সেচ কার্যক্রম এভাবে অব্যাহত থাকলে মাঘ মাসের মধ্যে চাষীরা তাদের জমিতে বোরো রোপণ করতে পারবেন।

এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হীরক কুমার সরকার বলেন, বিলের পানি সেচের ব্যাপারে আমি বেশি কিছু জানি না। বিষয়টি জানতে বিএডিসির সঙ্গে যোগাযোগ করেন।