উপসচিব পদে প্রশাসন ক্যাডার থেকে ৫০ শতাংশ এবং অন্য ক্যাডার থেকে ৫০ শতাংশ হারে পদোন্নতির সম্ভাব্য সুপারিশকে ‘অযৌক্তিক ও ষড়যন্ত্রমূলক’ হিসেবে দেখছেন প্রশাসন ক্যাডার কর্মকর্তারা। একই সঙ্গে উপসচিবের শতভাগ পদে প্রশাসন ক্যাডার কর্মকর্তাদের পদোন্নতিও দাবি করেন তারা।
বুধবার (২৫ ডিসেম্বর) রাজধানীর ইস্কাটনের বিয়াম ফাউন্ডেশন অডিটোরিয়ামে বিসিএস (প্রশাসন) অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন (বাসা) ও বিসিএস (প্রশাসন) কল্যাণ সমবায় সমিতি লিমিটেড আয়োজিত ‘জনপ্রশাসন সংস্কারকে ভিন্ন পথে পরিচালিত করে দেশকে অস্থিতিশীল করা ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ সভা’য় তারা এসব কথা বলেন। সভায় ১৯৭৩ সাল থেকে ৪১তম বিসিএস পর্যন্ত বিভিন্ন ব্যাচে নিয়োগ পাওয়া প্রশাসন ক্যাডারের সাবেক ও বর্তমান কর্মকর্তারা অংশ নেন।
প্রতিবাদ সভায় বিদ্যুৎ বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব সোহেল রানা বলেন, ‘বৈষম্যের শিকার হওয়ার সম্ভাবনা থেকে আমরা এখানে এসেছি। জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন উপসচিব পদে ৫০-৫০ বণ্টনের কথা বলা হচ্ছে তা অযৌক্তিক, প্রহসনমূলক ও ষড়যন্ত্রমূলক। প্রশাসন ক্যাডার কর্মকর্তারা মাঠে পলিসি বাস্তবায়ন করে সচিবালয়ে পলিসি তৈরিতে সহায়তা করেন।’
তিনি বলেন, ‘১৯৯৮ সালে ২৫ শতাংশ উপসচিব পদে অন্যায্যভাবে অন্যান্য ক্যাডারদের পদোন্নতির সুযোগ দেয়া হয়। সেটি বাড়ানোর পাঁয়তারা করা হচ্ছে। ২০১০ সালে সুপ্রিম কোর্ট এক রায়ে বলেছেন, উপসচিব প্রশাসন ক্যাডারের সহজাত পদ। একমাত্র প্রশাসন ক্যাডার আইন ও প্রশাসন নামের একটি কোর্স করে। অন্য কোনো ক্যাডার তা করেনি। ১৮৫৭ সাল থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত প্রশাসন ক্যাডার সচিবালয় চালিয়েছে। আমাদের ট্রেনিং, মেধা সব বলে উপসচিব প্রশাসন ক্যাডার পদ, তাহলে কেন শতভাগ উপসচিব পদে শতভাগ পদোন্নতি পাবে না প্রশাসন।’
বৈষ্যমের অভিযোগ তুলে ২৯ ব্যাচের প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তা সাইফুল কবির বলেন, ‘উপসচিব পদে পদোন্নতিতে এখনই ২৫ শতাংশ কোটা আরোপিত আছে, বৈষম্যটা আরো বড় করার চেষ্টা চলছে। আমরা চাই সেই ২৫ শতাংশও যেন না থাকে। একই প্রশ্নে বিসিএস পরীক্ষা দিয়ে কেউ প্রশাসন ক্যাডারে এসেছে কেউ অন্য ক্যাডারে গিয়েছে। আমি পিএসসিকে চয়েস প্রকাশ করার দাবি জানাই, তাহলে দেখা যাবে কে কোন পদের চয়েস দিয়ে কোন পদে নিয়োগ পেয়েছে।’
ঢাকার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ও ৩০ ব্যাচের প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তা মো. বদরুদ্দোজা শুভ বলেন, ‘উপসচিব পদে আসতে চায় শিক্ষা ক্যাডার। তাদের কি প্রশাসনিক প্রশিক্ষণ আছে? তারা ১০-১৫ বছর কলেজে পড়িয়েছেন। উপসচিব পদে পদোন্নতি পেলে তাদের নতুন করে সব প্রশিক্ষণ নিতে হবে। ব্যাপারটা এমন যে বিশ্ববিদ্যালয়ের ফারসি বিভাগে ভর্তি হয়ে দুই বছর পর বলছি আমি আইন বিভাগে পড়তে চাই।’
সভার সূচনা বক্তব্যে বাসার সভাপতি ও সংসদ সচিবালয়ের সচিব মো. আনোয়ার উল্ল্যাহ বলেন, সংস্কার কমিটি তাদেরকে বৃহস্পতিবার ডেকেছে। আর আগে আপনাদের মতামত শুনতেই এই সভার আয়োজন করা হয়েছে। আপনাদের মতামত ও সুপারিশ কমিশনের কাছে তুলে ধরব।










