সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে গুমের অভিযোগ দায়ের করেছেন ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের (ইউপিডিএফ) নেতা মাইকেল চাকমা। আজ বুধবার (১৮ ডিসেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয়ে এই অভিযোগ দায়ের করা হয়।
ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম বলেন, মাইকেল চাকমার অভিযোগ আমলে নেয়া হয়েছে। এ অভিযোগের তদন্ত শুরু করা হবে।
২০১৯ সালের ৯ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জের কাঁচপুর এলাকা থেকে ঢাকায় ফেরার পথে ইউপিডিএফ নেতা মাইকেল চাকমা গুমের শিকার হন। তার পরিবারের পক্ষ থেকে নারায়ণগঞ্জ থানায় অভিযোগ দায়ের এবং হাই কোর্টে রিট পিটিশন করা হলেও, শেখ হাসিনা সরকারের সময়ে তাকে উদ্ধারে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া হয়নি।
মাইকেলের গুমের ঘটনায় দেশের মানবাধিকার সংগঠনগুলো এবং আন্তর্জাতিক সংস্থা যেমন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল উদ্বেগ প্রকাশ করে তার সন্ধান চেয়েছিল। পাশাপাশি ইউপিডিএফ ও প্রগতিশীল সংগঠনগুলোও আন্দোলন চালিয়ে আসছিল।
পাঁচ বছর তিন মাস পর শেখ হাসিনা সরকারের পতন হলে, গত ৭ আগস্ট ভোরে চট্টগ্রামের একটি স্থানে চোখ বাঁধা অবস্থায় তাকে মুক্তি দেয়া হয়।
মাইকেল চাকমার অভিযোগে শেখ হাসিনা ও অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। তার অভিযোগ, শেখ হাসিনার শাসনামলে সংঘটিত গুমের ঘটনায় তিনি সরাসরি জড়িত।
গুম সংক্রান্ত কমিশনের অগ্রগতি প্রতিবেদনে শেখ হাসিনার সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে অভিযোগের প্রমাণ পাওয়া গেছে। ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে গুমের ঘটনা ব্যাপক আকার ধারণ করেছিল।
গত জুলাই-আগস্ট মাসে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকার পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়। এরপর ৫ আগস্ট দেশ থেকে পালিয়ে যান সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। এর মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগের টানা প্রায় ১৬ বছরের শাসনের অবসান ঘটে।
সরকারি বাহিনী, দলীয় ক্যাডার এবং প্রশাসনের সহযোগিতায় আওয়ামী লীগ সরকারের সময় গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত হয়। এসব অপরাধের বিচার চলছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে।
সেমিনারে মাইকেল চাকমার সঙ্গে ছিলেন আলোকচিত্রী শহিদুল আলম এবং তার স্ত্রী অধ্যাপক রেহনুমা আহমেদ। ট্রাইব্যুনালের সামনে তারা এ বিষয়ে কথা বলেন এবং বিচারের দাবিতে তাদের সমর্থন জানান। —বাসস










