বিশ্বের অন্যতম দূষিত নগর বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা। এ শহর দূষিত হওয়ার পেছনে অন্যতম ভূমিকা পালন করছে মোটরচালিত যানবাহন। আবার নিত্যকার তীব্র যানজট কেড়ে নিচ্ছে নগরবাসীর হাজারো কর্মঘণ্টা। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য ব্যক্তিগত গাড়ির ব্যবহারকে নিরুৎসাহিত করে বাইসাইকেল ব্যবহার উদ্বুদ্ধকরণের আহ্বান জানিয়েছে ইনস্টিটিউট অব ওয়েলবীইং বাংলাদেশ (আইডব্লিউবি) ও ওয়ার্ক ফর আ বেটার বাংলাদেশ (ডব্লিউবিবি) ট্রাস্ট।

রোববার (১৬ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর রায়েরবাজারে ডব্লিউবিবি ট্রাস্টের সভাকক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন বক্তারা। ‘সাইকেলস সেইভ দ্য সিটি’ শিরোনামে যৌথভাবে এ আলোচনা সভার আয়োজন করে আইডব্লিউবি ও ডব্লিউবিবি। একই নামে অনুষ্ঠানে বাইসাইকেল বিষয়ক একটি গানের উদ্বোধন করা হয়। গানটি নির্মাণ করেছেন আইডব্লিউবির নির্বাহী পরিচালক দেবরা ইফ্রইমসন ও মওয়াকা লাকি। তারা উভয়ে এ গানে কণ্ঠও দিয়েছেন। তাদের সঙ্গে আরো কণ্ঠ দেন নানজিবা সাইয়ারা ও ফজিলাতুননেসা চৌধুরী।

বিশ্বের বিভিন্ন নগরীর মূল যানবাহনের বড় একটি অংশ দখল করে আছে বাইসাইকেল। নেদারল্যান্ডের রাজধানী আমস্টারডামের সর্বমোট যাতায়াতের ৩৬ শতাংশই পরিচালিত হয় বাইসাইকেলে। ডেনমার্কের রাজধানী কোপেনহেগেনে এ সংখ্যা ২৬ শতাংশ। এমনকি পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের লক্ষ্নৌতেও যাতায়াতের ১৬ শতাংশ পরিচালিত হয় বাইসাইকেলে। দেশটির আহমেদাবাদ, পাটনা, দিল্লী ও ব্যাঙ্গালুরুও আছে এ তালিকায়। বিপরীতে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার মাত্র ২ শতাংশ যাতায়াত হয় বাইসাইকেলে। এ শহরে মাত্র ৫ শতাংশ ব্যক্তিগত গাড়ি নগরীর প্রায় ৭০ শতাংশ রাস্তা দখল করে রাখে। এতে একদিকে যেমন তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়, অপরদিকে নগরবাসীর জীবন থেকে নষ্ট হচ্ছে হাজার হাজার কর্মঘণ্টা। অতিমাত্রার যান্ত্রিক বাহনের প্রসারের কারণে ঢাকা শহর শব্দ ও বায়ুদূষণে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় পর্যায়ে রয়েছে। এসব সমস্যা পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলছে।

অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন আপডেটিং দ্য রিভাইসড স্ট্রাটেজিক ট্রান্সপোর্ট প্ল্যান ফর ঢাকার গণপরিবহন পরিকল্পনা বিশেষজ্ঞ রবার্ট গালাগার। তিনি বলেন, ঢাকা শহরে সড়ক দুর্ঘটনার জন্য অনেকাংশে দায়ী দ্রুতগতির যানবাহন। মাত্র ৩২ কিলোমিটার বেগের একটি গাড়ি কোনো পথচারীকে আঘাত করলে ৫ শতাংশ ক্ষেত্রেই তার মৃত্যু ঘটে। গাড়ির গতিবেগ ৪৮ কিলোমিটার হলে মৃত্যুহার হয়ে যায় ৪৫ শতাংশ। আর ৬৪ কিলোমিটার হলে ৮৫ শতাংশ ক্ষেত্রেই আঘাতপ্রাপ্ত পথচারী নিহত হন। এ থেকে উত্তরণের জন্য ট্রাফিককে নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে। নিরাপত্তা ও গতিকে একই সঙ্গে অগ্রাধিকার দেয়া যেতে পারে না। সাইক্লিং এখানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

ঢাকা শহরে সাইকেলের জন্য আলাদা কোনো লেন নেই। এ জন্য তিনটি মৌলিক পদক্ষেপ নেয়া যেতে পারে বলে জানান রবার্ট। তিনি বলেন, সাইক্লিংয়ের জন্য অবকাঠামোগত উন্নতি তৈরির পাশাপাশি জনগণকে সাইকেলের প্রতি উৎসাহ দিলে ও প্রাতিষ্ঠানিক পদেক্ষেপ নিলে ঢাকা শহরের যাতায়াতে সাইকেলের পরিমাণ বাড়ানো যেতে পারে। এটি পরিবেশকে নিরাপদ রাখতেও সহায়তা করবে।

আইডব্লিউবির জনসংযোগ কর্মকর্তা মাহামুদুল হাসানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন ওয়ার্ক ফর আ বেটার বাংলাদেশ ট্রাস্টের পরিচালক গাউস পিয়ারী। তিনি বলেন, বাইসাইকেলের ব্যবহার বৃদ্ধি করে দূষণ সমস্যা হ্রাস করা যেতে পারে। এটি পরিবেশবান্ধব ও ক্রয়ক্ষমতার মধ্যেই আছে। আমাদের পরিবেশ ও স্বাস্থ্য ভালো রাখতে চাইলে সবাইকে বাইসাইকেল চালানোয় উৎসাহিত করতে হবে। একই সঙ্গে ব্যক্তিগত গাড়ি পরিহার করার জন্যও অনুপ্রেরণা দিতে হবে।

অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন উত্তরা সাইকেল কমিনিটি, দ্য পিপলস ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ, ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটি, ফিমেইল সাইকেলার্স অব বাংলাদেশ, ঢাকা আইডিয়াল ক্যাডেট স্কুল ও ইউএনডিপির প্রতিনিধিসহ আরো অনেকে।