তাপপ্রবাহ থেকে সুরক্ষার জন্য কী কী করতে হবে তা জানিয়ে প্রথমবারের মতো জাতীয় গাইডলাইন বা নির্দেশিকা প্রকাশ করেছে সরকার। গতকাল রাজধানীর একটি পাঁচ তারকা হোটেলে আনুষ্ঠানিকভাবে এ নির্দেশিকা প্রকাশ করা হয়েছে।

‘ন্যাশনাল গাইডলাইন অন হেলথ রিলেটেড ইলনেস’ শিরোনামের ওই নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, অতিরিক্ত গরমে মাথা ঘোরানো, দুশ্চিন্তা, স্ট্রোক, মুখের ভেতর শুকিয়ে যাওয়া, অ্যাজমা, মাংসপেশিতে খিঁচুনি, চামড়ায় ফুসকুড়ি, কিডনি অকার্যকর হওয়ার মতো অসুস্থতা দেখা দিতে পারে। এ ধরনের গরমে বয়স্ক, শিশু, অন্তঃসত্ত্বা নারী, শ্রমজীaবী মানুষ সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। ফলে সুরক্ষায় কী কী করতে হবে তুলে ধরা হয়েছে সরকারের গাইডলাইনটিতে। 

অনুষ্ঠানে জাতীয় গাইডলাইনের মোড়ক উন্মোচন করেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. সামন্ত লাল সেন। প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘এ গরমের মধ্যে রোগী ব্যবস্থাপনায় হাসপাতালগুলো ফাঁকা রাখতে হবে। যেসব অস্ত্রোপচার পরে করলেও চলবে, সেগুলো যেন এখন না করা হয়। ভবিষ্যতে এ ধরনের তাপপ্রবাহ অব্যাহত থাকতে পারে। তাই গরমে কী করা যাবে, তা নিয়ে চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে।’

নগর পরিকল্পনাবিদদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা দেখি গ্রামের চেয়ে ঢাকা শহরে তাপমাত্রা অত্যধিক বেশি। এর কারণ, আমরা ভবন নির্মাণ করতে গিয়ে ঢাকা শহরে গাছপালা সব কেটে সাবাড় করে ফেলেছি।৷জলবায়ু পরিবর্তনের ওপর হয়তো আমরা খুব প্রভাব ফেলতে পারি না। কিন্তু নগর পরিকল্পনার সময় যদি এসব বিষয় মাথায় রাখি, তাহলে অনেকাংশে পরিত্রাণ সম্ভব।’

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ইউনিসেফ বাংলাদেশের উপ-প্রতিনিধি এম্মা ব্রিগহাম বলেন, ‘তাপপ্রবাহের সময়ে অপরিণত শিশুজন্মের ঝুঁকি বেশি। তাপমাত্রা প্রতি ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস বৃদ্ধিতে অপরিণত শিশুজন্মের ঝুঁকি ৫ শতাংশ বাড়ে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবের কারণে ২০৫০ সাল নাগাদ বাংলাদেশের সাড়ে তিন কোটির বেশি শিশু তীব্র তাপপ্রবাহের সম্মুখীন হবে। ২০২০ সালে ২৬ লাখ শিশু এ ঝুঁকির সম্মুখীন হয়েছিল।’