মহাকাশ গবেষণা ও প্রযুক্তি সংস্থা স্পেসএক্স শক্তিশালী ও বিশালাকার স্টারশিপ রকেটকে প্রথমবারের মতো পৃথিবীর কক্ষপথে পাঠানোর সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। টেক্সাসের স্টারবেস কেন্দ্র থেকে রকেটটি উৎক্ষেপণের জন্য নির্ধারণ করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফএএ) রকেটটি উৎক্ষেপণ ও পুনর্ব্যবহারের জন্য প্রয়োজনীয় লাইসেন্স অনুমোদন দিয়েছে। খবর সিএনবিসি।
স্টারশিপের এটি ১৪তম পরীক্ষামূলক ফ্লাইট। তবে এর আগের ১৩টি পরীক্ষায় রকেটটিকে কক্ষপথে পৌঁছার উদ্দেশ্যে পাঠানো হয়নি। ফ্লাইটগুলোয় স্পেসএক্সের লক্ষ্য ছিল রকেটটি সঠিকভাবে উড়তে পারে কিনা, আকাশেই বিস্ফোরিত না হয়ে মহাকাশ পর্যন্ত পৌঁছতে পারে কিনা এবং কীভাবে নিরাপদে পৃথিবীতে ফিরে আসতে পারে—সেসব পরীক্ষা করা।
ইলোন মাস্কের কোম্পানিটি জানায়, এবার প্রথমবারের মতো পৃথিবীর চারপাশে চক্কর দেয়ার পাশাপাশি স্যাটেলাইট মোতায়েনের পরিকল্পনা করা হয়েছে। স্পেসএক্স এ ফ্লাইটের মাধ্যমে ২৬টি নতুন স্টারলিংক ভি৩ উপগ্রহ মহাকাশে স্থাপন করবে। নতুন প্রজন্মের উপগ্রহগুলো আগের চেয়ে দ্বিগুণ বিদ্যুৎ উৎপাদনে সক্ষম এবং অত্যন্ত দ্রুত গতিতে ইন্টারনেট সেবা প্রদানে পারদর্শী।
ব্যবসায়িক সম্প্রসারণের জন্য স্টারশিপ রকেটটি ইলোন মাস্কের প্রতিষ্ঠানের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। স্টারলিংক হলো স্পেসএক্সের সবচেয়ে বড় ও লাভজনক একটি খাত। বর্তমানে মহাকাশে প্রায় ১১ হাজার সক্রিয় স্যাটেলাইট পরিচালনা করছে প্রতিষ্ঠানটি। সেগুলো পাঠানো হয়েছিল স্পেসএক্সের ছোট ও মাঝারি আকারের পুরনো রকেট ফ্যালকন ৯ ও ফ্যালকন হেভি দিয়ে।
স্পেসএক্সের প্রধান নির্বাহী ইলোন মাস্ক আশা প্রকাশ করেছেন, বিশ্বজুড়ে একসময় স্যাটেলাইট ইন্টারনেটের সিংহভাগ নিয়ন্ত্রণ করবে স্টারলিংক। চলতি বছরের জুনে শেয়ারবাজারে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার পর রেকর্ড পরিমাণ মূলধনের কারণে স্পেসএক্সের বাজারমূল্য দাঁড়িয়েছে প্রায় ২ ট্রিলিয়ন বা ২ লাখ কোটি ডলারে।
তিনি জানান, পুনর্ব্যবহারযোগ্য প্রযুক্তিতে তৈরি স্টারশিপ রকেটের মাধ্যমে খুব কম খরচে ভারী মালামাল মহাকাশে পাঠানো সম্ভব হবে। ভবিষ্যতে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার (নাসা) চাঁদে নভোচারী পাঠানোর অভিযান ও ২০২৭ সালের মধ্যে মহাকাশে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) চালিত বিশেষ সুপারকম্পিউটিং স্যাটেলাইট স্থাপনেও এ স্টারশিপ প্রযুক্তি ব্যবহার করবে স্পেসএক্স।










