চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময়ে ব্র্যাক ব্যাংক পিএলসির মাধ্যমে দেশে এসেছে ২ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি রেমিট্যান্স। এর মধ্য দিয়ে মাত্র নয় মাসেই ২০২৫ সালের ২ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলারের রেকর্ড ছাড়িয়েছে। প্রবৃদ্ধির এ ধারাবাহিকতায় ২০২৬ সাল শেষে ৩ বিলিয়ন ডলারের বেশি রেমিট্যান্স আহরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে বলে ব্র্যাক ব্যাংকের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে গতকাল জানানো হয়।
ব্যাংক কর্তৃপক্ষ বলছে, আন্তর্জাতিক অংশীদারত্ব সম্প্রসারণ, প্রযুক্তিনির্ভর অর্থ স্থানান্তর ব্যবস্থা এবং প্রবাসী বাংলাদেশী ও তাদের পরিবারের জন্য ব্যাংকিং সেবা সহজলভ্য করার উদ্যোগ রেমিট্যান্স প্রবৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। মধ্যপ্রাচ্য, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, ইউরোপ, উত্তর আমেরিকা ও এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের প্রধান রেমিট্যান্স করিডোরগুলোর এক্সচেঞ্জ হাউজের সঙ্গে ব্র্যাক ব্যাংকের বিস্তৃত বৈশ্বিক নেটওয়ার্ক রয়েছে।
আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে উন্নত হোস্ট টু হোস্ট প্রযুক্তি ইন্টিগ্রেশন ও এপিআই কানেক্টিভিটির মাধ্যমে আন্তঃসীমান্ত অর্থ স্থানান্তরের গতি, নিরাপত্তা ও নির্ভরযোগ্যতা বাড়িয়েছে ব্যাংকটি। একই সঙ্গে দেশজুড়ে শাখা, উপশাখা ও এজেন্ট ব্যাংকিং নেটওয়ার্কের মাধ্যমে গ্রামাঞ্চলসহ বিভিন্ন এলাকার রেমিট্যান্স সুবিধাভোগীদের কাছে অর্থ পৌঁছে দেয়ার ব্যবস্থা রয়েছে।
ব্র্যাক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) তারেক রেফাত উল্লাহ খানের মতে, বছরের প্রথম নয় মাসেই রেমিট্যান্স সংগ্রহের এ রেকর্ড ব্যাংকের প্রতি প্রবাসী ও আন্তর্জাতিক অংশীদারদের আস্থার প্রতিফলন। তিনি বলেন, ‘ব্র্যাক ব্যাংকের লক্ষ্য রেমিট্যান্স প্রেরণকারীদের বিশেষ ও কার্যকর ব্যাংকিং সেবা দেয়া, যাতে তারা দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক নিরাপত্তার জন্য বাংলাদেশে তাদের অর্থ সঠিকভাবে বিনিয়োগ করতে পারেন।’ প্রবাসী ও তাদের পরিবারের জন্য রেমিট্যান্স পাঠানো আরো দ্রুত, নিরাপদ ও সহজ করতে ব্যাংকটি প্রযুক্তি, দক্ষ জনবল এবং আন্তর্জাতিক কৌশলগত অংশীদারত্বে বিনিয়োগ অব্যাহত রাখবে বলেও জানান তারেক রেফাত উল্লাহ খান।
রেমিট্যান্স আহরণের পাশাপাশি অনাবাসী বাংলাদেশী ও তাদের পরিবারের ব্যাংকিং চাহিদা পূরণে সেবার পরিধিও বাড়িয়েছে ব্র্যাক ব্যাংক। এজন্য ‘প্রবাসী ভার্চুয়াল সেভিংস অ্যাকাউন্ট’, ‘প্রবাসী পরিবার অ্যাকাউন্ট’, ‘তারা প্রবাসী পরিবার অ্যাকাউন্ট’ এবং অফশোর ব্যাংকিং ইউনিটের সেবা চালু রয়েছে।
ডিজিটাল ই-কেওয়াইসি প্লাটফর্মের মাধ্যমে প্রবাসীরা বিদেশে থেকেই ব্যাংক হিসাব খুলতে পারছেন। ব্যাংকের ‘আস্থা’ অ্যাপের মাধ্যমে ফান্ড ট্রান্সফার, বিল পরিশোধ, ডিপিএস ও এফডিআর খোলাসহ বিভিন্ন ব্যাংকিং সেবা ব্যবহারের সুযোগও রয়েছে। ফলে প্রবাসীরা বিদেশে থেকেও দেশের ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারছেন। একই সঙ্গে দেশে থাকা পরিবারের সদস্যরা আনুষ্ঠানিক ব্যাংকিং ব্যবস্থার মাধ্যমে রেমিট্যান্সের অর্থ ব্যবস্থাপনা ও দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক পরিকল্পনার সুযোগ পাচ্ছেন। এছাড়া রেমিট্যান্স গ্রহীতাদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বাড়াতে ‘উঠান বৈঠক’ আয়োজন করছে ব্র্যাক ব্যাংক। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে বৈধ চ্যানেলে রেমিট্যান্স পাঠানো ও ব্যাংকিং সেবা ব্যবহারে সচেতনতা তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে ব্যাংকটি।










