দুইদিন ধরে বিশ্বের বৃহত্তম কয়লা বন্দর
অবরোধ করে রাখার পর গ্রেফতার হয়েছেন ১০৯ জন পরিবেশকর্মী। জলবায়ু পরিবর্তনের বিষয়ে
মনোযোগ না দেয়ায় অস্ট্রেলিয়ার নিউক্যাসল বন্দরের শিপিং লেন দখল করে রাখেন তারা। সাঁতার
কেটে বা কায়াক ব্যবহার করে অবরোধ পালন করেন বিক্ষোভকারীরা। খবর বিবিসি।
জলবায়ু কর্মীদের দাবি, তাদের বাধার
মুখে প্রায় ৫ লাখ টন কয়লা অস্ট্রেলিয়া ছেড়ে যেতে পারেনি।
বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম কয়লা রফতানিকারক
অস্ট্রেলিয়া। দেশটি নিজস্ব বিদ্যুতের উৎপাদনের জন্যও জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভর
করে।
নিউক্যাসল বন্দরটি সিডনি থেকে প্রায়
১৭০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। এটি কয়লার চালানের জন্য দেশটির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ
টার্মিনাল।
প্রতিবেদনে বলা হয়, পুলিশের অনুমতি
নিয়েই সপ্তাহান্তে প্রায় তিন হাজার মানুষ শিপিং লেনে ৩০ ঘণ্টার অবরোধে অংশ নেয়। কিন্তু
নির্দিষ্ট সময়ের পর কয়েক ডজন বিক্ষোভকারী পানিতে রয়ে যায়। সেখান থেকে ১০৯ জন গ্রেফতার
হন। তাদের মধ্যে থাকা পাঁচ অপ্রাপ্তবয়স্ককে পরবর্তীতে মুক্তি দেয়া হয়।
গতকাল সোমবার নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশের
দেয়া বিবৃতি অনুসারে, পোতাশ্রয় ছেড়ে যেতে অস্বীকার করার জন্য ১০৪ জনকে অভিযুক্ত করা
হয়েছে।
অবরোধকারীদের একজন ৯৭ বছরের অ্যালান
স্টুয়ার্ট। তিনি বলেন, আমার নাতি-নাতনি ও ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য এটি করছি। আমরা যদি
নিস্ক্রিয় থাকি, তবে এর ফল তাদের ভোগ করতে হবে।
এ কর্মসূচির আয়োজন করেছে রাইজিং টাইড
নামের প্লাটফর্ম। একে ‘অস্ট্রেলিয়ার ইতিহাসে জলবায়ুর জন্য সবচেয়ে বড় নাগরিক বিক্ষোভ’
হিসেবে অভিহিত করেছে সংগঠনটি।
আগামী ৩০ নভেম্বর দুবাইয়ে শুরু হচ্ছে
বৈশ্বিক জলবায়ু শীর্ষ সম্মেলন কপ২৮। এর কয়েকদিন আগেই বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হলো।
রাইজিং টাইড জানায়, তাদের দাবি অ্যান্থনি আলবেনিজের সরকার তাপীয় কয়লা রফতানিতে কর আরোপ করুক এবং একইসঙ্গে নতুন জীবাশ্ম জ্বালানি প্রকল্প বাতিল করতে হবে।










