অতিধনীর সংখ্যায় চীনকে ছাড়িয়ে শীর্ষস্থানে উঠে এসেছে যুক্তরাষ্ট্র। সম্পদ ও সঞ্চয় বৃদ্ধির পাশাপাশি সম্পদ স্থানান্তরের হার ক্রমেই বাড়তে থাকায় মিলিয়নেয়ার ও বিলিয়নেয়ারের সংখ্যায় যুক্তরাষ্ট্র সামনেও নেতৃত্ব দেবে বলে গবেষণা সংস্থা হেনলি অ্যান্ড পার্টনার্স ও নিউ ওয়ার্ল্ডের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। খবর সিএনবিসি।
‘ইউএসএ ওয়েলথ রিপোর্ট ২০২৪’ অনুসারে, গত পাঁচ বছরে যুক্তরাষ্ট্রে অতিধনীর সংখ্যা বেড়েছে ৩৫ শতাংশ, যা চীনের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ দ্রুত। বর্তমানে বিশ্বের ৩৭ শতাংশ মিলিয়নেয়ারের বাসস্থান যুক্তরাষ্ট্র, যা ২০১৮ সালে ছিল ৩৫ শতাংশ। বর্তমানে ৫৫ লাখের বেশি আমেরিকানের বিনিয়োগযোগ্য সম্পদের পরিমাণ ১০ লাখ ডলারের বেশি, যা স্থানীয়ভাবে গত এক দশকে ৬২ শতাংশ ও বৈশ্বিকভাবে ৩৮ শতাংশের বেশি বেড়েছে। অন্যদিকে ৮ লাখ ৬২ হাজার ৪০০ মিলিয়নেয়ার রয়েছে চীনে।
বর্তমানে ১০ কোটি ডলার বা তার বেশি সম্পদ রয়েছে এমন ৯ হাজার ৮৫০ সেন্টি-মিলিয়নেয়ারের বসবাস যুক্তরাষ্ট্রে। অন্যদিকে চীনে সেন্টি-মিলিয়নেয়ারের সংখ্যা ২ হাজার ৩৫২ জন। বিলিয়নেয়ারের সংখ্যায়ও এগিয়ে আছে যুক্তরাষ্ট্র, দেশটির ৭৮৮ জন বিলিয়নেয়ারের বিপরীতে চীনে রয়েছে ৩০৫ জন।
ব্যক্তিগত সম্পদ ও সঞ্চয় বৃদ্ধির ক্ষেত্রে বিশ্বে যুক্তরাষ্ট্রর অবস্থান একদম নেতৃত্বে রয়েছে বলেও হেনলি অ্যান্ড পার্টনার্সের ওই প্রতিবেদনে বলা হয়। সংস্থার পারসোনাল ক্লায়েন্ট বিভাগের প্রধান ডমিনিক ভোলেক জানান, চীনে কঠোর কভিড লকডাউন ও বেসরকারি খাতে সরকারি হস্তক্ষেপ বৃদ্ধির কারণে দেশটিতে সম্পদ বৃদ্ধির গতি মন্থর হয়েছে।
অন্যদিকে চীন থেকে সম্পদ স্থানান্তরের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র এগিয়ে রয়েছে। ২০২৩ সালে মোট ১৩ হাজার ৫০০ অতিধনী চীন ছেড়েছেন। ২০২৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রে ২ হাজার ২০০ কোটিপতি নিট প্রবাহ দেখা গেছে, আগামী বছর তা ৩ হাজার ৫০০ জন পর্যন্ত বাড়তে হতে পারে।
বিভিন্ন ক্ষেত্রে পেশাজীবীদের জন্য এখনো শীর্ষ গন্তব্য যুক্তরাষ্ট্র। জরিপে বলা হয়েছে, বিশেষ করে এশিয়া, ইউরোপ ও যুক্তরাজ্যের ধনী প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ও প্রকৌশলীদের জন্য যুক্তরাষ্ট্র শীর্ষ পছন্দ রয়ে গেছে। এছাড়া শিল্পসামগ্রী ও বিলাসদ্রব্য বিক্রির বাজারেও নেতৃত্ব দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।
হেনলি অ্যান্ড পার্টনার্স ও নিউ ওয়ার্ল্ডের যৌথ এ প্রতিবেদনে অতিধনীরা বসবাস করে এমন শীর্ষ ১০টি মার্কিন শহরের তালিকা করা হয়েছে। এতে এগিয়ে আছে নিউইয়র্ক। এ শহরে প্রায় ৩ লাখ ৪৯ হাজার ৫০০ মিলিয়নেয়ার ও ৬০ জন বিলিয়নেয়ার বসবাস করেন। অঞ্চলটিতে ১০ বছরে মিলিয়নেয়ার বৃদ্ধির পর হার ৪৮ শতাংশ।
দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে সিলিকন ভ্যালির জন্য বিখ্যাত সানফ্রান্সিসকো। এখানে যুক্তরাষ্ট্রের সর্বাধিক বিলিয়নেয়ারের উপস্থিতি, ৬৮ জন। মিলিয়নেয়ার রয়েছেন ৩ লাখ ৫ হাজার ৭০০ জন। এর পরই রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিতীয় জনবহুল লস অ্যাঞ্জেলেস। ২০২৩ সালে এখানে ২ লাখ ১২ হাজার ১০০ মিলিয়নেয়ার ও ৪৩ জন বিলিয়নেয়ার ছিলেন। তালিকায় চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে শিকাগো। প্রায় ২০ হাজার ৫০০ মিলিয়নেয়ার ও ২৪ জন বিলিয়নেয়ার বাস করেন এ শহরে।
তালিকার পঞ্চম থেকে অষ্টম অবস্থানে রয়েছে যথাক্রমে হিউস্টন, ডালাস, সিয়াটল ও বোস্টন। যুগ্মভাবে নবম হয়েছে মিয়ামি ও অস্টিন।
প্রতিবেদনে বলা হয়, সবচেয়ে দ্রুত বর্ধনশীল অতিধনীদের শহর হলো অস্টিন ও টেক্সাস। এখানে গত এক দশকে মিলিয়নেয়ারের সংখ্যা দ্বিগুণেরও বেশি বেড়ে প্রায় ৩৩ হাজার হয়েছে। একই সঙ্গে মিয়ামির অবস্থানও উল্লেখযোগ্য। শহরটিতে গত এক দশকে ৮৭ শতাংশ মিলিয়নেয়ার বেড়েছে।
তালিকার ১০তম অবস্থানে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসি। শহরটিতে প্রায় ২৮ হাজার ৩০০ মিলিয়নেয়ার ও ১২ বিলিয়নেয়ারের বসবাস। গত এক দশকে এখানে অতিধনী বৃদ্ধির হার ৭৫ শতাংশ।










