ভারত চলতি প্রান্তিকের লক্ষ্যমাত্রার দ্বিগুণ চাল মজুদ করেছে। অক্টোবরে শুরু হওয়া এ প্রান্তিকে মোট ১ লাখ ২ হাজার টন চাল মজুদের লক্ষ্যমাত্রা ছিল দেশটির। তবে নভেম্বরেই তার প্রায় দ্বিগুণ চাল মজুদ করা হয়েছে। সম্প্রতি ভারতের সরকারি সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে। খবর রয়টার্স। 

বিশ্বের দ্বিতীয় শীর্ষ চাল উৎপাদনকারী দেশটির বাজারে নতুন মৌসুমের চাল আসতে শুরু করেছে। নতুন চালের আগমন পণ্যটির উদ্বৃত্ত বাড়াবে। এতে অভ্যন্তরীণ বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক হয়ে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বিশ্বের বৃহত্তম চাল রফতানিকারক দেশ ভারত। দেশটি গত জুলাইয়ে সাদা নন-বাসমতী চাল রফতানিতে আকস্মিকভাবে নিষেধাজ্ঞা দেয়। এর প্রভাবে বিশ্বব্যাপী খাদ্যপণ্যটির দাম গত কয়েক বছরের সর্বোচ্চে উঠে যায়।

সূত্রের বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে, ভারতের রাষ্ট্রীয় গুদামগুলোয় ধান ও চালের মোট মজুদ দাঁড়িয়েছে ১ কোটি ৯৭ লাখ টনে। যদিও দেশটির স্থানীয় সরকারের নিয়ম অনুযায়ী, চলতি প্রান্তিকে (অক্টোবর-ডিসেম্বর) রাষ্ট্রায়ত্ত গুদামগুলোয় ৮২ লাখ টন চাল থাকার কথা। আর কৌশলগত মজুদ হিসেবে রাষ্ট্রীয় গুদামগুলোয় অতিরিক্ত ২০ লাখ টন চাল রাখতে হয়। অর্থাৎ মোট ১ লাখ ২ হাজার টন চাল মজুদের লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছিল দেশটি।

ভারতীয় কৃষকরা জুন-জুলাইয়ের বর্ষাকালে ধান রোপণ শুরু করেন এবং অক্টোবরে ফসল কাটা শুরু করেন। ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রধান শস্য ক্রেতা ফুড করপোরেশন অব ইন্ডিয়া নতুন মৌসুমে ক্রয় বাড়ানোয় শস্যভাণ্ডারে চালের মজুদ বাড়বে। তবে চলতি বছরে অপর্যাপ্ত বৃষ্টির ফলে নতুন মৌসুমে ধানের ফলন কমে যাবে বলে মনে করছেন খাতসংশ্লিষ্টরা। মোট আবাদি জমির পরিমাণ বাড়লেও উৎপাদন গত বছরের তুলনায় ৮ শতাংশ পর্যন্ত কমতে পারে।

অন্যদিকে রাষ্ট্রীয় গুদামগুলোয় গমের মজুদ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৬ লাখ টনে, যা দেশটির লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও ২৩ শতাংশ বেশি। গমের উদ্বৃত্ত মজুদ বৃহৎ পরিমাণে ক্রয়কারী মিলগুলো ও বিস্কুট তৈরিকারকদের চাহিদা মেটাতে সহায়তা করবে, যা বাজারে দাম কমাতেও ভূমিকা রাখবে।

গমের দাম গত আট মাসের সর্বোচ্চে ওঠার পর দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকার খোলা বাজারে গম বিক্রি করে আসছে। চীনের পর বিশ্বের বৃহত্তম শস্য উৎপাদনকারী দেশটি বৈরী আবহাওয়ার কারণে গমের উৎপাদন কমে যাওয়ার আশঙ্কা করছে। তাই অভ্যন্তরীণ চাহিদার কথা মাথায় রেখে ভারত গত বছর গম রফতানি নিষিদ্ধ করে।