আন্তর্জাতিক বাজারে আবারো আউন্সপ্রতি ২ হাজার ডলারের পথে স্বর্ণের দর। ডলারের অবনমন ও ট্রেজারি বন্ডের সুদহার কমতে থাকায় বাজারে চাহিদা বেড়েছে নিরাপদ বিনিয়োগ মাধ্যমটির। খবর রয়টার্স।
স্পর্ট মার্কেটে গতকাল স্বর্ণের দাম বেড়েছে দশমিক ৪ শতাংশ। প্রতি আউন্সের মূল্য উঠেছে ১ হাজার ৯৯৬ ডলার ৮৪ সেন্টে। গত মঙ্গলবার মূল্যবান ধাতুটির দাম তিন সপ্তাহের সর্বোচ্চ ২ হাজার ৭ ডলার ২৯ সেন্টে ওঠার পর বাজার কিছুটা নিম্নমুখী হচ্ছিল। গতকাল আবারো ঊর্ধ্বমুখী হয়ে দাম ২ হাজার ডলারের কাছাকাছি উঠেছে। একই দিনে যুক্তরাষ্ট্রের ফিউচার মার্কেটেও স্বর্ণের দাম দশমিক ৪ শতাংশ বেড়েছে। আউন্সপ্রতি মূল্য দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৯৯৮ ডলার ২০ সেন্টে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১০ বছর মেয়াদি মার্কিন ট্রেজারি বন্ডের সুদহার বুধবার দুই সপ্তাহের সর্বনিম্নে নেমেছে। ফলে বিনিয়োগকারীরা স্বর্ণের বাজারমুখী হচ্ছেন। এ প্রসঙ্গে ফরেন এক্সচেঞ্জ প্রতিষ্ঠান ওএএনডিএর এশিয়া-প্যাসিফিকের সিনিয়র বাজার বিশ্লেষক কেলভিন ওং বলেছেন, ‘মার্কিন ডলারের চলমান অবনমন অবস্থা ও দীর্ঘমেয়াদি বন্ডে লভ্যাংশ কমে যাওয়ায় সাময়িকভাবে স্বর্ণের দাম বেড়েছে।’
প্রতিদ্বন্দ্বী মুদ্রার বিপরীতে মঙ্গল ও বুধবার ডলার কিছুটা শক্তিশালী হলেও গতকাল দশমিক ২ শতাংশ মূল্য হারিয়েছে মার্কিন মুদ্রাটি। ডলারের বিনিময় মূল্য কমে এলে ভিন্ন মুদ্রার গ্রাহকের জন্য স্বর্ণ ক্রয় খরচ কমে আসে। এতে ধাতুটির চাহিদা বেড়ে দাম ঊর্ধ্বমুখী হয়ে ওঠে। ব্যবসায়ীরা প্রত্যাশা করছেন, মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ ডিসেম্বরেও সুদহার অপরিবর্তিত রাখবে।
সুদহার কম থাকলে স্বর্ণ ক্রয়ের সুযোগ ব্যয় কমে যায়। এতে মানুষ স্বর্ণে বিনিয়োগ বাড়িয়ে দেয়। গত ৩১ অক্টোবর থেকে ১ নভেম্বর পর্যন্ত দুদিনব্যাপী সভায় ফেড কর্মকর্তারা বলেছেন, তারা বর্তমান সুদহার বহাল রেখে সাবধানে এগিয়ে যাবেন। তবে যদি মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে অগ্রগতি ব্যাহত হয়, তাহলেই কেবল সুদহার বাড়াবেন।
এদিকে বুধবার প্রকাশিত একটি সমীক্ষায় দেখা গেছে, মার্কিন ভোক্তাদের মূল্যস্ফীতির প্রত্যাশা নভেম্বরে টানা দ্বিতীয় মাসের মতো বেড়েছে। রয়টার্সের কারিগরি বিশ্লেষক ওয়াং তাওয়ের মতে, স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম সর্বোচ্চ আউন্সপ্রতি ২ হাজার ৭ ডলার ২৯ সেন্টে উঠতে পারে।
অন্যদিকে স্পট মার্কেটে বেড়েছে অন্যান্য ধাতুর দামও। রুপার দাম দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে উঠেছে আউন্সপ্রতি ২৩ ডলার ৭০ সেন্টে। প্লাটিনামের দামও বেড়েছে দশমিক ৪ শতাংশ। প্রতি আউন্স বিক্রি হয়েছে ৯২৬ ডলার ১১ সেন্টে। তবে প্যালাডিয়ামের দাম ১ হাজার ৫৭ ডলার ৯৬ সেন্টে অপরিবর্তিত ছিল।
বিশ্ববাজারে সেপ্টেম্বরে স্বর্ণের বাজার নিম্নমুখী হতে শুরু করে। অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে ধাতুটির দাম আউন্সপ্রতি ১ হাজার ৮৫০ ডলারের নিচে নেমেছিল। তবে ৭ অক্টোবর হামাস-ইসরায়েল যুদ্ধের প্রভাবে ধাতুটির দাম ২ হাজার ডলার ছাড়িয়ে যায়। মূল্যস্ফীতিসহ অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার মুখে মানুষ নিরাপদ বিনিয়োগ মাধ্যমে ঝুঁকে পড়ে।










