আসন্ন শীত মৌসুমে ঊর্ধ্বমুখী ব্যবহার কেন্দ্র করে এশিয়ায় সমুদ্রপথে আমদানীকৃত তাপীয় কয়লার চাহিদা বাড়তে শুরু করেছে। তবে ইউরোপের বাজারে আমদানি চাহিদা কম থাকায় জ্বালানিটির আমদানি মূল্যে এখনো নিম্নমুখী প্রবণতা বজায় রয়েছে। খবর রয়টার্স।
রাশিয়ার সঙ্গে বৈরিতার সূত্রে ইউরোপের বাজারে যে জ্বালানি সংকট তৈরি হয়েছিল, তা অনেকটাই কেটে গেছে। বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি ও গ্যাসের সরবরাহ নিশ্চিত করে মজুদ বাড়িয়েছে অঞ্চলটি। ফলে চলতি বছর সেখানে কয়লার চাহিদা লক্ষণীয় মাত্রায় কমেছে। এমন পরিস্থিতিতে কয়লা কোম্পানিগুলো তাদের রফতানি গন্তব্য বদলাতে বাধ্য হচ্ছে। যেসব কোম্পানি ইউরোপের দেশগুলোয় কয়লা সরবরাহ করত, সেগুলো বর্তমানে এশিয়ার বাজারে সরবরাহ বৃদ্ধিতে জোর দিচ্ছে।
বিশ্বে কয়লা ব্যবহার ও আমদানিতে শীর্ষ দেশ চীন। এশিয়ার দেশটির স্থানীয় বাজারে কয়লার দাম কম হওয়ায় রফতানিকারকরাও সেখানে কম দামে সরবরাহ করছেন। উদ্দেশ্য, বাজারে প্রতিযোগিতার সক্ষমতা ধরে রাখা। রফতানিকারকদের এমন প্রবণতার ফলে জ্বালানিটির চাহিদা বাড়লেও দাম নিম্নমুখী।
পণ্যবাজার বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান কেপলারের দেয়া তথ্যমতে, অক্টোবরে এশিয়ার দেশগুলোয় সমুদ্রপথে ৭ কোটি ৫৭ লাখ ৭০ হাজার টন তাপীয় কয়লা আমদানি হয়েছে, যা এর আগের মাসে ছিল ৭ কোটি ২ লাখ ৯০ হাজার টন। অর্থাৎ এক মাসের ব্যবধানে আমদানি বেড়েছে ৫৪ লাখ ৮০ হাজার টন। গত বছরের অক্টোবরের তুলনায়ও আমদানি বেড়েছে। ওই সময় এ অঞ্চলের দেশগুলো সমুদ্রপথে ৬ কোটি ৯৬ লাখ ৩০ হাজার টন তাপীয় কয়লা আমদানি করেছিল।
আমদানি বৃদ্ধিতে সবচেয়ে বড় প্রভাব ছিল চীনের। অক্টোবরে দেশটি ২ কোটি ৪৮ লাখ ৪০ হাজার টন তাপীয় কয়লা আমদানি করে, আগের মাসে যা ছিল ২ কোটি ৩৫ লাখ ৯০ হাজার টন। গত বছরের অক্টোবরে আমদানির পরিমাণ ছিল ২ কোটি ২৫ লাখ ৩০ হাজার টন।
কয়লা আমদানিতে বিশ্বের দ্বিতীয় শীর্ষ দেশ ভারত। গত মাসে দেশটির কয়লা আমদানিও ঊর্ধ্বমুখী ছিল বলে জানায় কেপলার। প্রতিষ্ঠানটির দেয়া তথ্যমতে, অক্টোবরে ভারত ১ কোটি ৯০ লাখ ৯০ হাজার টন তাপীয় কয়লা আমদানি করে, যা সেপ্টেম্বরে ছিল ১ কোটি ৩৭ লাখ ৫০ হাজার টন।
তবে অক্টোবরে অন্য দুই শীর্ষ আমদানিকারক জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ায় আমদানি কিছুটা কমেছে। যদিও চলতি মাসে শীতকালীন চাহিদার ফলে আমদানি ঊর্ধ্বমুখী হয়ে উঠবে বলে প্রত্যাশা করছেন বিশ্লেষকরা।
এশিয়ায় কয়লা আমদানিতে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা গেলেও দামের ক্ষেত্রে তেমনটা দেখা যাচ্ছে না। শীর্ষ রফতানিকারক দেশ ইন্দোনেশিয়া চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে ৪ হাজার ২০০ কিলোক্যালরি/কেজি জ্বালানি সক্ষমতার কয়লা টনপ্রতি ৫৮ ডলার ৪৬ সেন্টে রফতানি করেছে। ২০ অক্টোবর একই কয়লার দাম উঠেছিল ৬১ ডলার ৭০ সেন্টে, যা সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ। গত বছরের শেষ সময়ের পর থেকে এখন পর্যন্ত এ গ্রেডের কয়লার দাম ৩৫ শতাংশ কমেছে।
অন্য শীর্ষ রফতানিকারক অস্ট্রেলিয়ায়ও কয়লার দামে নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। দেশটি গত সপ্তাহে ৫ হাজার ৫০০ কিলোক্যালরি/কেজি জ্বালানি সক্ষমতার কয়লা টনপ্রতি ৯৪ ডলার ১৮ সেন্টে রফতানি করেছে। টানা তিন সপ্তাহ ধরেই এ গ্রেডের কয়লার বাজার নিম্নমুখী।
চীনের স্থানীয় বাজারেও কয়লার দাম অব্যাহত কমছে, যা আমদানীকৃত কয়লার দামে প্রভাব ফেলছে। চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে চীনের উত্তরাঞ্চলীয় বন্দর কিনহোয়াংডোয় প্রতি টন কয়লার মূল্য ছিল ৯৩০ ইউয়ান বা ১২৭ ডলার ৪০, যা ১১ অক্টোবর ছিল ১ হাজার ৮০ ইউয়ান। সে হিসাবে দাম ১৪ শতাংশ কমেছে।
কেপলারের দেয়া তথ্য বলছে, অক্টোবরে ইউরোপের দেশগুলো ৩৯ লাখ ৬০ হাজার টন তাপীয় কয়লা আমদানি করে, যা সেপ্টেম্বরের তুলনায় কিছুটা বেশি। তবে চলতি বছরের মধ্যে এ দুই মাসেই অঞ্চলটিতে সবচেয়ে কম কয়লা আমদানি হয়েছে।










