জাপানের ঐতিহ্যবাহী খাদ্যসামগ্রী সয়াসসের স্থানীয় চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। ২০২৫ সালে দেশটির বাজারে সয়াসস বিক্রির পরিমাণ দাঁড়ায় ৬ লাখ ৭০ হাজার ১৫৯ কিলোলিটারে। এটি ৭৫ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন বিক্রির রেকর্ড। খবর জাপান টুডে।
জাপানের সয়াসস প্রস্তুতকারক সমিতির তথ্য অনুযায়ী, ১৯৭৩ সাল ছিল সয়াসস বিক্রির সুবর্ণ সময়। সে তুলনায় বর্তমান চাহিদা প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। খাদ্যাভ্যাসে বড় ধরনের পরিবর্তন ও দ্রুত রান্নার প্রবণতাই এর প্রধান কারণ বলে মনে করছেন অনেকে।
সয়াসস হলো সয়াবিন থেকে তৈরি একধরনের তরল নোনতা মসলা বা সস। এটি মূলত পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় রান্নায় ব্যাপকভাবে ব্যবহার হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, জাপানিদের খাদ্যাভ্যাসে আধুনিক পশ্চিমা খাবারের প্রভাব দিন দিন বাড়ছে। ফলে ঐতিহ্যবাহী জাপানি রান্না আগের চেয়ে অনেক কমে গেছে। পাশাপাশি ঘরে বসে সয়াসস দিয়ে মসলা বা সস তৈরির বদলে সাধারণ মানুষ এখন তৈরি বা রেডিমেড সস ব্যবহারে বেশি আগ্রহী।
বাজারে এখন সয়াসসনির্ভর বিভিন্ন রেডিমেড সস, যেমন সুয়ু সুপ বেস বা তারে সসের জনপ্রিয়তা বেশ বেড়েছে। জাপানের খাদ্য প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান ইয়ামামোরির এক প্রতিনিধি জানান, আজকাল গ্রাহকরা সময় বাঁচানো ও সুবিধাজনক উপাদান বেছে নিচ্ছেন। রান্নায় অতিরিক্ত সময় ও শ্রম দেয়া এড়াতে মানুষ প্রস্তুতকৃত সস বেশি কিনছে। তবে অভ্যন্তরীণ বাজারে চাহিদা কমলেও আন্তর্জাতিক বাজারে জাপানি সয়াসসের কদর এখনো আগের মতোই আছে। তথ্যানুযায়ী, দেশটির সয়াসস রফতানি গত বছর ৯ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়ে প্রায় ৫২ হাজার কিলোলিটারে পৌঁছেছে।
জাপানের ঐতিহ্যবাহী সয়াসস সমিতি ‘নিহন শোয়ু কিয়োকাই’ ছোট ও মাঝারি আকারের সয়াসস প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিদেশে সয়াসস পাঠাতে নানা প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ দিচ্ছে। সমিতির নির্বাহী পরিচালক ইয়াসুমাসা তাজিমা জানান, জাপানের অভ্যন্তরীণ বাজারে তরুণ প্রজন্মকে ফের সয়াসসের দিকে আকৃষ্ট করতে দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ নেয়া প্রয়োজন।










