পুনর্গঠন প্রক্রিয়ার পর ২০২৩ সালে মুনাফায় ফিরেছে মালয়েশিয়া এয়ারলাইনসের প্যারেন্ট প্রতিষ্ঠান মালয়েশিয়া এভিয়েশন গ্রুপ (এমএজি)। এর মাধ্যমে এয়ারলাইনসের প্রিমিয়াম বিভাগে যাত্রীর সংখ্যা বৃদ্ধি ও কভিড-১৯ মহামারীর মন্দা কাটিয়ে এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে ভ্রমণের চাহিদা পুনরুদ্ধার দেখেছে গ্রুপটি। খবর নিক্কেই এশিয়া।
জাতীয় উড়োজাহাজ সংস্থার পুনর্গঠন তদারকি করার জন্য ২০১৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় এমএজি। ২০২৩ সালে গ্রুপের নিট মুনাফা ছিল ৭৬ কোটি ৬০ লাখ রিঙ্গিত বা ১৬ কোটি ২৬ লাখ ডলার। এর মাধ্যমে ২০২২ সালের ৩৪ কোটি ৪০ লাখ রিঙ্গিত লোকসান থেকে ঘুরে দাঁড়াতে সক্ষম হয়েছে গ্রুপটি। এছাড়া ২০২৩ সালের বছরওয়ারি হিসাবে পরিচালন মুনাফা ৬৪ শতাংশ বেড়ে ৮৮ কোটি ৯০ লাখ রিঙ্গিত হয়েছে।
গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইজহাম ইসমাইল জানান, উন্নত নেটওয়ার্ক পরিকল্পনা, যাত্রীসংখ্যা বৃদ্ধি, যাত্রী সক্ষমতা উন্নয়ন, অংশীদারদের সঙ্গে আরো ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ও ভাড়া বৃদ্ধির ফলে এয়ারলাইনসটি ভালো পারফরম্যান্স করেছে।
ইজহাম ইসমাইল আরো জানান, ২০২৩ সালে এমএজি এয়ারলাইনস ব্যবসা, লয়ালিটি প্রোগ্রামসহ ভ্রমণ ও এভিয়েশন পরিষেবায় কিছু লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করে। এটি প্রতিটি বিভাগকে ব্যবসায়িক সম্প্রসারণের সক্ষমতা দিয়েছে। মডেলটি এমএজির অন্যান্য ব্যবসা প্রবৃদ্ধিকে গতিশীল করেছে। বিশেষ করে গ্রুপের আয়প্রবাহকে বৈচিত্র্যময় করতে অবদান রেখেছে।
মালয়েশিয়া এয়ারলাইনসের যাত্রী ধারণক্ষমতা ২০২৩ সালে প্রাক-মহামারী স্তরের ৯০ শতাংশের কাছাকাছি পৌঁছেছে। যা বছরওয়ারি হিসাবে ৪৬ শতাংশ বৃদ্ধি দেখেছে। যাত্রী ভাড়া থেকে আয় ৬৪ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ১৪০ কোটি রিঙ্গিত হয়েছে। সামগ্রিকভাবে আয় বার্ষিক ৩১ শতাংশ হারে বেড়ে ১ হাজার ৩৯০ কোটি রিঙ্গিত হয়েছে। এদিকে তীব্র প্রতিযোগিতার কারণে ২০২৩ সালে কার্গো থেকে আয় ৪৯ শতাংশ কমে ১১০ কোটি রিঙ্গিত হয়েছে।
মালয়েশিয়ার সরকারের সার্বভৌম সম্পদ তহবিল ‘খাজানাহ ন্যাশনালের’ সহযোগিতায় গঠিত হয় মালয়েশিয়া এভিয়েশন গ্রুপ। ২০১৪ সালে ফ্লাইট এমএইচ৩৭০ নিখোঁজ হয় ও একই বছরে ইউক্রেনের আকাশে এমএইচ১৭ উড়োজাহাজ ভূপাতিত হয়। দুটো ঘটনা মালয়েশিয়া এয়ারলাইনসের ওপর গ্রাহকদের আস্থায কমিয়েছিল। ফলে ব্যবসায়িক ক্ষতি ও আর্থিক অস্থিতিশীলতা দেখা দেয়।
আন্তর্জাতিক এয়ার ট্রান্সপোর্ট রেটিং সংস্থা স্কাইট্র্যাক্সের তথ্যানুযায়ী, ২০২৩ সালে মালয়েশিয়া এয়ারলাইনস ৪৭তম স্থান অর্জন করেছে। ইজহাম ইসমাইল বলেন, ‘মালয়েশিয়া এয়ারলাইনস ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বব্যাপী শীর্ষ ১০ এবং এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে শীর্ষ ৫-এর মধ্যে স্থান পাওয়ার লক্ষ্য নিয়েছে।’
তবে মালয়েশিয়া এভিয়েশন গ্রুপ চলতি বছর উচ্চ জ্বালানি ব্যয়, প্রতিকূল বৈদেশিক বিনিময় হার, ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা, যাত্রী ও কার্গো খাতে বিশ্বব্যাপী অতিরিক্ত যাত্রী সক্ষমতাসহ বিভিন্ন ধরনের চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হবে।
ভবিষ্যৎ চাহিদা মোকাবেলায় এরই মধ্যে নতুন উড়োজাহাজ কেনার লক্ষ্য নিয়েছে এমএজি। ২০২৪ সালের দ্বিতীয়ার্ধে ১০টি বোয়িং ৭৩৭-৮ ম্যাক্স ও তিনটি এয়ারবাস এ৩৩০নিও এয়ারক্রাফটসহ ১৪টি নতুন উড়োজাহাজ যুক্ত হবে মালয়েশিয়া এয়ারলাইনসের বহরে।










