আদালতের এ কঠোর রায়ের পর ট্রাম্প এবং তার প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা বিষয়টিকে ‘সামান্য ঘটনা’ হিসেবে প্রচার করার চেষ্টা করছেন। তাদের দাবি, এ রায়ে বড় ধরনের কোনো পরিবর্তন আসবে না এবং এটি প্রশাসনের কাজকর্মে কোনো প্রভাব ফেলবে না। তবে এমন আত্মবিশ্বাসী প্রচারণার আড়ালে হোয়াইট হাউজকে এখন এক রূঢ় ও কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আদালতের এ রায়ের পর জরুরি শুল্ক আরোপকে চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা ৯০০টিরও বেশি মামলার প্রভাব মোকাবেলায় প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। এ আইনি লড়াইয়ের ফলে এখন ক্ষতিগ্রস্ত আমদানিকারকদের শতকোটি ডলার সমপরিমাণ শুল্ক ফেরত দিতে বাধ্য হতে পারে ট্রাম্প প্রশাসন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিষয়টিকে ছোট করে দেখানোর চেষ্টা হলেও পর্দার আড়ালে একধরনের অস্থিরতা বিরাজ করছে। কারণ এ রায়ের ফলে আগের আরোপ করা অনেক বিতর্কিত শুল্ক বা ট্যারিফ নীতি এখন আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৭-১৮ সাল থেকে ধাপে ধাপে আরোপিত অতিরিক্ত শুল্কের বিরুদ্ধে বিক্ষিপ্তভাবে আদালতের দ্বারস্থ হতে থাকেন মার্কিন ব্যবসায়ীরা। তবে গত সপ্তাহে দেশটির সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্পের বাণিজ্য এজেন্ডার মূল অংশকে অবৈধ ঘোষণা করার পর সেই আইনি প্রক্রিয়ায় গতি সঞ্চার হয়েছে। আদালতের এ ঐতিহাসিক রায়ের পর বর্তমানে নয় শতাধিক কোম্পানি সরকারের বিরুদ্ধে আইনি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছে। এ বিশালসংখ্যক আমদানিকারক ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান এখন তাদের কাছ থেকে নেয়া অতিরিক্ত শুল্কের অর্থ ফেরত বা ‘রিফান্ড’ দাবি করছে।
ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিতর্কিত শুল্কনীতির বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে ব্যবসায়ীদের পক্ষে জয়ী হওয়া বিশিষ্ট আইনজীবী নীল কাটিয়াল বলেন, আমদানিকারকদের পাওনা অর্থ দ্রুত ও কোনো রকম টালবাহানা ছাড়াই ফিরিয়ে দিতে তিনি ‘শেষ রক্তবিন্দু’ দিয়ে লড়াই করবেন। কাটিয়াল স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, শুল্ক বাবদ নেয়া অর্থ ফেরত দেয়ার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের ‘অজুহাত’ সহ্য করা হবে না।
আমদানিকারকদের অর্থ ফেরত দেয়ার বিষয়ে শুরুতে অনড় থাকলেও এখন কিছুটা নমনীয় হওয়ার আভাস দিচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইঙ্গিত দেয়া হচ্ছে যে নিম্ন আদালতগুলো অর্থ ফেরতের অনুমোদন দিলে তাতে আর বাধা দেয়া হবে না।
আমদানিকারকদের অর্থ ফেরত দেয়ার আইনি প্রক্রিয়া নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি জ্যামিসন গ্রিয়ার বলেন, কোম্পানিগুলো যদি মনে করে তাদের অর্থ ফেরত পাওয়ার যৌক্তিক দাবি রয়েছে, তবে তারা আদালতের দ্বারস্থ হবে। আর আদালতই এ অর্থ ফেরতের সময়, স্থান ও পদ্ধতি নির্ধারণ করবেন।
তবে বিশ্লেষকদের মতে, কেবল অর্থ ফেরত দেয়াই প্রেসিডেন্টের জন্য একমাত্র মাথাব্যথার কারণ নয়। ভবিষ্যতের শুল্কহার কেমন হবে, তা নিয়েও যুক্তরাষ্ট্রের অনেক বাণিজ্যিক অংশীদার দেশ চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে। এরই মধ্যে গত মঙ্গলবার থেকে বিশ্বজুড়ে আমদানীকৃত পণ্যের ওপর ১০ শতাংশ নতুন শুল্ক কার্যকর করেছেন ট্রাম্প। প্রাথমিকভাবে এ নতুন শুল্ক ব্যবস্থা ১৫০ দিন পর্যন্ত স্থায়ী হবে বলে জানানো হয়েছে। পাশাপাশি এ হার ১৫ শতাংশে উন্নীত করার হুমকি দিয়ে রেখেছেন তিনি।










