বিশ্বের শীর্ষ দুই অর্থনৈতিক পরাশক্তি যুক্তরাষ্ট্র ও চীন। নিজেদের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে একটি গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতায় পৌঁছেছে দুই দেশ। সংবেদনশীল নয় এমন প্রায় ৬০ বিলিয়ন বা ৬ হাজার কোটি ডলারের পণ্যে শুল্কছাড়ের জন্য একটি বিশেষ বাণিজ্য চুক্তি করতে সম্মত হয়েছেন উভয় দেশের রাষ্ট্রপ্রধানরা। খবর এফটি।
‘থার্টি-ফর-থার্টি’ নামে পরিচিত এ কাঠামোর আওতায় দুই দেশ অন্য দেশ থেকে ৩০ বিলিয়ন বা ৩ হাজার কোটি ডলার সমমূল্যের পণ্য কম শুল্কে আমদানি করতে পারবে। অর্থনৈতিক সম্পর্কের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা ও দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সহজ করাই এ উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি কার্যালয় ও চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় যৌথভাবে গতকাল চুক্তির ঘোষণা দেয়। সমঝোতাটির ফলে দুই দেশের মধ্যকার চলমান শুল্ক যুদ্ধের বিরতি আরো দুই মাস বাড়িয়ে ২০২৭ সালের ১০ জানুয়ারি পর্যন্ত বাড়াতে একমত হয়েছে উভয় দেশ।
চীনা বাণিজ্যিক প্রতিনিধিরা জানান, এ চুক্তি যুক্তরাষ্ট্রে চীনের রফতানিকারকদের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি করবে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের কৃষক, প্রস্তুতকারক ও ব্যবসায়ীদের জন্য চীনে বাজার নিশ্চিত করবে। আমদানি ও রফতানির এ তালিকায় বেশকিছু পণ্যের নাম উঠে এসেছে। চীনের করা তালিকার মধ্যে ১ হাজার ৬১৯টি মার্কিন পণ্য রয়েছে। এর মধ্যে হাঁসের কলিজা (ফোয়া গ্রা), খরগোশের পশম, প্রজননের জন্য ব্যবহৃত তিমি, ডলফিন ও উটের মতো কৃষি ও প্রাণিজ পণ্য রয়েছে। এছাড়া কয়লাভিত্তিক পণ্য ও আল্ট্রাসাউন্ডের চিকিৎসাসামগ্রীও এ তালিকার অংশ।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের তালিকায় ৭৭টি চীনা পণ্য অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এসব পণ্যের মধ্যে রয়েছে শিশুদের গাড়ির আসন, ইলেকট্রিক শেভার, মাছ ধরার বড়শি ও শুটিংয়ের জন্য কাদার তৈরি পাত্র।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পুনরায় ক্ষমতা গ্রহণের পর চীনের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর ওপর জোর দিয়ে আসছেন। মার্কিন প্রশাসন জানায়, ২০২৪ সালে চীনের সঙ্গে দেশটির বাণিজ্য ঘাটতি ছিল ২৯ হাজার ৭০০ কোটি ডলার। তবে সাম্প্রতিক নীতিগুলোর ফলে ঘাটতি প্রায় ৪০ শতাংশ কমে এখন ১৪ হাজার কোটি ডলারে নেমে এসেছে।










