চীনের পূর্বাঞ্চলীয় নানজিং শহরের সাবেক ওই কর্মকর্তার নাম ইয়াং ইউলিন। সোমবার জিয়াংসু প্রদেশের চ্যাংঝৌ ইন্টারমিডিয়েট পিপলস কোর্ট এক বিবৃতিতে এ রায় ঘোষণা করেন। সাম্প্রতিক বছরগুলোয় চীনের সবচেয়ে বড় দুর্নীতি মামলার একটি হিসেবে দেখা হচ্ছে এটিকে। খবর আল জাজিরা।

আদালতের তথ্যানুযায়ী, ইয়াং ইউলিন ১৯৯৩-২০২৩ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ ৩০ বছর বিভিন্ন সরকারি পদে দায়িত্বে ছিলেন। এ সময় তিনি ক্ষমতার অপব্যবহার করে অবৈধভাবে বিপুল পরিমাণ অর্থ ও সম্পত্তি হাতিয়ে নেন। বিভিন্ন সংস্থাকে প্রকল্প পাইয়ে দেয়া, ব্যবসায়িক সুবিধা প্রদান, জমি বরাদ্দ ও ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল বা চলতি মূলধন পেতে সহায়তার বিনিময়ে তিনি বিশাল অংকের ঘুস গ্রহণ করেছিলেন বলে মামলায় উল্লেখ আছে।

ঘুস নেয়া ছাড়াও ইয়াংয়ের বিরুদ্ধে বেশকিছু গুরুতর অভিযোগ প্রমাণ হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সরকারি তহবিল আত্মসাৎ, অন্যকে ঘুস দেয়া, সরকারি অর্থের অপব্যবহার, ক্ষমতার অপব্যবহার ও মানি লন্ডারিং বা অর্থ পাচার। বিপুল পরিমাণ অর্থের সম্পৃক্ততা থাকায় মামলাটি বেশ আলোচিত ছিল।

ইয়াং ইউলিনের যাবতীয় ব্যক্তিগত সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হবে বলে জানান আদালত।

একই সঙ্গে তিনি ঘুষের মাধ্যমে যে পরিমাণ অর্থ নিয়েছেন, তার পুরোটা উদ্ধার করার জন্য কর্তৃপক্ষ চেষ্টা চালাবে। গত মার্চ ও এপ্রিলে দুদিন ধরে মামলাটির গণশুনানি অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে ৩০ জনেরও বেশি মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের দীর্ঘদিনের দুর্নীতিবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে ইয়াংয়ের বিরুদ্ধে তদন্ত চালানো হয়। তবে সমালোচকদের মতে, শি জিনপিং এ অভিযানকে নিজের রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের সরিয়ে দেয়ার হাতিয়ার হিসেবেও ব্যবহার করছেন।

চীনে দুর্নীতির দায়ে মৃত্যুদণ্ড পাওয়ার ঘটনা এটিই প্রথম নয়। এর আগে ২০২১ সালে লাই শিয়াওমিন নামে একটি রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের পার্টি সেক্রেটারিকে ঘুষ, আত্মসাৎ ও বহুবিবাহের অপরাধে মৃত্যুদণ্ড ও তা কার্যকর করা হয়।