চলতি বছরের প্রথম আট মাসে যুক্তরাষ্ট্রের তাপীয় কয়লা রফতানি বেড়ে পাঁচ বছরের সর্বোচ্চে পৌঁছেছে। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় রফতানি বেড়েছে ২০ শতাংশ। চীন, ভারত, দক্ষিণ কোরিয়াসহ প্রধান বাজারগুলোয় জ্বালানিটির ব্যাপক চাহিদা রফতানিতে এমন প্রবৃদ্ধি এনে দিয়েছে। খবর রয়টার্স।
বিদ্যুৎ উৎপাদনে তাপীয় কয়লা ব্যবহার হয়। জাহাজের তথ্য পরিষেবাদাতা প্রতিষ্ঠান কেপলার জানায়, জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র ২ কোটি ২৫ লাখ টন তাপীয় কয়লা রফতানি করে। ২০১৮ সালের পর আট মাসে দেশটি এ পরিমাণ তাপীয় কয়লা আর কখনো রফতানি করেনি। গত বছরের একই সময় রফতানির পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৮৩ লাখ টন।
আট মাসে শীর্ষ তাপীয় কয়লা রফতানিকারক দেশগুলোর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের রফতানি সর্বাধিক বেড়েছে। এক্ষেত্রে দেশটি রফতানিতে প্রথম স্থানে থাকা ইন্দোনেশিয়াকেও ছাড়িয়ে গেছে। এ সময় দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশটির রফতানি ২০২২ সালের প্রথম আট মাসের তুলনায় ১৫ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়েছে।
জ্বীবাশ্ম জ্বালানি থেকে সৃষ্ট কার্বন নিঃসরণ কমাতে জোর প্রচেষ্টা চালাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। ফলে দেশটির কয়লা রফতানি বাড়লেও বিদ্যুৎ উৎপাদনে স্থানীয় ব্যবহার কমছে। ২০১০ সালের পর থেকে এখন পর্যন্ত দেশটির কয়লাচালিত বিদ্যুৎ উৎপাদন কমেছে ৫০ শতাংশ। ব্যবহার কমলেও রফতানি বাড়ানোর মধ্য দিয়ে দেশটি বৈশ্বিক কার্বন নিঃসরণে ভূমিকা রাখছে বলে অভিযোগ করেছেন পরিবেশবাদীরা।
মার্কিন কয়লার সবচেয়ে বড় বাজার এশিয়া। আট মাসে মোট রফতানির ৪৮ শতাংশই সরবরাহ করা হয়েছে এ অঞ্চলের দেশগুলোয়, যার পরিমাণ থেকে ১ কোটি ৬ লাখ টন। এর মধ্যে ৭০ লাখ টন ভারতে, ১৩ লাখ টন জাপানে, ১১ লাখ টন চীনে ও ছয় লাখ টন দক্ষিণ কোরিয়ায় রফতানি করা হয়েছে।
অন্যদিকে, মোট রফতানির ২৬ দশমিক ৬ শতাংশ সরবরাহ করা হয় ইউরোপের বাজারে। এ অঞ্চলে মার্কিন তাপীয় কয়লার শীর্ষ ক্রেতা নেদারল্যান্ডস। আট মাসে দেশটি যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি করেছে ৩২ লাখ টন। ইউরোপের উল্লেখযোগ্য ক্রেতাদের মধ্যে জার্মানি ১০ লাখ, স্পেন ৭ লাখ ১২ হাজার ও পোল্যান্ড ২ লাখ ১৭ হাজার টন আমদানি করে। অন্য বাজারগুলোর মধ্যে মিসর ১৯ লাখ, মরক্কো ১০ লাখ ও ডোমিনিকান রিপাবলিক ৬ লাখ ৬২ হাজার টন কয়লা আমদানি করে।
প্রসঙ্গত, ২০২২ সালে কয়লার বৈশ্বিক ব্যবহার বেড়ে ইতিহাসের সর্বোচ্চে পৌঁছায়। চলতি বছরও ব্যবহার রেকর্ড উচ্চতা অবস্থান করবে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের দেশগুলোয় ব্যবহার কমলেও এশিয়ায় জ্বালানির ব্যবহার বাড়বে লক্ষণীয় মাত্রায়। বৈশ্বিক ব্যবহার বৃদ্ধিতে অঞ্চলটি প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করবে। আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ) সম্প্রতি এক প্রতিবেদনে এ পূর্বাভাস দেয়।
কয়লা বাজারবিষয়ক ষান্মাসিক প্রতিবেদনটিতে আইইএ জানায়, ২০২২ সালে বিশ্বজুড়ে ৮৩০ কোটি টন কয়লা ব্যবহার হয়েছিল, যা ২০২১ সালের তুলনায় ৩ দশমিক ৩ শতাংশ বেশি। বিশ্বের ইতিহাসে কখনো এক বছরে এত বেশি কয়লা ব্যবহার হয়নি।
২০২৩ ও ’২৪ সালে শিল্প খাতে জ্বালানিটির ব্যবহার ব্যাপক বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে কয়লাচালিত বিদ্যুৎ উৎপাদনে এর ব্যবহার কিছুটা কমার আশঙ্কা করছে আইইএ। সংস্থার প্রতিবেদনে বলা হয়, ভৌগোলিক অঞ্চলভেদে জ্বালানিটির ব্যবহারে বিস্তর বৈচিত্র্য পরিলক্ষিত হতে পারে।
২০২৩ সালে বিশ্বজুড়ে প্রতি চার টনে তিন টন কয়লাই ব্যবহার হবে চীন, ভারত ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোয়। ২০২২ সালে ইউরোপের দেশগুলোয় শিল্প খাতে কয়লার ব্যবহার ছিল তুলনামূলক কম। দেশটির কয়লাচালিত বিদ্যুৎ খাতেও ব্যবহার বেড়েছিল সাময়িকভাবে। ফলে ওই বছর অঞ্চলটিতে কয়লার চাহিদা ছিল যৎসামান্য।










