ইন্টারন্যাশনাল গ্রেইন কাউন্সিল (আইজিসি) ২০২৪-২৫ বিপণনবর্ষে বিশ্বব্যাপী শস্য উৎপাদনের পূর্বাভাস সংশোধন করেছে। গত মাসে দেয়া পূর্বাভাসের তুলনায় ৬০ লাখ টন কম শস্য উৎপাদন হতে পারে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। তবে পূর্বাভাস সংশোধনের পরও ২০২৪-২৫ বিপণনবর্ষে বিশ্বব্যাপী রেকর্ড শস্য উৎপাদনের সম্ভাবনা দেখছে আইজিসি। বৃহস্পতিবার প্রকাশিত গ্রেইন মার্কেট প্রতিবেদনে সংস্থাটি এসব তথ্য জানায়। খবর দ্য ওয়ার্ল্ড গ্রেইন ডট কম।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) দেশগুলো বিশ্বের শীর্ষ শস্য উৎপাদনকারী। ২০২৪-২৫ বিপণন বর্ষে এ দেশগুলোয় উৎপাদন কমার সম্ভাবনায় বিশ্বব্যাপী মোট শস্য উৎপাদন পূর্বাভাস সংশোধন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে আইজিসি।
প্রতিবেদনে সংস্থাটি জানায়, ২০২৪-২৫ বিপণনবর্ষে বিশ্বব্যাপী শস্য উৎপাদন পৌঁছতে পারে রেকর্ড ২ হাজার ৩১ কোটি ৫০ লাখ টনে। গত বছর যা ছিল রেকর্ড ২ হাজার ২৯ কোটি ৯০ লাখ টন।
পূর্বাভাসে আইজিসি আরো জানায়, ২০২৪-২৫ বিপণন বর্ষে বিশ্বব্যাপী রেকর্ড ৫২ কোটি ৮০ লাখ টন চাল উৎপাদন হতে পারে। এর আগে জুলাইয়েও একই পূর্বাভাস দিয়েছিল সংস্থাটি। এ সময় ভুট্টা উৎপাদন ১০ লাখ টন বেড়ে রেকর্ড ১ হাজার ২২ কোটি ৬০ লাখ টনে পৌঁছতে পারে। অন্যদিকে এ সময় বিশ্বব্যাপী গম উৎপাদন ২০ লাখ টন কমে নেমে যেতে পারে ৭৯ কোটি ৯০ লাখ টনে।
আইজিসি বিশ্বব্যাপী মোট শস্য ব্যবহারের পূর্বাভাসও সংশোধন করেছে। ২০২৪-২৫ বিপণনবর্ষে বিশ্বব্যাপী শস্য ব্যবহারের পূর্বাভাস কিছুটা কমিয়ে ২ হাজার ৩২ কোটি ১০ লাখ টন হতে পারে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
প্রতিবেদনে আইজিসি আরো জানায়, বছরের শুরুতে শস্যের মজুদ কমে যাওয়ায় ২০২৪-২৫ বিপণনবর্ষে সমাপনী মজুদও কমে যেতে পারে। এ সময় সমাপনী মজুদ ৫০ লাখ টন কমে ৫৮ কোটি ১০ লাখ টনে নেমে যেতে পারে। এছাড়া এ সময় প্রধান রফতানিকারক দেশগুলো শস্য রফতানি কমাতে পারে। আইজিসির দেয়া পূর্বাভাস প্রমাণিত হলে ২০২৪-২৫ বিপণনবর্ষে বিশ্বব্যাপী সমাপনী মজুদ গত ১০ বছরে সর্বনিম্নে নেমে যেতে পারে।
বিশ্বব্যাপী সয়াবিন উৎপাদন ২০২৪-২৫ বিপণনবর্ষে ৪০ লাখ টন বেড়ে ৪১ কোটি ৯০ লাখ টনে পৌঁছতে পারে, যা গত বিপণনবর্ষের তুলনায় ৭ শতাংশ বেশি।
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের পর বৈশ্বিক খাদ্যশস্য উৎপাদন ও রফতানি নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছিল। এমনকি সেসময় খাদ্যশস্যের দামও উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বেড়ে গিয়েছিল। তবে কৃষ্ণ সাগরীয় দেশগুলোর ব্ল্যাক সি গ্রেইন ইনিশিয়েটিভের কারণে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ খাদ্যশস্য আমদানি-রফতানিতে তেমন প্রভাব ফেলতে পারেনি।
ব্ল্যাক সি গ্রেইন ইনিশিয়েটিভ হলো রাশিয়া, ইউক্রেন, কাজাখস্তানসহ কৃষ্ণ সাগরীয় অঞ্চলের অন্য দেশগুলোর মধ্যে কৃষি উন্নয়ন ও সহযোগিতামূলক একটি উদ্যোগ। এ উদ্যোগের আওতায় কৃষি উৎপাদন ও বাণিজ্য বৃদ্ধি, গবেষণা পরিচালনা এবং তথ্য বিনিময়ে পারস্পরিক সহযোগিতার আশ্বাস দেয়া হয়। তবে বৈশ্বিক শস্য রফতানিতে দেশগুলোর বাজার সম্প্রসারণই এ উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য।










