লম্বা সময় ধরেই কৃষ্ণসাগরীয় রফতানি রুট অবরুদ্ধ। তার ওপর রুশ সামরিক বাহিনী ইউক্রেনের খাদ্যশস্য সংরক্ষণ ও রফতানি অবকাঠামোয় নিয়মিত হামলা চালাচ্ছে। এটি অব্যাহত থাকলে আগামী বছরগুলোয় দেশটির গম উৎপাদন স্থানীয় ও রফতানি চাহিদা মেটাতে ব্যর্থ হবে বলে সতর্ক করেছে জাতিসংঘের ওয়ার্ল্ড ফুড প্রোগ্রাম (ডব্লিউএফপি)।

জাতিসংঘের হিউম্যান রাইটস অফিসের এক প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে ডব্লিউএফপি ইউক্রেনের কান্ট্রি ডিরেক্টর ম্যাথিউ হলিংওর্থ বলেন, ‘‌চলতি বছরের জুলাইয়ের মাঝামাঝি সময়ের পর থেকে এখন পর্যন্ত ইউক্রেনের খাদ্যশস্য উৎপাদন ও রফতানি অবকাঠামোর ওপর ৩১টি স্বীকৃত হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। এর মধ্যে ২৮টি হামলার ঘটনা ঘটেছে ওডেসায়। ওডেসা বন্দর কৌশলগত দিক দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বন্দর। কৃষ্ণ সাগর দিয়ে ইউক্রেনের শস্য রফতানির জন্য এ বন্দর খুবই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ। সেখানে একের পর এক হামলা দেশটির শস্য রফতানিকে বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে ফেলেছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘‌খাদ্য অবকাঠামোয় হামলা ও সামুদ্রিক রফতানি রুটে অবরোধ অব্যাহত থাকলে তা আগামী বছরগুলোয় দেশটির কৃষিপণ্য উৎপাদন ব্যাপকভাবে ব্যাহত করবে। পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করলে স্থানীয় ও রফতানি চাহিদা মেটাতে ব্যর্থ হবে দেশটি।

ইউক্রেনের কৃষি মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, ২০২৩-২৪ বিপণন মৌসুমের (জুলাই-জুন) এখন পর্যন্ত দেশটির খাদ্যশস্য রফতানি কমেছে। রফতানির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৯৮ লাখ টনে, গত বছরের একই সময়ে যা ছিল ১ কোটি ৪৩ লাখ টন। এর মধ্যে ৪৯ লাখ টন গম, ৪১ লাখ টন ভুট্টা, সাত লাখ টন যব রফতানি করা হয়েছে। গত মৌসুমের একই সময়ে ইউক্রেন ৫৪ লাখ টন গম, ৭৭ লাখ টন ভুট্টা ও ১২ লাখ টন যব রফতানি হয়েছিল।

ইউক্রেন ও রাশিয়া বিশ্বের শীর্ষ খাদ্যশস্য রফতানিকারক। এছাড়া বিশ্বের নেতৃস্থানীয় সার রফতানিকারক রাশিয়া। দেশ দুটির মধ্যে চলমান সংঘাতের কারণে বিশ্বজুড়ে খাদ্য সংকট প্রকট হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে জাতিসংঘ।