মালয়েশিয়ার পাম অয়েল উৎপাদন পূর্বাভাস কমেছে। ২০২৩ সালে পণ্যটির উৎপাদনের পরিমাণ ১ কোটি ৭৯ লাখ থেকে ১ কোটি ৮৫ লাখ টনের মধ্যে থাকার সম্ভাবনা দেখছেন খাতসংশ্লিষ্টরা। সম্প্রতি মালয়েশিয়ান পাম অয়েল বোর্ডের (এমপিওবি) এক দ্বিবার্ষিক অনুষ্ঠানে এ তথ্য উঠে এসেছে। খবর এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল।

প্রাথমিক পূর্বাভাসে ২০২৩ সালে মালয়েশিয়ায় ১ কোটি ৯০ লাখ টন পাম অয়েল উৎপাদনের প্রত্যাশা করা হয়েছিল। তবে বছরের শেষ প্রান্তিকে এসে দেশটির পাম অয়েল বোর্ড পূর্বাভাস সংশোধন করে বলছে, চলতি বছর উৎপাদনের পরিমাণ দাঁড়াতে পারে ১ কোটি ৮৫ লাখ টনে। প্রাথমিক পূর্বাভাস থেকে কম হলেও এটি ২০২২ সালের মোট উৎপাদন ১ কোটি ৮৪ লাখ টনের চেয়ে সামান্য বেশি রয়েছে।

এমপিওবি আরো জানিয়েছে, শক্তিশালী চাহিদা ও সীমিত সরবরাহের কারণে চলতি বছরের শেষ নাগাদ পাম অয়েলের দাম বেড়ে দাঁড়াতে পারে টনপ্রতি ৮৫৬ ডলার ৭৫ সেন্টে বা ৪ হাজার রিঙ্গিতে।

দেশটির পাম অয়েল বোর্ডের পরিচালক গোলাম কাদির বলেন, ‘‌সাম্প্রতিক বছরগুলোয় মালয়েশিয়াজুড়ে গড় পুনঃরোপণের হার ছিল প্রায় ২ শতাংশ, যা এমপিওবির প্রস্তাবিত ৪ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রার অর্ধেক। তিনি আরো জানান, গত দুই বছর পাম অয়েলের খুব ভালো দাম পাওয়া গেছে। তাই চাষীরা পুরনো গাছ কেটে সাময়িকভাবে উৎপাদন হারানোর ঝুঁকি নিতে রাজি হচ্ছেন না।

বিশ্বে পাম অয়েল উৎপাদনে ইন্দোনেশিয়ার পরেই মালয়েশিয়ার অবস্থান। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে দ্বিতীয় শীর্ষ পাম অয়েল উৎপাদক এ দেশের বড় সমস্যা হয়ে উঠেছে বন্যা। এর সঙ্গে বিদেশী শ্রমিকদের ওপর কৃষি খাত নির্ভরশীল থাকায় শ্রমিকদের লম্বা ছুটির সময় উৎপাদন কার্যক্রম মন্থর হয়ে পড়ে। এসব বিষয়ও এ বছর দেশটির পাম অয়েল উৎপাদন পূর্বাভাস কমাতে প্রভাবক হিসেবে কাজ করেছে বলে মনে করেন গোলাম কাদির।

এদিকে পাম অয়েল পরিশোধনকারীদের সংগঠন পাম অয়েল রিফাইনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব মালয়েশিয়া (পোরাম) মনে করছে, বার্ষিক উৎপাদন ১ কোটি ৭৯ লাখ টনে নেমে আসতে পারে। পুরনো বয়স্ক পাম গাছের ফলন কমে যাওয়ায় উৎপাদন কমেছে বলে মনে করছে সংগঠনটি।

পোরামের সিইও এ ফাদজলি আবদুল আজিজ অনুষ্ঠানে জানান, গত বছর মালয়েশিয়ার ৫৯ লাখ হেক্টর জমিতে পাম অয়েল আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে ২০ লাখ ৯০ হাজার হেক্টর জমিতে পুরনো গাছ ছিল। পুরনো গাছগুলোর ফলন ক্ষমতা কমে আসায় এসব জমিতে নতুন চারা রোপণ প্রয়োজন।