মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট জানিয়েছেন, ভেনিজুয়েলার জ্বালানি তেল বিক্রি সহজ করতে আগামী সপ্তাহেই দেশটির ওপর আরোপিত অতিরিক্ত কিছু নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে পারে যুক্তরাষ্ট্র। এছাড়া আগামী সপ্তাহে ভেনিজুয়েলা ইস্যুতে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ও বিশ্বব্যাংকের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে তার। খবর রয়টার্স।
এক সাক্ষাৎকারে স্কট বেসেন্ট বলেন, ‘বর্তমানে ভেনিজুয়েলার প্রায় ৫০০ কোটি ডলারের সমপরিমাণ আইএমএফের স্পেশাল ড্রয়িং রাইটস (এসডিআর) সম্পদ অবরুদ্ধ অবস্থায় রয়েছে, যা দেশটির অর্থনীতি পুনর্গঠনে ব্যবহার করা যেতে পারে।’
একই সঙ্গে তিনি জানান, ভেনিজুয়েলার জ্বালানি তেল বিক্রির ওপর থেকে কিছু মার্কিন নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়া হবে। জ্বালানি তেল বিক্রির সেই অর্থ কীভাবে ভেনিজুয়েলার সরকার, নিরাপত্তা বাহিনী ও জনগণের কাছে পৌঁছানো যায় তা নিয়েও ভাবা হচ্ছে।
আগামী সপ্তাহ নাগাদ সিদ্ধান্ত আসতে পারে জানালেও কোন কোন নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়া হবে, তা নির্দিষ্ট করেননি মার্কিন অর্থমন্ত্রী।
সপ্তাহ খানেক আগে মার্কিন বাহিনী রাজধানী কারাকাসে অভিযান চালিয়ে ভেনিজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে নিউ ইয়র্কে তুলে নিয়ে যায়, যেখানে তার বিরুদ্ধে মাদক পাচারের অভিযোগে বিচার চলছে।
মার্কিন নিষেধাজ্ঞার ফলে আন্তর্জাতিক ব্যাংক ও অন্যান্য ঋণদাতারা বিশেষ লাইসেন্স ছাড়া ভেনিজুয়েলার সরকারের সঙ্গে লেনদেন করতে পারছে না। এসব প্রতিষ্ঠান বলছে, এ বিধিনিষেধের কারণে প্রায় ১৫ হাজার কোটি ডলারের জটিল ঋণ পুনর্গঠন প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
গত শুক্রবার সন্ধ্যায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেন, যার মাধ্যমে মার্কিন ট্রেজারি অ্যাকাউন্টে রাখা ভেনিজুয়েলার জ্বালানি তেল আয়ের অর্থ আদালত বা ঋণদাতাদের জব্দ করা থেকে বিরত রাখা হয়। আদেশে বলা হয়, এ অর্থ ভেনিজুয়েলায় ‘শান্তি, সমৃদ্ধি ও স্থিতিশীলতা’ গড়ে তুলতে সংরক্ষিত থাকবে।
স্কট বেসেন্ট আরো জানান, ভেনিজুয়েলার বিষয়ে এরই মধ্যে তার সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংক।
ভেনিজুয়েলার কাছে বর্তমানে প্রায় ৩৫৯ কোটি এসডিআর রয়েছে, যা গত শুক্রবারের বিনিময় হারে প্রায় ৪৯০ কোটি ডলারের সমতুল্য। তবে এ সম্পদে দেশটি এখনো প্রবেশাধিকার পাচ্ছে না।
আইএমএফের এক মুখপাত্র জানিয়েছে, সংস্থাটি ভেনিজুয়েলার পরিস্থিতি ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। তবে স্কট বেসেন্টের সঙ্গে বৈঠক-সংক্রান্ত প্রশ্নে তিনি কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান।
বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানিয়েছে, ঋণদাতা সংস্থাটি ভেনিজুয়েলাকে কীভাবে সহায়তা করা যায়, বিষয়টি এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে বিবেচনা করছে। সূত্রটি উল্লেখ করে, সরকার পরিবর্তনের পর আফগানিস্তান ও সিরিয়ায় বিশ্বব্যাংক দ্রুত সহায়তা শুরু করেছিল, একইভাবে গাজা ও ইউক্রেনেও প্রাথমিক সহায়তা দিয়েছে। ভেনিজুয়েলার ক্ষেত্রেও বিষয়গুলো পর্যালোচনা করা হচ্ছে।










