জানুয়ারিতে প্রকাশিত যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক হিনডেনবার্গ রিসার্চের প্রতিবেদনে আদানি গ্রুপের বিরুদ্ধে বিভিন্ন গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। ভারতের অন্যতম বড় কোম্পানির বিরুদ্ধে জালিয়াতি, শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রণ ও ট্যাক্স হেভেনের অবৈধ ব্যবহারের অভিযোগ উঠে আসে প্রতিবেদনটিতে। এর পরে প্রতিষ্ঠানটির ওপর বিনিয়োগকারীদের আস্থা ক্রমেই নষ্ট হতে থাকে। তবে বর্তমানে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে হিনডেনবার্গ রিসার্চে প্রকাশিত অভিযোগ খণ্ডনের জন্য সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালাচ্ছে আদানি গ্রুপ। খবর দ্য ন্যাশনাল।
আদানি গ্রুপের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের তদন্ত করছে ‘সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ বোর্ড অব ইন্ডিয়া (এসইবিআই)’। এ তদন্তের ফলাফলের জন্য বিনিয়োগকারীরা অপেক্ষা করছেন। মুম্বাইভিত্তিক ল্যাডারআপ ওয়েলথ ম্যানেজমেন্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাঘবেন্দ্র নাথ বলেন, ‘তদন্তের ফলাফল আদানি গ্রুপ ও শেয়ারবাজার উভয়ের ওপরই বড় প্রভাব ফেলবে। প্রভাবটি ভালো হতে পারে কিংবা বিধ্বংসীও হতে পারে। তদন্তে কী বের হয়ে আসছে, তার ওপর এটি নির্ভর করছে। আপাতত শেয়ারবাজার এ ব্যাপারে সজাগ দৃষ্টি রাখছে।’
হিনডেনবার্গ রিসার্চের প্রতিবেদনে উত্থাপিত সব অভিযোগ অস্বীকার করেছে আদানি গ্রুপ। প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ার পর থেকেই উদ্বিগ্ন বিনিয়োগকারীদের নিশ্চিন্ত করার সচেতন প্রচেষ্টা চালাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। হিনডেনবার্গের দাবির কারণে বিনিয়োগকারীরা আতঙ্কিত হয়ে গিয়েছিল। ফলে ফেব্রুয়ারির মধ্যেই আদানি গ্রুপের মার্কেট ভ্যালু ১৫ হাজার কোটি ডলার কমে গিয়েছিল। তবে মার্চের শুরুতেই যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগকারী কোম্পানি ‘জিকিউজি পার্টনারস’ আদানি গ্রুপের চারটি প্রতিষ্ঠানে ১৮৭ কোটি ডলার বিনিয়োগ করেছে। ভারতের বিনিয়োগকারী ব্যাংক ‘রিসার্জেন্ট ইন্ডিয়া’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক জ্যোতিপ্রকাশ গাদিয়া বলেন, ‘নিজেদের বিশ্বাসযোগ্যতা পুনরুদ্ধারের জন্য আদানি গ্রুপ চেষ্টা করছে। বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনার জন্য তারা পদক্ষেপ নিচ্ছে।’ তবে হিনডেনবার্গ রিসার্চের অত্যধিক প্রভাবের কারণে আদানি গ্রুপের এসব প্রচেষ্টা খুব কমই সাফল্য পাচ্ছে।
স্টেকব্রোকার ‘স্টকবক্স’-এর হেড অব রিসার্চ মনীষ চৌধুরী বলেন, ‘চতুর্থ প্রান্তিকে অধিকাংশ গ্রুপ কোম্পানি ভালো ব্যবসা করেছে। কিন্তু তারা দীর্ঘ সময় তাদের এ সাফল্য ধরে রাখতে পারবে কিনা সে ব্যাপারে শেয়ারবাজারের বিনিয়োগকারীরা আশ্বস্ত নন।’ ফলে শেয়ারের মূল্য সম্পূর্ণ পুনরুদ্ধারের জন্য আদানি গ্রুপকে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হবে। গত সপ্তাহে পরিস্থিতি আরো খারাপ হয়। এমএসসিআই গ্লোবাল স্ট্যানডার্ড ইনডেক্স থেকে আদানি গ্রুপের দুটি প্রতিষ্ঠান আদানি ট্রান্সমিশন ও আদানি টোটাল গ্যাসকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে। ফলে শুক্রবার সকালের মধ্যে গ্রুপটির মার্কেট ভ্যালু ১ হাজার কোটি ডলারের বেশি কমে গেছে।
আদানি গ্রুপের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের তদন্তের ফলাফল ২ মে সুপ্রিম কোর্টে দাখিলের কথা ছিল। কিন্তু সর্বোচ্চ আদালত থেকে আরো ছয় মাস সময় চেয়ে নিয়েছে এসইবিআই।










