লন্ডনে বাড়ি তৈরি হওয়ার আগেই সাধারণত বিক্রি হয়ে যায়। এ পদ্ধতিতে বাড়ি বিক্রির রীতিকে বলা হয় প্রি-সেলস বা আগাম বিক্রি। তবে অতি প্রচলিত এ প্রবণতা বর্তমানে কমতে শুরু করেছে। ক্রমেই শহরের বাড়ি কেনার প্রতি আগ্রহ হারাচ্ছেন ক্রেতারা। একই সঙ্গে বিনিয়োগকারীরা অধিক মুনাফার প্রত্যাশায় রাজধানী শহরের বাইরে গিয়ে বাড়ি কেনার প্রতি আগ্রহ দেখাচ্ছেন। খবর ব্লুমবার্গ।
ব্রোকার হ্যাম্পটনস ইন্টারন্যাশনালের প্রতিবেদন বলছে, লন্ডন শহরে আগাম নতুন বাড়ি বিক্রির হার বছরওয়ারি ৪৪ শতাংশ কমেছে। যেখানে ২০১৬ সালে আগাম বাড়ি বিক্রির হার ছিল ৭১ শতাংশ। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আগাম বাড়ি বিক্রির বাজার থেকে বিনিয়োগকারীদের প্রস্থানই এর সবচেয়ে বড় কারণ। এসব বিনিয়োগকারীর মনোযোগ এখন অন্যদিকে সরে গেছে। ইংল্যান্ডের নর্থওয়েস্টের মতো অধিক মুনাফার অঞ্চলের দিকে তাদের মনোযোগ বাড়ছে। বর্তমানে অঞ্চলটিতে অগ্রিম বাড়ি বিক্রির হার লন্ডনের তুলনায় অনেক বেশি।
হ্যাম্পটনের একজন জ্যেষ্ঠ অ্যানালিস্ট ডেভিড ফেল বলেন, ‘রাজধানীতে বাড়ির দাম যেভাবে বাড়ছে, সেই সংখ্যাটা ২০১৬ সালের তুলনায় পিছিয়ে পড়ছে। তার মানে দাঁড়ায় তারা আরো বেশি উত্তরের দিকে ঝুঁকছে। তিনি যোগ করেন, উচ্চসুদহার এভাবে সরে যাওয়ার প্রবণতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখতে পারে। ফলে সস্তা জায়গাগুলোয় আরো বেশি বিনিয়োগ দেখা যাচ্ছে।
যুক্তরাজ্যের হাউজিং মার্কেট এখন দুই সংখ্যার উচ্চসুদহারের কারণে ব্যাঘাতের মুখে পড়েছে এবং জীবনযাত্রার ব্যয় মূলত সম্পদের দামের ক্ষেত্রে হুমকি তৈরি করেছে।
ইংল্যান্ড ও ওয়েলসজুড়ে বাড়ি তৈরির আগেই বিক্রি হওয়া নতুন বাড়ির শেয়ার ২০১৩ সালের পরে সর্বনিম্নে নেমেছে। হ্যাম্পটন জানিয়েছে, ২০১৬ সালের ৪৬ শতাংশের পরে তা ৩৪ শতাংশে নেমে আসে। একই সময়ে বিনিয়োগকারীদের আগে বিক্রি হওয়া বাড়ি কেনার হার ২০১৫ সালের ৭০ শতাংশ থেকে নেমে আসে ২১ শতাংশে। তাছাড়া ২০১৬ সালে দ্বিতীয় বাড়ি কেনার ক্ষেত্রে দেয়া স্ট্যাম্প করের সারচার্জ চালু করার আগে বাড়ি কেনার হিড়িক পড়ে। এ ধরনের কর আরোপের পরে তা কমে আসে।
তার পরও এ অঞ্চলে আবার বিনিয়োগকারীদের শক্তিশালীভাবে ফিরে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। যেমন বার্মিংহাম, ব্রাইটন ও ম্যানচেস্টারে আগে বিক্রি হওয়া বাড়ির চাহিদা অনেক বেশি। এসব অঞ্চলে রেকর্ড ৫০ শতাংশ নতুন সম্পদ বিক্রি হয়েছে। এটা লন্ডনের জন্য একটি বড় ধাক্কা।
তবে তৈরির আগেই বাড়ি বিক্রি কমে যাওয়ার ফলে বিল্ডাররা বেশ উদ্বিগ্ন। এর আগে হেল্প টু বাই প্রোগ্রাম বন্ধ করে দেয়ার কারণেও তারা কিছুটা স্তব্ধ। তারা সাধারণত বাড়ি তৈরি করার জন্য যে ঋণ নেয় সেটা পরিশোধ করার ক্ষেত্রে প্রিসেলের টাকা ব্যবহার করে। এসব বিক্রি কিছুটা সংকটপূর্ণও, কারণ যখন সুদহার অনেক বেড়ে যায় তখন বেশি টাকা পরিশোধ করা ঠেকাতে তাদের বাড়ি তৈরি কমিয়ে দিতে হয়। হ্যাম্পটনের মতে, আগে বিক্রি হওয়া বাড়ি নিয়ে উদ্বিগ্ন থাকলে হাউজ বিল্ডাররা তাদের ঝুঁকি কমানোর জন্য অন্য কোনো পথ খুঁজবে।










