অভিযোগ, এনভিডিয়ার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) চিপ পাচারের অর্থে কেনা হয়েছে বাড়িটি। বহুল আলোচিত প্রাসাদটির মূল্য প্রায় ৪ কোটি ২০ লাখ ডলার বা প্রায় সাড়ে ৫ কোটি সিঙ্গাপুরি ডলার। গত বুধবার দেশটির কর্তৃপক্ষ এসব তথ্য নিশ্চিত করে। খবর বিবিসি।
কর্তৃপক্ষ জানায়, বাড়িটি কেনার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের অন্তত দুই-তৃতীয়াংশ অবৈধ আয় থেকে এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রের রফতানি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে এনভিডিয়ার উন্নত চিপ-সংবলিত সার্ভার চোরাচালানের অভিযোগে চলমান তদন্তের অংশ হিসেবে সম্পত্তিটি ক্রোক করা হয়েছে।
বিশ্ববাজারে এনভিডিয়ার এসব চিপের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ এর আগে সিঙ্গাপুরকে চীনের কাছে অবৈধ চালান পাঠানোর একটি প্রধান ট্রানজিট হাব হিসেবে চিহ্নিত করেছিল।
সিঙ্গাপুর পুলিশ জানায়, তদন্ত চলাকালীন যাতে সম্পত্তিটি বিক্রি করা না যায়, সেজন্য একটি নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। প্রাসাদটি সিঙ্গাপুরের বিখ্যাত বোটানিক গার্ডেনসের কাছে একটি অত্যন্ত ব্যয়বহুল ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় অবস্থিত।
সিঙ্গাপুরের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানায়, এ ঘটনায় মূল অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম ওয়েই ঝাওলুন। তিনি ‘অ্যালান ওয়েই’ নামেও পরিচিত। অ্যাপেরিয়া গ্রুপ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) তিনি। প্রতিষ্ঠানটি বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের কাছে সার্ভার ও অন্যান্য প্রযুক্তিগত হার্ডওয়্যার বিক্রি করে।
পুলিশের ভাষ্য, বাড়িটি কেনার জন্য ঝাওলুন ‘অপরাধের’ মাধ্যমে অর্জিত প্রায় ৩ কোটি ৮০ লাখ সিঙ্গাপুরি ডলার ব্যবহার করেছেন। মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মামলা করা হচ্ছে। এছাড়া ব্যাংক অ্যাকাউন্টে থাকা আরো প্রায় ১০ লাখ সিঙ্গাপুরি ডলার জব্দ করা হয়েছে।
তথ্য অনুযায়ী, মামলার সঙ্গে জড়িত জালিয়াতি ও অন্যান্য অপরাধের অভিযোগে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত ঝাওলুনসহ মোট চারজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে।
পুলিশ আরো জানায়, জালিয়াতির অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হলে চারজন ব্যক্তির সর্বোচ্চ ২০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে।
ব্যক্তিদের পাশাপাশি সিঙ্গাপুরভিত্তিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান লাক্সারিয়েট ইয়োর লাইফ ও অ্যাপেরিয়া গ্রুপের তিনটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধেও আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আনা হয়েছে।
সিঙ্গাপুরের পুলিশ বলছে, এ ধরনের তদন্তে কোনো করপোরেট বা প্রাতিষ্ঠানিক সত্তাকে অভিযুক্ত করার ঘটনা এটিই প্রথম।
উল্লেখ্য, চীন যেন সামরিক কাজে ব্যবহার করতে না পারে, সে উদ্বেগে ২০২২ সালে চিপ রফতানির ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয় ওয়াশিংটন। এর পর থেকেই যুক্তরাষ্ট্র ও সিঙ্গাপুর এনভিডিয়া চিপের অবৈধ চালানের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে।
২০২৫ সালে সিঙ্গাপুর কর্তৃপক্ষ জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের রফতানি নিয়ন্ত্রিত চিপ-সম্বলিত বেশকিছু সার্ভার সিঙ্গাপুর হয়ে অন্য দেশে পাঠানো হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে পরবর্তী সময় নির্দিষ্ট কিছু শর্ত মেনে চীনের কাছে এনভিডিয়ার নির্দিষ্ট কিছু সেমিকন্ডাক্টর বিক্রির অনুমোদন দেয় যুক্তরাষ্ট্র।










