ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের চলমান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই)।

সাম্প্রতিক পরিস্থিতি পর্যালোচনায় দেখা যাচ্ছে, চলমান সংঘাত বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার ও সামুদ্রিক বাণিজ্যে উল্লেখযোগ্য বিঘ্ন সৃষ্টি করেছে। মধ্যপ্রাচ্য বিশ্বব্যাপী অপরিশোধিত জ্বালানি তেল ও এলএনজি সরবরাহের একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস, সেখানে সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কায় আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের মূল্য প্রতি ব্যারেল মূল্য ১০০ মার্কিন ডলার ছাড়িয়েছে।

ঢাকা চেম্বার মনে করে, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য দীর্ঘমেয়াদে উচ্চ অবস্থানে থাকলে তা বাংলাদেশের বহিঃখাতের ওপর বেশ চাপ সৃষ্টি করতে পারে। বৈশ্বিক বাজারে তেলের দাম প্রতি ব্যারেল ১০ ডলার বৃদ্ধি পেলে বাংলাদেশের মাসিক আমদানি ব্যয় প্রায় ৭০-৮০ মিলিয়ন ডলার পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে। ফলে বৈদেশিক মুদ্রার চাহিদা বৃদ্ধি পাবে এবং বাণিজ্য ঘাটতি সম্প্রসারিত হওয়ার ঝুঁকি সৃষ্টি হতে পারে। এছাড়া হরমুজ প্রণালী রুটে দীর্ঘমেয়াদি সরবরাহ ব্যবস্থাপনায় কোনো বিঘ্ন দেখা দিলে বাংলাদেশের আমদানি-রফতানি কার্যক্রমে ফ্রেইট চার্জ, বীমা প্রিমিয়াম এবং পণ্য সরবরাহের সময়সীমা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বাংলাদেশের রফতানিমুখী শিল্পখাত, বিশেষ করে তৈরি পোশাক খাত, এই পরিস্থিতিতে উচ্চ লজিস্টিক ব্যয়, সরবরাহ চেইন বিঘ্ন এবং সমুদ্রপথে পরিবহনে বাড়তি ঝুঁকির সম্মুখীন। এছাড়া, আমাদের স্থানীয় রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কারণে গত ৭ মাসে রফতানি কমতে কমতে প্রায় তলানিতে ঠেকেছে। ডিসিসিআই মনে করে, সংঘাতের মাত্রা আরো বৃদ্ধি পেলে আমদানি ও রফতানি উভয় ক্ষেত্রেই ব্যয় আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে বৈশ্বিক এই অনিশ্চয়তার মধ্যেও এলএনজি, এলপিজি, ডিজেল, বিভিন্ন জ্বালানি বহনকারী ১০টিরও অধিক জাহাজ সম্প্রতি চট্টগ্রাম বন্দরে প্রবেশ করেছে, যা স্বল্পমেয়াদে কিছুটা আশাব্যঞ্জক চিত্র উপস্থাপন করেছে। সেই সঙ্গে দেশের অভ্যন্তরে তাৎক্ষণিক জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে সহায়ক ভূমিকা রাখছে।

ডিসিসিআই মনে করে, বর্তমান পরিস্থিতি এখনো অত্যন্ত অনিশ্চয়তাপূর্ণ এবং সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী ও ভৌগোলিকভাবে আরো বিস্তৃত হলে বাংলাদেশের অর্থনীতি একাধিক সামষ্টিক অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে পারে। এর মধ্যে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি, পরিবহন ও উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধির ফলে মূল্যস্ফীতির ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর চাপ বৃদ্ধি এবং মধ্যপ্রাচ্য থেকে প্রবাসী আয়ের প্রবাহে সম্ভাব্য বিঘ্ন ঘটাতে পারে। এ প্রেক্ষাপটে দেশের অর্থনীতিকে সম্ভাব্য ঝুঁকি থেকে সুরক্ষিত রাখতে ঢাকা চেম্বার সরকারের প্রতি প্রয়োজনীয় অগ্রিম ও কার্যকর নীতিগত পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানাচ্ছে।