কফি উৎপাদনে বিশ্বের শীর্ষ দেশগুলোর একটি ভিয়েতনাম। দেশটিতে সম্প্রতি কফি বিনের ঘাটতি দেখা দিয়েছে। এছাড়া ঊর্ধ্বমুখী দামের কারণে শস্য মৌসুমের শেষে এ দেশে কফির ব্যবসা কার্যক্রমে মন্থর গতি দেখা দিয়েছে। বৃহস্পতিবার দেশটির ব্যবসায়ীরা এ তথ্য জানিয়েছেন। খবর বিজনেস রেকর্ডার। 

ভিয়েতনামের বৃহত্তম কফি উৎপাদনকারী অঞ্চল সেন্ট্রাল হাইল্যান্ডস। চলতি সপ্তাহে এ অঞ্চলের প্রতি কেজি কফি বিন ১ লাখ ২২ হাজার (৪ ডলার ৮৫ সেন্ট) থেকে ১ লাখ ২৩ হাজার (৪ ডলার ৮৯ সেন্ট) ডংয়ে বিক্রি করেছে, এক সপ্তাহ আগে যার দাম ছিল কেজিপ্রতি ১ লাখ ২৩ হাজার থেকে ১ লাখ ২৩ হাজার ৫০০ ডং। 

এ বিষয়ে কফি বেল্টের এক ব্যবসায়ী বলেন, ‘‌এত বেশি দামে কেউ কফি কিনতে রাজি নয়। অতিরিক্ত দামের কারণে ইন্দোনেশিয়া থেকে কফি আমদানির দিকে ঝুঁকতে পারেন অন্যান্য দেশের ব্যবসায়ীরা। দেশে নতুন ফসল উঠতে এখনো দুই-তিন মাস বাকি। ততদিনে কফির ব্যবসায়িক কার্যক্রম আবার ভালো হয়ে উঠতে পারে।’

অন্যদিকে ভিয়েতনামে বুধবার পর্যন্ত রোবাস্তা কফির দাম ৯৬ ডলার পর্যন্ত বেড়ে টনপ্রতি মূল্য নির্ধারণ হয়েছে ৪ হাজার ২৮৬ ডলারে। এ বিষয়ে ভিয়েতনামের মার্কেন্টাইল এক্সচেঞ্জ চলতি সপ্তাহের শুরুতে জানিয়েছে, ‌ইউরোপের আমদানিকারকরা ভিয়েতনামের কফি সরবরাহের অভাবের বিষয়ে অবগত আছেন। তাই নতুন ফসল না পাওয়া পর্যন্ত রফতানি কার্যক্রম নিম্নমুখী ধারায় চলবে।

ইন্দোনেশিয়ায়ও চলতি সপ্তাহে কফির দাম কমেছে। সরবরাহ বেশি থাকায় দেশটিতে পণ্যটির দাম কমেছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। সেপ্টেম্বরের সরবরাহ চুক্তিতে ইন্দোনেশিয়ায় চলতি সপ্তাহে সুমাত্রা রোবাস্তা কফি বিনের দাম ছিল টনপ্রতি ৩২০ ডলার। 

অন্যদিকে ভিয়েতনামে জানুয়ারি-জুলাই পর্যন্ত কফি রফতানি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১২ দশমিক ৪ শতাংশ কমেছে। এ সময় দেশটির মোট রফতানি পৌঁছেছে ৯ লাখ ৭৯ হাজার ২৫৩ টনে। শুক্রবার দেশটির শুল্ক বিভাগ এ তথ্য জানিয়েছে। তবে জুলাইয়ে দেশটির কফি রফতানি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৯ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়েছে। এ সময় দেশটির মোট রফতানি পৌঁছেছে ৭৬ হাজার ৯৮২ টনে।