চলতি বছর ইন্দোশিয়ায় পাম অয়েল উৎপাদন ৫ শতাংশ বাড়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। দেশটির পাম অয়েল অ্যাসোসিয়েশন (জিএপিকেআই) এ তথ্য জানায়। বছর শেষে পণ্যটির মজুদ দাঁড়াতে পারে ৩২ লাখ টনে।

ইন্দোনেশিয়া বিশ্বের শীর্ষ পাম অয়েল উৎপাদক। জিএপিকেআইয়ের প্রাক্কলন অনুযায়ী, ২০২৩ সালে দেশটিতে ৪ কোটি ৯০ লাখ টন পাম অয়েল উৎপাদন হতে পারে। পাশাপাশি ৪৭ লাখ টন পাম কার্নেল অয়েল উৎপাদনেরও প্রত্যাশা করছে দেশটি। 

জিএপিকেআইয়ের সেক্রেটারি জেনারেল এম হাদি সুগেং বলেন, ‘‌এল নিনো আবহাওয়া পরিস্থিতির কারণে চলতি বছর পাম অয়েল সংগ্রহ বিলম্বিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এর পরও উৎপাদন নিয়ে আমরা আশাবাদী।’

স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারে ভোজ্যতেল ও ফ্যাটের ঊর্ধ্বমুখী চাহিদা ইন্দোশিয়ার পাম অয়েল বাণিজ্যকে আরো গতিশীল করছে। কৃষিপণ্যের উৎপাদন বাড়াতে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশটির সরকার নানা পদক্ষেপ নিয়েছে। বিষয়টি পাম অয়েল উৎপাদন প্রবৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

সরকার পাম অয়েল উৎপাদনকে উৎসাহিত করতে ট্যাক্স প্রণোদনা ও ভর্তুকি দিচ্ছে। এছাড়া আধুনিক চাষ পদ্ধতি ও প্রযুক্তির ব্যবহারে ধারাবাহিক উৎকর্ষ উৎপাদনে সম্প্রসারণ ঘটাচ্ছে। ফলে কৃষকদের কাছে দিন দিন আরো লাভজনক হয়ে উঠছে এটির আবাদ। পাশাপাশি রফতানির সুযোগও সম্প্রসারণ হচ্ছে।

বাজার গবেষণাপ্রতিষ্ঠান আইএমআরসি গ্রুপ জানায়, ২০২২ সালে ইন্দোনেশিয়ায় পাম অয়েল বাজারের আকার ছিল ১ হাজার ১২ কোটি ডলার। ২০২৮ সালের মধ্যে এটি ১ হাজার ২৮৪ কোটি ডলারে উন্নীত হতে পারে। ২০২৩-২৮ পর্যন্ত বাজার প্রবৃদ্ধির হার দাঁড়াতে পারে ৩ দশমিক ৮০ শতাংশে।

ইন্দোনেশিয়া বিশ্বের শীর্ষ পাম অয়েল উৎপাদক ও রফতানিকারক। দেশটি চীনের বাজারে সবচেয়ে বেশি পাম অয়েল রফতানি করে। কভিড-১৯ মহামারীর কারণে দেশটির রফতানি কিছুটা কমে গিয়েছিল। বর্তমানে রফতানি ঘুরে দাঁড়াচ্ছে। আগামী বছর চীন ইন্দোনেশিয়া থেকে ৮০ লাখ টন পাম অয়েল আমদানি করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

২০২৩-২৪ মৌসুমে বিশ্বজুড়ে পাম অয়েল উৎপাদন বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। বাজার গবেষণাপ্রতিষ্ঠান ফিচ সলিউশনের বিএমআই ইউনিট সম্প্রতি এ সম্ভাবনার কথা জানায়। তবে এল নিনো আবহাওয়া পরিস্থিতির কারণে উৎপাদন নিয়ে কিছুটা শঙ্কাও রয়েছে।

আগামী নভেম্বরে পাম অয়েলের ২০২৩-২৪ উৎপাদন মৌসুম শুরু হয়ে শেষ হবে আগামী বছরের অক্টোবরে। এ সময় পাম অয়েলের বৈশ্বিক উৎপাদন চলতি বছরের তুলনায় ৩ দশমিক ৬ শতাংশ বাড়তে পারে। উৎপাদনের পরিমাণ দাঁড়াবে আট কোটি টনে।

অন্যদিকে, মার্কিন কৃষি বিভাগের (ইউএসডিএ) পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী মৌসুমে পাম অয়েলের বৈশ্বিক উৎপাদন ২ দশমিক ৪ শতাংশ বাড়তে পারে। উৎপাদনের পরিমাণ দাঁড়াবে ৭ কোটি ৯৪ লাখ ৬০ হাজার টনে। চলতি বছর উৎপাদনের পরিমাণ দাঁড়াতে পারে ৭ কোটি ৭৫ লাখ ৮০ হাজার টনে।

বিএমআই জানায়, ২০২৩-২৪ মৌসুমে পাম অয়েলের বৈশ্বিক ব্যবহার ৩ দশমিক ৭ শতাংশ বাড়তে পারে। ব্যবহারের পরিমাণ দাঁড়াবে ৭ কোটি ৮৯ লাখ টনে। ইউএসডিএ জানায়, ব্যবহারের পরিমাণ দাঁড়াবে ৭ কোটি ৭৫ লাখ ১০ হাজার টনে, চলতি মৌসুমে যা ৭ কোটি ৪৭ লাখ ৩০ হাজার টনে পৌঁছতে পারে।