অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম গতকালও ছিল ঊর্ধ্বমুখী। ফলে ফিউচার মার্কেটে টানা দ্বিতীয় সপ্তাহের মতো পণ্যটির বাজার ঊর্ধ্বমুখিতয় শেষ হয়েছে। ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যকার সংঘর্ষ বিশ্বের শীর্ষ জ্বালানি তেল উত্তোলনকারী অঞ্চল মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশে ছড়িয়ে পড়লে বৈশ্বিক সরবরাহে সংকট দেখা দিতে পারে। বাজারে এমন আশঙ্কা বিরাজ করায় জ্বালানিটির দাম বাড়তির দিকে।
আইসিই ফিউচার্সে শুক্রবার অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের আন্তর্জাতিক বাজার আদর্শ ব্রেন্টের দাম ব্যারেলপ্রতি ৭৫ সেন্ট বেড়েছে। ব্যারেলপ্রতি মূল্য উঠেছে ৯৩ ডলার ১৩ সেন্টে। আর নিউইয়র্ক মার্কেন্টাইল এক্সচেঞ্জে (নিমেক্স) মার্কিন বাজার আদর্শ ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) নভেম্বরে সরবরাহ চুক্তিতে দাম বেড়েছে ১ দশমিক ৪ শতাংশ বা ব্যারেলে ১ ডলার ২৩ সেন্ট। ব্যারেলপ্রতি মূল্য দাঁড়িয়েছে ৯০ ডলার ৬৬ সেন্টে।
ডিসেম্বরে সরবরাহ চুক্তিতে ডব্লিউটিআইর দাম প্রতি ব্যারেলে ১ দশমিক ৬ শতাংশ বা ১ ডলার ৩৯ সেন্ট বেড়েছে। ব্যারেলপ্রতি দাম হয়েছে ৮৯ ডলার ৭৬ সেন্টে। এ প্রতিবেদন লেখার সময় পর্যন্ত পাওয়া সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, দাম ৩ দশমিক ৩ শতাংশ বৃদ্ধির দিকে এগিয়ে যাচ্ছিল ডব্লিউটিআইর বাজারদর।
ডিসেম্বরে সরবরাহ চুক্তিতে ব্রেন্টের দামও বেড়েছে ১ দশমিক ৪ শতাংশ বা ১ ডলার ২৫ সেন্ট। ব্যারেলপ্রতি বাজার আদর্শটির মূল্য দাঁড়িয়েছে ৯৩ ডলার ৬৩ সেন্টে। নভেম্বর ও ডিসেম্বর উভয় মাসের জন্য সরবরাহ চুক্তিতে দাম টানা দুই সপ্তাহ ধরে ঊর্ধ্বমুখিতায় পার করেছে। বিশেষ করে ইসরায়েলের স্থল অভিযানের ঘোষণা ও গাজায় হাসপাতালে বোমা হামলার ঘটনা বাজারে অস্থিরতা ছড়িয়েছে। কেননা এ ঘটনায় সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যের বৃহৎ অঞ্চলে ছড়ানোর আশঙ্কা বাড়িয়েছে।
সংবাদ ও ব্যবসা ধারণা নিয়ে কাজ করা প্রতিষ্ঠান আইজির বিশ্লেষক টনি সাইকামোর বলেন, ‘এ সপ্তাহে গাজায় ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রবেশ নিয়ে উত্তেজনা বৃদ্ধির আশঙ্কা দেখতে পাচ্ছি। এর অর্থ হচ্ছে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম আরো বাড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।’
ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্ট বৃহস্পতিবার গাজা সীমান্তে জড়ো হওয়া সৈন্যদের বলেছেন, তারা শিগগিরই ফিলিস্তিনি ছিটমহলটিকে ভেতর থেকে দেখবেন। তার এ বক্তব্য অল্প সময়ের মধ্যেই স্থল আক্রমণের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
এদিকে সংঘাতের বিস্তৃতি নিয়ে উদ্বোগ প্রকাশ করে পেন্টাগন বলছে, ইয়েমেন থেকে ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে ছোড়া মিসাইল ধ্বংস করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের শীর্ষ রফতানিকারক সৌদি আরব ও রাশিয়া চলতি বছরের শেষ পর্যন্ত উত্তোলন কমিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত অব্যাহত রেখেছে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রেও জ্বালানি তেলের মজুদ নিম্নমুখী। এসব কারণেও চলতি চতুর্থ প্রান্তিকে পণ্যটির দাম বাড়ার পূর্বাভাস ছিল।
যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অব এনার্জি সম্প্রতি জানিয়েছে, ওয়াশিংটন অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের জরুরি মজুদ পুনরায় পূরণ করার পরিকল্পনা নিয়েছে। তাই ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতে কৌশলগত পেট্রোলিয়াম রিজার্ভে সরবরাহ বাড়াতে ৬০ লাখ ব্যারেল জ্বালানি তেল কিনতে চাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।
এদিকে ওপেক প্লাস সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র এককভাবে ওপেক সদস্য ভেনিজুয়েলার ওপর থেকে জ্বালানি তেল রফতানি নিষেধাজ্ঞা শিথিল করেছে। এজন্য ওপেক প্লাসের এখনই পৃথক কোনো নীতি নেয়ার প্রয়োজন নেই। কারণ আগামীতে উত্তোলনের পরিমাণ ধীরে ধীরে বাড়বে।
তবে ভেনিজুয়েলার উত্তোলন আগামীতে বৈশ্বিক জ্বালানি তেলের বাজারে ভারসাম্য রক্ষায় তেমন কোনো উল্লেখযোগ্য ফ্যাক্টর হবে না বলে মনে করেন তেল ব্রোকার পিভিএমের তামাস ভার্গ।










