দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দর দিয়ে পেঁয়াজ আমদানি অব্যাহত থাকলেও ক্রেতা সংকটে বিপাকে পড়েছেন আমদানিকারকরা। চুক্তিবদ্ধ পেঁয়াজ না দেয়ায় এবং মান খারাপ হয়ে যাওয়ায় পণ্য কিনতে চাচ্ছেন না পাইকাররা। এছাড়া নতুন করে পেঁয়াজের শুল্কহার বাড়ায় পণ্যটি আমদানি করে লোকসানে পড়েছেন আমদানিকারকরা।
হিলি স্থলবন্দরের পেঁয়াজ ব্যবসায়ী সেলিম হোসেন বলেন, মেহেরপুর, পাবনা অঞ্চলের মুড়িকাটা পেঁয়াজ বাজারে উঠেছে। ফলে বাজারে এখন দেশী পেঁয়াজের পর্যাপ্ত সরবরাহ রয়েছে। একই সঙ্গে মিয়ানমার থেকেও পেঁয়াজ আসার ফলে চাহিদা কমেছে ভারতীয় পেঁয়াজের। তার ওপর যেসব পেঁয়াজ আমদানি করা হচ্ছে, সেগুলোয় চারা গজিয়েছে। এ কারণে পাইকাররা এসব পেঁয়াজ কিনতে চাচ্ছেন না।
হিলি স্থলবন্দরের পেঁয়াজব্যবসায়ী আশরাফুল ইসলাম বলেন, বর্তমানে বন্দর দিয়ে যেসব পেঁয়াজ আমদানি হচ্ছে, অতিরিক্ত শীতের কারণে সেগুলোয় চারা গজিয়ে যাচ্ছে। ফলে তুলনামূলক কম দামেও এসব পেঁয়াজ বিক্রি করা যাচ্ছে না। এতে ব্যবসায়ী ও আমদানিকারক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
ব্যবসায়ী সাদ্দাম হোসেন বলেন, আমরা ব্যবসায়ীরা বর্তমানে পেঁয়াজ আমদানি করে ক্ষতির মুখে পড়েছি। একে তো পেঁয়াজ কাঁচা, তার ওপর পেঁয়াজে গাছ বের হচ্ছে। এর মধ্যেই ১ জানুয়ারি থেকে পেঁয়াজের আমদানি শুল্ক ৫ থেকে বেড়ে ১০ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। এসব কারণে পণ্যটি আমদানি করে মুনাফা আসছে না। বর্তমানে বন্দরে ইন্দোর জাতের পুরনো পেঁয়াজ ১৮-২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এ জাতের নতুন ছোট পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ২৫-২৬ টাকা কেজি দরে।
হিলি স্থলবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা সোহরাব হোসেন বলেন, হিলি স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি অব্যাহত রয়েছে। তবে আগের তুলনায় আমদানির পরিমাণ কিছুটা কমেছে। কিছুদিন আগেও যেখানে বন্দর দিয়ে গড়ে প্রতিদিন ২৫-৩০ ট্রাক পেঁয়াজ আমদানি হতো, এখন সেখানে আমদানি হচ্ছে ১৫-২০ ট্রাক। কোনোদিন আবারো ১০ ট্রাকেও নেমে আসছে। গত মঙ্গলবার বন্দর দিয়ে ১৬টি ট্রাকে ৪৪২ টন পেঁয়াজ আমদানি হয়েছে। গতকালও বন্দর দিয়ে পেঁয়াজ আমদানি অব্যাহত ছিল।
প্রসঙ্গত, দেশীয় কৃষকের উৎপাদিত পেঁয়াজের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত ও পেঁয়াজ চাষে উৎসাহিত করতে গত ২০ ডিসেম্বর থেকে পেঁয়াজ আমদানির অনুমতিপত্র (আইপি) প্রদান স্থগিত রেখেছে সরকার। তবে আগের অনুমতিপত্রের মাধ্যমে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে পেঁয়াজ আমদানি অব্যাহত রয়েছে।










