এশিয়ার দেশগুলোয় সেপ্টেম্বরেও অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি কমেছে। জ্বালানিটির শীর্ষ ব্যবহারকারী অঞ্চলটিতে এ নিয়ে টানা দ্বিতীয় মাসের মতো আমদানি কমল। লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জ গ্রুপ (এলএসইজি) সম্প্রতি এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে। 

এতে বলা হয়, সেপ্টেম্বরে এশিয়ার দেশগুলো দৈনিক ২ কোটি ৪৯ লাখ ৫০ হাজার ব্যারেল করে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি করে, আগের মাসে যা ছিল দৈনিক ২ কোটি ৫২ লাখ ২০ হাজার ব্যারেল। সে হিসেবে এক মাসের ব্যবধানে আমদানি কমেছে দৈনিক ২ লাখ ৭০ হাজার ব্যারেল করে।  

লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জ গ্রুপের দেয়া তথ্য বলছে, এশিয়ার জ্বালানি তেল পরিশোধন কেন্দ্রগুলো গত মাসে পুরোদমে রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম চালিয়েছে। ফলে এসব কেন্দ্রে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের চাহিদা আগের মাসের চেয়ে তুলনা মূলক কমে যায়। আগস্টে এ রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে, যা চলতি মাসেও অব্যাহত থাকবে। ফলে এ সময়ও আমদানি নিম্নমুখী থাকতে পারে বলে মনে করেন খাতসংশ্লিষ্টরা।

চলতি মাসে যেসব পরিশোধন কেন্দ্র রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম চালাবে তার মধ্যে ভারতের জামনগরে রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের দৈনিক ১২ লাখ ৪০ হাজার ব্যারেল সক্ষমতার কমপ্লেক্স শোধনাগার রয়েছে। এছাড়া ভিয়েতনামের নিগি সন প্লান্ট, দক্ষিণ কোরিয়ার এসকে এনার্জির উলসান শোধনাগার ও তাইওয়ানের সিপিসি শোধনাগার অক্টোবরে রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম চালানোর অপেক্ষায় রয়েছে।

পরিশোধনকারীরা বছরের নির্ধারিত সময়ে প্লান্ট পরিষ্কার করার আগে মজুদ কমাতে জ্বালানি তেলের ব্যবহার হার বাড়িয়ে দেন। পরবর্তী সময়ে পরিষ্কার কার্যক্রম চলাকালীন আমদানি কমিয়ে আনেন।

এদিকে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধিও আমদানিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। সেপ্টেম্বরে আমদানি কমার অন্যতম বড় কারণ এটি। জুলাই থেকে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল উত্তোলনকারী দেশগুলোর জোট ওপেক সরবরাহ কমানোর সিদ্ধান্ত নেয়। ওপেক প্লাস জোটের সদস্য সৌদি আরব স্বেচ্ছায় অতিরিক্ত দৈনিক ১০ লাখ ব্যারেল উত্তোলন কমানোয় বাজারে সরবরাহ ঘাটতি বেড়ে যায়। এতে ঊর্ধ্বমুখী হয়ে ওঠে জ্বালানিটির দাম। গত ২৮ জুন ফিউচার মার্কেটে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের আন্তর্জাতিক বাজার আদর্শ ব্রেন্টের দাম চলতি বছরের সর্বনিম্ন ব্যারেলপ্রতি ৭১ ডলার ৫৭ সেন্টে লেনদেন হয়েছে। ২৮ সেপ্টেম্বর ৩৬ দশমিক ৫ শতাংশ দাম বেড়ে প্রতি ব্যারেলে ৯৭ ডলার ৬৯ সেন্ট স্পর্শ করে।

অন্যদিকে, ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক উচ্চ সুদহার নীতি সেপ্টেম্বরেও অপরিবর্তিত রাখায় ডলার আরো শক্তিশালী হয়ে ওঠে। ফলে ভিন্ন মুদ্রার গ্রাহকদের ডলারে আমদানি খরচ বেড়ে যায়। এতে আমদানি কমিয়ে অতিরিক্ত ব্যয়ের চাপ কমান ক্রেতারা।

এলএসইজি বলছে, সেপ্টম্বরে জ্বালানি তেলের এশীয় চাহিদা কমার বড় কারণ পণ্যটির মূল্যবৃদ্ধি। সেপ্টেম্বরে আসা কর্গোগুলো জুলাইয়ে পাঠানো হয়েছে। আর ঠিক জুলাই থেকেই সরবরাহ ঘাটতির অজুহাতে জ্বালানিটির দাম লাফিয়ে বাড়তে থাকে।

দাম বাড়ার ফলে চতুর্থ প্রান্তিকে পণ্যটির বিশ্বব্যাপী আমদানি কমে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার ফলে খুচরা পর্যায়ে ডিজেল, পেট্রলের দামও বেড়ে যাবে। এতে পরিশোধনকারীদের মুনাফা মার্জিন বাড়লেও ব্যবহার কমাবেন ক্রেতারা। ফলে চাহিদা কমে এলে আমদানি হারেও মন্থরতা আসবে পারে বলে মনে করছে এলএসইজি।